জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী এবং সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় রায় দেয়াকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সহিংসতায় গতকাল রবিবার পর্যন্ত ১০২ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ৬ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দেয়া ট্রাইব্যুনালের রায়কে কেন্দ্র করে ব্লগার এন্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের ডাকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগে তরুণ প্রজন্ম গণজমায়েত করে। এই গণজমায়েতে কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের দাবি তোলা হয়।
জামায়াত-শিবির প্রজন্মের গণজমায়েতের দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা চালানোর চেষ্টা করে। চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়। শাহবাগ প্রজন্মের আহ্বানে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির দাবিতে নীরবতা কর্মসূচি পালনকালে জামায়াত-শিবিরের হামলায় অগ্রণী ব্যাংক কর্মচারী জাফর মুনশি মারা যান। ১৪ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হয়েছে পুলিশসহ অর্ধশতাধিক। এ ঘটনার পর প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। পরে শনিবার সকাল থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের শুরুর দিন সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। নিহত তিনজন হলেন কক্সবাজার শহরের গোদারপাড়া এলাকার কলিম উল্লাহর ছেলে তোফায়েল উদ্দিন (১৯), কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের নুরুল আলমের ছেলে নুরুল হক (৩২) ও চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ফারুক (৩৮)।
১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ব্লগার রাজীবকে হত্যা করে দুর্বৃৃত্তরা। এ হত্যাকাণ্ড জামায়াত-শিবির ঘটিয়েছে দাবি করে প্রজন্মের গণজমায়েত তাদের অসহিংস আন্দোলন আরো জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২২ ফেব্রুয়ারি জামায়াত-শিবিরসহ ইসলামী ও সমমনা বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসির দাবিতে বায়তুল মোকাররম মসজিদে বিক্ষোভ করে। এই বিক্ষোভের পর রাজধানী জুড়ে সহিংসতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এরপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীর রায় ঘোষণা করা হলে দেশ জুড়ে বড় ধরনের সহিংসতার সৃষ্টি হয়। এদিনে সারা দেশে সহিংসতায় ৩৯ জন মারা যান। এরপর ১ মার্চ সহিংসতায় আরো ৭ জন মারা যান। ২ মার্চ সহিংসতায় মারা যান আরো ৬ জন। সর্বশেষ গতকাল সারা দেশে সহিংসতায় আরো ২৪ জন মারা যান এবং গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বগুড়ায় ১২, জয়পুরহাটের দুই উপজেলায় ৬, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ২, সাতক্ষীরায় ১, গাজীপুরের শ্রীপুরে ১, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে।
