বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেছেন, দেশের চলমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। গতকাল রবিবার বিবিসি বাংলায় প্রচারিত বাংলাদেশ সংলাপে তিনি আরো বলেন, যদি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে সামরিক হস্তক্ষেপের আশংকা নাকচ করে দেয়া যায় না।
অনুষ্ঠানের অন্য আলোচকগণ সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, সামরিক হস্তক্ষেপের কোন সম্ভাবনাই নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের আইনশৃঙ্খলা এবং সার্বিক পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা থাকে না। বর্তমান পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আমীন আহম্মদ চৌধুরী বলেন, আমার মনে হয় না এটা সামরিক শাসনের দিকে যাচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করেছ রাজনীতিবিদদের উপর। ওয়ান-ইলেভেনের প্রেক্ষাপট আর এখনকার প্রেক্ষাপট এক নয়। তখন ছিল বিএনপি আর আওয়ামী লীগ দুটি পক্ষ আর এখন হচ্ছে যুদ্ধাপরাধী বনাম দেশের মানুষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, আমরা যদি শাহবাগের দিকে তাকাই তাহলে দেখব সেখানে উত্তাল তরুণরা যেভাবে প্রতিবাদ করছে তার সামনে সামরিক শাসন দাঁড়াতে পারবে না। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের বাড়ি ও উপাসনালয়ে হামলা করে এবং সহিংসতা সৃষ্টি করে যুদ্ধাপরাধের বিচারের ইস্যুটিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাবার চেষ্টা হচ্ছে। এজন্য তিনি জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকাকে দায়ী করেন।
বর্তমান আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে মোশাহিদা সুলতানা বলেন, পুলিশের উপর আক্রমণ হচ্ছে। এর আগে সহিংসতাকে পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করতে চেয়েছিল।
আমীন আহম্মদ চৌধুরী মনে করেন, পুলিশ যেভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে এছাড়া আর কোন উপায় নেই।
আমির হোসেন আমু অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী সহিংসতা করে জনগণের সম্পদ নষ্ট করছে এবং পুলিশকে আক্রমণ করছে।
রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, পুলিশ নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে। এটা কোন অবস্থাতে কোন সভ্য সমাজে কাম্য হতে পারে না। পুলিশের উপর আক্রমণকেও আমি নিন্দা জানাই।
