সংসদে আবারো জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৩, ২২:৩০
তিনদিনের হরতাল নিয়ে গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের সহিংস তাণ্ডবের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। মহাজোটের ছয়জন সংসদ সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। তারা বলেন, আদালতের নির্দেশের দিকে তাকিয়ে না থেকে সরকারের নির্বাহী আদেশে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হোক। গতকাল বিকালে স্পিকার মো. আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেটের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে মহাজোটের সিনিয়র সদস্যরা পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর দাবি করেন। স্পিকার বলেন, আইন প্রণয়ন কাজ শেষ হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডার দেয়া হবে। প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থায়ী অনির্ধারিত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য তোফায়েল আহমদ, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবদুল মান্নান, জাসদের মইনউদ্দিন খান বাদল। আলোচনা চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সংসদে উপস্থিত ছিলেন। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন প্রথমেই পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন। তোফায়েল আহমদ বলেন, যে দিনে ইয়াহিয়া খান বাংলাদেশে গণহত্যার প্রথম বীজ বুনেছিল সেই ১ মার্চে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করলেন। ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিনি দেখা করতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়ে জামায়াত-শিবিরের হরতালকে সমর্থন দিলেন। একাত্তরের ৩ মার্চ বাঙালিরা জেগে উঠেছিলো। আর সেদিনে হরতাল দিয়ে খালেদা জিয়া আবার পাকিস্তানকে সমর্থন দিলেন। তোফায়েল আহমদ বলেন, একাত্তরে যারা এই দেশকে রক্তাক্ত করে লুটপাট করেছিলো, মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছে, তাদের বাঁচাতে তিনি (খালেদা জিয়া) দেশে অরাজকতা শুরু করেছেন। সারাদেশে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা, ভাংচুর করা হচ্ছে, নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে। ইচ্ছে করলেই আওয়ামী লীগ প্রতিশোধ নিতে পারে। রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা একটি দলের পক্ষে প্রতিশোধ নেয়া অসম্ভব কিছু নয়, কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রতিশোধপরায়ণ নয়। তোফায়েল আহমদ বলেন, শাহবাগের তরুণ প্রজন্ম যারা স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে চায় খালেদা জিয়া তাদেরকে বলেন ফ্যাসিবাদী। তার এই কথায় দেশের জনগণের সামনে নিজের আসল চেহারা উন্মোচিত হয়েছে। তিনি গণহত্যার অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু খালেদা জিয়া তো গণহত্যা দেখেনইনি। গণহত্যা হয়েছিল একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে। ওইদিন পাক হানাদাররা রাজারবাগ পুলিশ লাইন টার্গেট করেছিলো। আজও জামায়াত-শিবির সেই পুলিশকেই হত্যা করছে। অথচ খালেদা জিয়া এই হত্যার কোন নিন্দা জানাননি। শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, খালেদা জিয়া জামায়াতের আমিরের শূন্য পদে আসীন হয়ে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন ওই দিনের সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণার মাধ্যমে। বিএনপি-জামায়াত যে গৃহযুদ্ধের কথা বলছে, সেটা আমলে নিয়ে আমরা যদি পাল্টা হামলা চালাই তাহলে পরিস্থিতি কেমন হবে। আমরা এমনটি করার মতো রাজনীতি করি না। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের জন্য আদালতের দিকে তাকিয়ে না থেকে সরকারের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিক নিষিদ্ধ করা যায়। এর আগে আলোচনার সূত্রপাত করে রাশেদ খান মেনন বলেন, একাত্তরের গণহত্যাকে আড়াল করার জন্য খালেদা জিয়া সরকারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ করেছেন। কারণ তিনি একাত্তরে চট্টগ্রামে শুরু হওয়া গণহত্যা দেখেননি। মেনন বলেন, খালেদা জিয়া সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে তার দল এবং তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। ট্রাইব্যুনালের সাঈদীর রায়কে শাহবাগের তরুণদের দ্বারা প্রভাবিত করার যে অভিযোগ করেছেন তা ঠিক নয়। কারণ ২০টি অভিযোগের মধ্যে আটটি প্রমাণিত হয়েছে। তার মধ্যে দু’টি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। দেশে জামায়াত-শিবির মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নেতা-কর্মী, আওয়ামী লীগ অফিস ও এমপি, মন্ত্রীদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে এবং বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করছে। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে একের পর এক হরতাল দিচ্ছে।