দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে তবলা-ডুগি আর ঢোল-খোল তৈরি ও বিক্রি করে সংসার চালান নেগেন বাবু। এখন বাদ্যযন্ত্র তৈরির উপকরণের মূল্য বেড়েছে কয়েকগুণ, সে অনুযায়ী বাড়েনি বিক্রয় মূল্য । এখন আর আগের মতো দিন চলে না তার। তবলা ও ঢোল-খোল তৈরির সুদক্ষ এই কারিগরের বাড়ি উপজেলার মাদারগঞ্জে।
নেগেন বাবুর যখন স্কুলে যাবার কথা। তখন বাবার সংসারে অভাবের কারণে তাকে করতে হয়েছে দিনমজুরির কাজ। তাতেও অভাব মেটেনি। বাবার এবং সংসারের কথা ভেবে রোজগার বাড়াতে সে বাড়ি থেকে চলে যায় মানিকগঞ্জে । সেখানকার মহাদেবপুর গ্রামের ননী গোপাল বাবুর দোকানে সামান্য টাকা আর পেটে-ভাতে কাজ করেন তবলা-ডুগি বানানোর। মাত্র ৬ মাসে তবলা-ডুগি আর ঢোল-খোল বানানোর কাজ শিখে ফেলেন নেগেন। এরপর পিতৃতুল্য ননী গোপাল বাবু তাকে বাড়িতে গিয়ে এই কাজ করার পরামর্শ দেন। ১৯৯২ সালের কথা । বাড়ি ফিরে ওস্তাদের পরামর্শ মোতাবেক নিজের যে সামান্য টাকা ছিল তা দিয়েই তবলা-ডুগি আর ঢোল-খোলের দোকান দেন নেগেন। অল্পদিনে তার হাতের তৈরি তবলা ডুগির কদর বেড়ে যায়। সুনাম ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। দিনে দিনে সংসারের অভাব অনটন কমতে থাকে। এভাবেই কেটে গেছে ২০ বছর। বর্তমানে বৃদ্ধ পিতা-মাতা, স্ত্রী আর সন্তানদের নিয়ে ৬ সদস্যের সংসার তার । এখনও তবলা-ডুগি আর ঢোল-খোল তৈরি ও বিক্রি করেই সংসার চলে তার। নেগেন চন্দ্র জানান, আমাদের এলাকায় এসব কাজের পৃষ্ঠপোষকতার খুব অভাব। তাছাড়া হাতের এই কাজ আমাদের এলাকায় কেউ শিখতেও চায় না। ঢোল-খোলের ব্যবসায় টাকা লাগে প্রচুর। টাকা পেলে তিনি ওই কাজ আরও বেশি করতে পারতেন কিন্তু তার টাকা নেই । যা আয় হয়,তা দিয়ে কোন রকমে চলে যায়। ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলেও জমি লাগে।
পীরগঞ্জ উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলাসমূহের বিভিন্ন স্থানে ভালোই বিক্রি হতো কিন্তু অর্থের অভাবে এখন আর আগের মতো যোগান বা সরবরাহ দিতে পারেন না। কারণ বর্তমানে তবলা-ডুগি আর ঢোল-খোল তৈরির উপকরণের মূল্য বেড়েছে কয়েকগুণ। সে অনুযায়ী বাড়েনি বিক্রয় মূল্য।
