ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি গতকালের রাজধানী ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে এক রিপোর্টে বলেছে, রাস্তার লোকজন জামায়াতে ইসলামের ভয়ে ভীত। সন্ধ্যায় পরিস্থিতি আরো বেশি খারাপ হয়ে যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত রাস্তায় থাকা অনেক বিপদজনক। বিবিসির খবরে আরো বলা হয়, যুদ্ধাপরাধের রায়ের পর পরিস্থিতি এমন হবে তা অনেকেই আগে আঁঁচ করতে পারেননি। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন। হঠাত্ কোথায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়বে তা তারা বুঝে উঠতে পারছেন না। হরতাল শুরু হবার পর রাস্তাঘাট খালি হয়ে যেতে দেখা যায়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। আতংকে অনেকে ঘর থেকে বের হননি। বিবিসি তাদের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগে গতকাল বাংলাদেশ নিয়ে প্রধান খবর ছেপেছে। তাদের প্রতিবেদনে দেশজুড়ে সংঘর্ষের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ জানিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানোর যে আহবান জানিয়েছে তাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
এদিকে, বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, বৃহস্পতিবার দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির রায় দেয়ার পর সারাদেশে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে অন্তত: ৬০ জন নিহত হয়। জামায়াত এ ট্রইব্যুনালকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে অভিযোগ করলেও সরকারের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াত দেশব্যাপী টানা ৪৮ ঘন্টার হরতাল ডেকেছে। হরতালের শুরুতে বগুড়ায় জামায়াতের হাজার হাজার নেতাকর্মী থানার ওপর আক্রমণ করলে সেখানে সেনা মোতায়েন করা হয়। এদিন সারাদেশে পুলিশ এবং বিজিবির সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছে বলে বিবিসির রিপোর্টে বলা হয়।
