দেশে খাদ্যের প্রাক্কলিত চাহিদা প্রায় তিন কোটি মেট্রিক টন। গতকাল সোমবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে টেবিলে উপস্থাপন করা প্রশ্নোত্তর পর্বে খাদ্যমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক সংসদকে এ তথ্য জানান। মো. শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশের জনসংখ্যা ও মাথাপিছু দৈনিক খাদ্য চাহিদার ভিত্তিতে খাদ্যের বাত্সরিক চাহিদা নিরূপণ করা হয়।
তিনি জানান, জনসংখ্যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। অপরদিকে সময়ের সাথে সাথে মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে খাদ্যের চাহিদা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। বাংলাদেশ গবেষণা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সর্বশেষ গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমানে দেশে খাদ্যের প্রাক্কলিত চাহিদা প্রায় দুই কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টন। তন্মধ্যে চালের চাহিদা প্রায় দুই কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন এবং গমের চাহিদা প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন। দেশীয় উত্স তথা অভ্যন্তরীণভাবে উত্পাদিত চাল দিয়ে দেশের চাহিদা মিটানো হয়। তবে গমের ক্ষেত্রে চাহিদার এক তৃতীয়াংশ দেশীয় উত্স থেকে এবং অবশিষ্ট দুই তৃতীয়াংশ অর্থাত্ প্রায় ২০ থেকে ২১ লাখ মেট্রিক টন আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। সরকারি নিজস্ব অর্থে ও বৈদেশিক অনুদানে গত অর্থবছরে প্রায় নয় দশমিক ৬৯ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে। আমদানি করা খাদ্যশস্যের জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার ১১৬ কোটি ১৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।
শাহিদা তারেখ দীপ্তির প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি/কৌশল বাস্তবায়নের ফলে দেশে খাদ্য উত্পাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশের খাদ্য মজুদ সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে দেশে চাহিদার তুলনায় কিছু পরিমাণ অতিরিক্ত চাল উত্পাদিত হচ্ছে। এ অবস্থায় উত্পাদক কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ উত্স থেকে চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশ্ব বাজারে চাল রফতানির পরিকল্পনার অংশ হিসাবে ইতিমধ্যে সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। বিশেষায়িত সরু জাতের চাল রফতানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশ অতিরিক্ত দুর্যোগ প্রবণ হওয়ায় দুর্যোগকালীন জরুরি প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে অন্যান্য জাতের চাল রফতানির বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কাজী কেরামত আলীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ২০১০ সাল থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে নয় বরং মহানগর, জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নিম্ন আয়ের বা যাদের স্থায়ী আয়ের উত্স নেই এমন স্থায়ী বাসিন্দাদের স্থানীয় কমিটির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করে কার্ড প্রদানসহ সুলভ মূল্যে কার্যক্রমে খাদ্যশস্য বিতরণের ব্যবস্থা করেছে। এ পর্যন্ত সুলভ মূল্য কার্যক্রমের আওতায় সাত কোটি সাত লাখ দুই হাজার ১৭২টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া দরিদ্র ও নিম্ন আয়ভুক্ত মানুষের বিষয়টি বিবেচনা করে খোলাবাজারে স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এম আব্দুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে জাতীয় খাদ্যনীতি বাস্তবায়নের ক্ষমতা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) এর আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক ডাটাবেজ এবং ডকুমেন্টেশন সেন্টার ও ওয়েবসাইটের অধিকতর উন্নয়ন।
মো. মুজিবুল হক চুন্নুর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ধান চাষীদের উত্পাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে সরকার অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় কৃষকদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে মূল্য সহায়তা প্রদান এবং বিদেশি চাল রফতানির মাধ্যমে দেশীয় কৃষকদের উত্পাদিত ফসলের বাজার সমপ্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
