সমুদ্রের কোলের শহর বলে প্রকৃতির বিরূপ আচরণের শিকার মাতারাকে প্রায়ই হতে হয়। গতকালও প্রকৃতির বিরূপ আচরণ দেখল শহরটি। না, এবার আর সুনামি বা এরকম ভয়াবহ কিছু নয়। দিনভর তুমুল বৃষ্টি হল। আর তাতেই দিনের খেলা প্রায় ভেসে গেল। বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কার এমার্জিং একাদশের তিন দিনের ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে গতকাল রবিবার মাত্র ৫.৪ ওভার খেলা গড়াতে পারল মাঠে। এই সময়ের মধ্যে গতকালের পর আর ৩ ওভার ব্যাট করে শেষ উইকেট হারিয়ে ফেলার আগে শ্রীলঙ্কান দলটি ৪১০ রান করেছে প্রথম ইনিংসে। ইলিয়াস সানি এই উইকেটটি নিয়ে ইনিংসে নিলেন ৩ উইকেট। এরপর বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামতে নামতেই দারুণ মেঘে অন্ধকার হয়ে আসে। এর মধ্যেই এনামুল হক ও জহুরুল হোসেনের উদ্বোধনী জুটি ২.৪ ওভার খেলে ৮ রান তুলে ফেলেন। তারপরই প্রবল বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে দিনের খেলাই বাতিল ঘোষণা করা হয়। আজ কাগজে-কলমে ৩০ মিনিট আগে খেলা শুরুর হওয়ার কথা। কিন্তু আজও ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে।
এই ঝড় বৃষ্টির মধ্যে শ্রীলঙ্কার প্রাপ্তি তাদের দুই তরুণ ব্যাটসম্যানের রান পাওয়া। আগের দিনই সেঞ্চুরি করে ফেলা খিতুরুয়ান ভিতাঙ্গে কাল অপরাজিত রইলেন ১৬৮ রানে। বলাই বাহুল্য, এ পর্যন্ত যেটুকু অনুশীলন হয়েছে, তাতে বাংলাদেশি বোলাররা হতাশা ছাড়া কিছুই পাননি। এরই মধ্যে একটু প্রাপ্তি হল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের আবিষ্কার সোহাগ গাজীর ফর্মেই থাকা। ইনিংসে আগের দিনই ৫ উইকেট শিকার সম্পন্ন করেছেন।
সোহাগ অবশ্য বলছেন, তিনি ৫ উইকেট পেলেও বোলাররা আসলে সবাইই খুব চেষ্টা করেছে। সেভাবে প্রভাব ফেলতে না পারার জন্য কন্ডিশনকেই দায় দিচ্ছেন সোহাগ, ‘হ্যাঁ, আমরা ৯টি উইকেট তো প্রথম দিনেই ফেলেছি। যে কন্ডিশন, সে হিসেবে ব্যাপারটা খুব খারাপ ছিল না। খুবই গরম এখানে। সেই সঙ্গে ব্যাটিং করার জন্য উইকেট অসাধারণ ছিল। এর মধ্যেও বোলাররা সবাই চেষ্টা করেছে। রুবেল প্রতি ওভারে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছে। ও আসলেই দারুণ বল করেছে।’ সেটা অবশ্য পরিসংখ্যান বলছে না। পরিসংখ্যান বলছে, সোহাগই ৫ উইকেট নিয়েছেন। তিনিই ফিরিয়েছেন প্রতিপক্ষের আরেক বড় ইনিংস খেলা ব্যাটসম্যান প্রিয়াঞ্জনকে। সোহাগ বলছেন, এই ৫ উইকেট তার দারুণ পরিশ্রমের ফল, ‘দেখুন উইকেট পেতে খুব কষ্ট করতে হয়েছে। আমি অনেক ভেরিয়েশন করার চেষ্টা করেছি। এই যে উইকেট, কোনো ব্যাটসম্যান চাইলে টানা ৬০ বলও ডিফেন্স করতে পারে। এখানে উইকেট পাওয়া খুব কঠিন। আমি প্রিয়াঞ্জনকে আউট করে খুব আনন্দ পেয়েছি। মনের মতো একটা ডেলিভারি দিতে পেরেছি।’
