গারো পাহাড়ের পাদদেশে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র বিধৌত জেলা জামালপুরে রয়েছে পর্যটন শিল্প বিকাশের অমিত সম্ভাবনা। বর্তমানে এই জেলায় রয়েছে একটিমাত্র পর্যটন কেন্দ্র, নাম-ক্ষণিকা পিকনিক স্পট। এটি অবস্থিত জেলার বকশিগঞ্জ উপজেলার লাউচাপড়া এলাকায়। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই অঞ্চলটির উত্তরে রয়েছে গারো পাহাড়। রকমারি বৃক্ষরাজি ঘেরা এই গারো পাহাড়ে গেলে শুনতে পাবেন হাজারো পাখির কলতান, ঝরনার রিমঝিম শব্দ। পাহাড় থেকে দেখা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য। সীমানার ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের অসংখ্য পাহাড়ও দেখতে পাবেন গারো পাহাড়ের চূড়া থেকে। ১৯৯৬ সালে সরকারি উদ্যোগে লাউচামড়া গ্রামে ১০ একর ৬৭ শতক জমিতে গড়ে তোলা হয় জেলার একমাত্র পর্যটন কেন্দ্র ক্ষণিকা পিকনিক স্পট। এখানে নির্মাণ করা হয় ৪টি আধুনিক ডাক বাংলো, ৬০ ফুট উঁচু পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, টুরিস্ট কমপ্লেক্সসহ নানা স্থাপনা। সারা বছর, বিশেষ করে শীত মৌসুমে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটে এই পর্যটন কেন্দ্রটিতে। সৃষ্টি হয় এক উত্সবমুখর পরিবেশের। বর্তমানে ক্ষণিকা পিকনিক স্পটটি জামালপুর জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
বিশাল বন: ক্ষণিকা পিকনিক স্পট ঘেঁষে থাকা গারো পাহাড়ে রয়েছে বন বিভাগের ২৬ একর বনভূমি। সেখানে রয়েছে আকাশমনি, বেলজিয়াম ইউক্যালিপটাস, উডলট কড়ইবৃক্ষ, জারুল, মিনঝুরি ছাড়াও চেনা অচেনা নানা জাতের গুল্মলতা আর বাহারি রঙের উদ্ভিদ।
বৈচিত্র্যময় পাহাড়িরা: লাউচাপড়া, সাতানিপাড়া, দিঘলাকোনা, গারোপাড়া, বালিজোড়া, মেঘাদল শোখনাথপাড়া প্রভৃতি গ্রামের গহীন অরণ্যে ও গারো পাহাড়ে খড় অথবা মাটির ঘরে বসবাস করে পাহাড়ি গারোদের বসতি। তাদের বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনযাপন আপনাকে মুগ্ধ করবে।
জীবজন্তু: বনে শিয়াল, বন্য শুকর, এমনকি বন্য হাতিও রয়েছে। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। শোনা যায় অসংখ্য পাখির কলকাকলি।
কিভাবে যাবেন: জামালপুর জেলা শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার এবং বকশীগঞ্জ উপজেলা থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ক্ষণিকা পিকনিক স্পট। রেলযোগে রাজধানী ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর তিস্তা, অগ্নিবীনা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রর ট্রেনে জামালপুর যাওয়া যায়। জামালপুর থেকে সিএনজি বা কারযোগে লাউচাপড়া গ্রামে ক্ষণিকায় যেতে হবে। বাস বা প্রাইভেটকারযোগে রাজধানী ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ ভায়া মুক্তাগাছা হয়ে জামালপুর যেতে পারেন। আবার রাজধানী থেকে ময়মনসিংহ শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ হয়ে শেরপুর জেলা সদর এবং সেখান থেকে শ্রীবরদী ভায়াডাঙ্গা কর্ণঝোরা হয়ে লাউচাপড়ায় যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা হয়ে মধুপুর, ধরবাড়ী হয়েও জামালপুর যাওয়া যায়।
যাতায়াত ভাড়া: জামালপুর থেকে লাউচাপড়ার সিএনজি বেবিট্যাক্সি ভাড়া: ৬০ টাকা + ২০ টাকা, মোট ৮০ টাকা। শেরপুর থেকে সিএনজি বেবিট্যাক্সি ভাড়া: ৫০ টাকা + ২০ টাকা, মোট ৭০ টাকা। ঢাকা থেকে বাস ভাড়া: ৪০০ টাকা +২০ টাকা, সর্বমোট ৪২০ টাকা।
কর্মকর্তাদের কথা: জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা শ্রী মিনাল কান্তি দেব জানান, লাউচাপড়ায় যাবার রাস্তা ভালো না থাকায় পর্যটকদের যাতায়াতে যথেষ্ট ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিদ্যুত্ ও পানি সমস্যার কারণেও পর্যটকদের প্রচুর কষ্ট হয়। তারা সেখানে সহজে রাত্রিযাপন করতে চান না। ফলে রাজস্ব আয় আশানুরূপ হচ্ছে না । এ ব্যাপারে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য জামালপুর ২ আসনের এমপি আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলাল জানান, লাউচাপড়া পর্যটন কেন্দ্র সরকারিভাবে গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে। এটি করা হলে রাজস্ব আয় অনেক বৃদ্ধি পাবে।
