আশির দশকে মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচে ঢাকা স্টেডিয়ামের যে চিত্র দেখা যেত গতকাল নেপালের দশরথ স্টেডিয়াম ছিল ঠিক তাই। স্বাগতিক নেপালের বিরুদ্ধে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের বাছাইয়ে ডি গ্রুপের খেলায় ১৭ হাজার ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়ামে ২৫ হাজারের বেশি দর্শক ঠাসা দশরথে বাংলাদেশ দল অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ২-০ গোলে জিতে স্বপ্ন্ বাঁচিয়ে রাখল। আগের খেলায় ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে মনোবেদনার কারণ শাখাওয়াত হোসেন রনিই হলেন জয়ের নায়ক।
রনি সেদিন বাংলাদেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে গেলেও কাল বিরতির আগে-পরে দুই গোল দিয়ে বাংলাদেশকে জয় এনে দেন। বাংলাদেশের সামনে নেপাল ছিল প্রতিশোধের নেশায়। এই দশরথেই ১৯৯৯ সালে সাফ গেমস ফুটবলের ফাইনালে তাদের হারিয়ে স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ। ভেঙ্গে যাওয়া স্বপ্নের শোধ নিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পোলিশ কোচ জ্যাক স্টিফোয়ানসকিকে নিয়ে এলেও ভাগ্য নেপালের পক্ষে ছিল না। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা নেপালের মাটিতে ২৫ হাজার দর্শকের বৈরিতাকে উপেক্ষা করে নেপালের স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। নিজ মাঠে হারের জ্বালা নিয়ে স্টেডিয়াম ছেড়ে যায় এই দর্শকরা।
খেলার ২৫ মিনিটে লম্বা পাস থেকে বল পান লিংকন। তিনি তা নেপালের গোলমুখে বাড়ালে তকলিস বল নিয়ন্ত্রণে নেয়ার আগেই নেপালের ডিফেন্ডার বিরাজ তাকে গুতো মেরে ফেলে দেন। কাতারের রেফারি ফাহাদ আল জাবের এতে পেনাল্টি দেন। বাংলাদেশ শিবিরে তাকে নিয়ে শংকার মধ্যেও রনি গেলেন শট নিতে। রনি এবার আস্থার প্রতিদান দিলেন পেনাল্টিতে গোল করে ( ১-০)।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে খেলা তাই অন্যরকম আমেজ ছিল নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে। স্টেডিয়ামের ভেতরে-বাইরে প্রচুর দর্শক। ৩০০ রুপির (বাংলাদেশের টাকার সমমানের) গ্যালারি ও ৭০০ রুপির ভিআইপি টিকিটের জন্য ছিল হাহাকার। টান টান উত্তেজনার এ খেলায় নেপালের ফুটবলাররা শুরুতেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের সীমানায়। বাঁশি আর গগণ বিদারি চিত্কারে ঘাবড়ে গিয়ে ভুল করছিলেন মিশু, সোহেল, কোমল, লিংকনরা। ঘাবড়ে গিয়েছিলেন গোলকিপার সোহেলও। তিনিও ভুল পাস দিয়ে দলকে বিপদে ফেলে দিয়েছিলেন। ভাগ্য ভালো যে নেপালের সমতা আনার সুযোগটা নষ্ট হয় স্ট্রাইকার ভরত কাওয়াজের হেড ক্রসবারের উপর দিয়ে বাইরে চলে গেলে।
নেপালি ফুটবলাররা এদিন প্রচুর ফাউল করেন। আঘাত করে মিশুর থুতনি ফাটিয়ে দিলে রক্তাক্ত হন খেলোয়াড়টি। মামুনুল ইসলাম ভালো খেলছিলেন তাকে নিষ্ক্রিয় করতে বারবার আঘাত করা হয়। বাংলাদেশের মাঝমাঠে মিশু ভাল করতে না পারলেও মামুনুল ইসলাম একাই লড়ে গেলেন বিপক্ষের মিডফিল্ডারদের সাথে। সাগর থাপা, জগজিত শ্রেষ্ঠা, রাজু থামাং, ভরত কাওয়াজরা যেন পায়ে পায়ে বল নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলারদের ঘুরাতে লাগলেন। ওদের কোন ভুল পাস ছিল না ওইসময়। বাংলাদেশের ডাচ কোচের নির্দেশ ছিল বল খোয়ালেও সেটা যেভাবেই হোক কেড়ে নিতে হবে। নেপালের বিরুদ্ধে কাজে লেগেছে এ নির্দেশনা। দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টা আক্রমনে তকলিসের দারুণ বল গোলের পথ তৈরি করে দেয়। রনি শুধু নির্ভয়ে প্লেসিং করে নেপালের গোলকিপার কিরন কুমারকে বোকা বানিয়ে দেন (২-০)। তখন খেলার ৫৭ মিনিট। সঙ্গে সঙ্গে নিরব হয়ে যায় স্টেডিয়ামের দর্শকরা । উল্লাস করে উঠে বাংলাদেশ। কাঠমান্ডুতে স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ।
লালকার্ড ঃ আলমগীর রানা (৮৭ মিনিট)।
ফিলিস্তিনের বড় জয়
চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলে গতকালকের প্রথম ম্যাচে ফিলিস্তিন ৯-০ গোলে পরাজিত করে নর্দান মারিয়ানাকে। দুর্বল দলটির বিরুদ্ধে ফিলিস্তিন নিয়মিত একাদশের সাত ফুটবলারকে বাইরে রেখেও বড় ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে। কারণ এই দলের বিরুদ্ধে নেপাল ৬-০ গোলে জিতেছিল। গোল গড়ে এগিয়ে থাকার জন্য গতকাল তারা নর্দান মারিয়ানাকে গোল বন্যায় ভাসায়। নর্দান মারিয়া আগামীকাল বুধবার শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। সেদিন ফিলিস্তিন খেলবে নেপালের বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশ দল
সোহেল, ওয়ালী ফয়সাল, কেষ্ট কুমার, নাসিরউদ্দিন চৌধুরি, লিংকন, সোহেল রানা, মিশু, তকলিস (আলমগীর রানা), মামুনুল ইসলাম, কোমল (মিঠুন), রনি (সুজন)।
রেফারি ঃ ফাহাদ জাবের আল মারি (কাতার)।
