শ্রীলঙ্কার তারকারাই খেলবেন বাংলাদেশের বিপক্ষে

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৩, ২১:৩০
মনে হচ্ছিল, সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের মতো একটা কাণ্ড ঘটতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির একটি শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট খেলতে হবে বলেই মনে হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তা হল না। বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার সম্ভাব্য সেরা ক্রিকেটাররাই মাঠে নামছেন। অবশেষে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের সাথে বোর্ডের সৃষ্ট জটিলতার অবসান ঘটেছে। গত রবিবার মধ্যরাতে প্রধান নির্বাচক ও শ্রীলংকা জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সনথ জয়সুরিয়ার হস্তক্ষেপে জটিলতার সমাধান হয়। আগামী ৮ মার্চ থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে পূর্ণ শক্তি নিয়েই মাঠে নামছে শ্রীলংকা। ইতিমধ্যে ইনজুরিতে থাকা মাহেলা জয়বর্ধনে ছাড়া বাকী সব তারকাকে দলে রেখেই টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করে দিয়েছে নির্বাচক কমিটি। খেলোয়াড়দের সাথে দুই ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চলা বিশেষ আলোচনার পর জয়সুরিয়া বলেন, ‘দেশের স্বার্থের কথা চিন্তা করে খেলোয়াড়রা চুক্তিতে সই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা সই করলেই বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে তাদের বিবেচনা করা হবে। যদিও এখনো খেলোয়াড়রা চুক্তি করেনি, তবে সোমবারের মধ্যে তারা চুক্তি করে ফেলবে’। গতকাল রাতেই শ্রীলঙ্কার তারকা খেলোয়াড়দের চুক্তিতে সই করে ফেলার কথা। অবশ্য ঠিক কিভাবে খেলোয়াড়দের এই চুক্তিতে সই করাতে রাজী করানো হল; সেটা বিস্তারিত বলেননি জয়সুরিয়া। তিনি শুধু বলছেন, জাতীয় স্বার্থের কথা চিন্তা করে খেলোয়াড়রা চুক্তিতে সই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সই করতে রাজী না হওয়ায় শীর্ষ ২৩ ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে জাতীয় দল গঠনের চিন্তা করছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। ক্রিকেটারদের আপত্তির ভিত্তি ছিল। এই চুক্তিতে সই করলে বেশ কিছু প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হবেন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটাররা। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আইসিসির ইভেন্ট থেকে শতকরা ২৫ ভাগ অর্থ প্রাপ্তি বন্ধ হওয়া। নতুন চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বকাপ বা এরকম ইভেন্ট থেকে আর এই অর্থটা পাবেন না ক্রিকেটাররা। একই সঙ্গে আইপিএল খেলা অবস্থায় কেন্দ্রীয় চুক্তির বেতন পাবেন না খেলোয়াড়রা। বছরে একটি সফরে স্ত্রীসহ একটি বিজনেস ক্লাসের টিকিটও এই চুক্তিতে নেই। গত সপ্তাহে ইস্যু করা এই চুক্তিতে সই করার শেষ সময় ছিল ২ মার্চ। বোর্ডের দেয়া নতুন চুক্তিতে কঠিন শর্তগুলোর জন্য খেলোয়াড়রা এতদিন সই করেননি। এসএলসিও খেলোয়াড়দের বাইরে রাখার মত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিল। খেলোয়াড়দের অর্থনৈতিকভাবে এসব বঞ্চনার ব্যাপারটি আসলে বাধ্য হয়েই এসএলসি করছে বলে তারা দাবি করেছে। বোর্ডটি গত কয়েক বছর ধরেই নিদারুণ অর্থ সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক থেকে ধার করে বোর্ডের খরচ চালাচ্ছে তারা। এই সংকটকালে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সুপারিশেই এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসএলসি। বোর্ডটির এক কর্মকর্তা ডেইলি মিরর পত্রিকাকে বলেছেন, ‘আমাদের তো আয় অনুযায়ীই বেতন দিতে হবে। আমরা কম আয় করে বেশি বেতন দেবো কোত্থেকে? আমরা ব্যাংক থেকে ধারের পর ধার চাইতে চাইতে আর ধারও পাচ্ছি না।’ এমনকি এ অবস্থায় সিনিয়র খেলোয়াড়দের বেঁকে বসায়ও এক ধরনের সুবিধা দেখছিল বোর্ড মন্ত্রণালয়, ‘তারা সই করতে না চাইলে না করবে। মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের পরিষ্কার বলা হয়েছে, দরকার হলে ফ্রেশ খেলোয়াড়দের নিয়ে দল করতে। তেমন হলে আমাদের বেতনের খরচও কমবে।’ অবশ্য খেলোয়াড়রা বলছেন, এসএলসির এসব যুক্তি ঠিক না। এসএলসি বরং অপচয় বেশি করে খেলোয়াড়দের বেতনে হাত দিচ্ছে বলে অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খেলোয়াড়ের, ‘এসএলসিতে বেশিরভাগ কর্মকর্তাই অপেশাদার এবং কোনো কাজ করে না। আমরা সারাদিন মাঠে কষ্ট করি; আর এরা কিছু না করে এসি রুমে বসে থেকে বেতন নিয়ে চলে যায়। আজকের দিনে ক্রিকেট খেলাটা স্রেফ মজার একটা ব্যাপার না। অনেক কিছু ত্যাগ করে খেলাটা খেলতে হয়।’ শেষ পর্যন্ত যার কথাই সত্যি হোক। আপাতত সংকটটা মিটেছে বলেই মনে হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় সমাধানটা টেকসই হয় কি না! শ্রীলংকা দল: অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস (অধিনায়ক), দিনেশ চান্দিমাল (সহ-অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), তিলকরত্নে দিলশান, দিমুথ করুনারত্নে, কুমার সাঙ্গাকারা, লাহিরু থিরিমানে, শামিন্দা এরাঙ্গা, কুশল পেরেরা, জীবন মেন্ডিস, কিথুরুয়ান ভিতানেজ, অজন্তা মেন্ডিস, নুয়ান কুলাসেকারা, চানাকা ওয়ালেগেদেরা, সুরাঙ্গা লাকমল, রঙ্গনা হেরাথ ও থারিন্দু কৌশল।