বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে সারাদেশে গত কয়েকদিন ধরে গণহত্যা চালানোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত চার বছর ধরে দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে সরকার এখন গণহত্যা কর্মসূচি পালন করছে। রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ফ্যাসিবাদ এখন ভয়াবহ রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। গত কয়েকদিনে শতাধিক লোককে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরাও বাদ যায়নি। পুলিশ-র্যাব ও বিজিবি কর্তৃক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে জাতি আজ স্তম্ভিত। দেশবাসী গভীর উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। সরকার দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ বিপন্ন করে মানুষের জানমালের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সারাদেশে দখল, লুটপাট আর রক্তপাত ঘটিয়ে দেশে এক নতুন ধরনের রাজনীতির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশের সংবিধানকে তাচ্ছিল্য করে মানুষের বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতাকে স্তব্ধ করা হয়েছে নিষ্ঠুর উত্পীড়ন চালিয়ে। তাদের দুঃশাসনের যাঁতাকলে দেশবাসীকে পিষে ফেলার লাগাতার কার্যক্রমে এখন শেষ পর্যায়ে তারা দানব হয়ে উঠেছে। গুপ্তহত্যা, গুম, অপহরণ, শরীরে অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যা, নারী নির্যাতনের বিভীষিকায় তারা এখন গণহত্যার মতো পৈশাচিক কর্মকাণ্ডে মেতে উঠেছে। তাদের এই কর্মকাণ্ড যে শুধুমাত্র বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করা এবং নিজেদের ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করার চক্রান্ত তা জনগণের কাছে স্পষ্ট।
তিনি বলেন, নিজেদের চার বছরের অপকর্ম ঢাকতে জনদৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য শাসকগোষ্ঠী একের পর এক নতুন নাটক মঞ্চস্থ এবং নানা ধরনের হীন চক্রান্ত করছে। সরকারের বেপরোয়া জুলুম-নির্যাতন, হত্যা, সংঘাত ও সংকট মোকাবিলায় জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধের পথকেই বেছে নেবে।
মির্জা আলমগীর গত কয়েকদিনে সরকারের নারকীয় গণহত্যার প্রতিবাদে বিএনপি’র ডাকা আজকের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল সফল করার জন্য দেশের সর্বস্তরের জনগণকে আহবান জানান।
