সাতক্ষীরা সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মামুন মাত্র সাত মাস আগে বিয়ে করেন। গত বৃহ-স্পতিবার বিকালে পুলিশ-বিজিবির সাথে জামায়াত শিবির কর্মীদের সংঘর্ষ চলাকালে শিবির কর্মীরা স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী শ্যালিকার সামনেই মামুনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনার সময় মামুনের বাড়ীর পাশে শিবিরের কর্মীরা ব্যাপক তান্ডবলীলা ও ভাংচুর চালাতে থাকলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে তারা শান্ত না হয়ে বেপরোয়া হয়ে শহরের দিকে এগোতে থাকে। মামুন তখন নিজের ঘরে স্ত্রী তন্বী ও ৫ বছর বয়সী শ্যালিকা তিন্নিকে নিয়ে দরজা জানালা বন্ধ করে বসে থাকেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
মামুন হত্যা ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে তার স্ত্রী বলেন, ‘সবাই যখন ঘরের মধ্যে বসে ছিলাম তখন জামায়াতের মিছিল থেকে আমাদের বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর শুরু হয়। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা কেরাসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় আমরা আগুনের লেলিহান শিখা দেখে ঘরের দরজা খুলে পালাবার চেষ্টা করি।’
তিনি জানান, মামুন ছুটে বের হতে সক্ষম হন। কিন্তু স্ত্রী ও শিশু শ্যালিকা পেছনে পড়ে যাওয়ায় তাদের নিতে ফিরে আসেন। তখন শিবির কর্মীদের হাতে ধরা পড়ে যান। তার তাকে ধরে প্রথমে মাথায় লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করে। মামুন সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
তন্বী বলেন, ‘আমি ও আমার বোন তাদের পা জড়িয়ে ধরে মামুনের প্রাণ ভিক্ষা চাই। কিন্তু পাষন্ডরা তাতে কর্ণপাত না করে তাকে মারতে মারতে পাশের ডোবায় ফেলে দেয়। সেখানে ফেলে দেয়ালের পাচিলের ইট দিয়ে তার মাথা ও শরীর থেঁতলে মৃত্য নিশ্চিত ভেবে চলে যায়। মামুনকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এবং পরে খুলনা ২৫০ বেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।’
মামুনের স্ত্রী জানান, তার সব শেষ হয়ে গেছে। তিনি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। মামুনের ছোট্ট শ্যালিকা তিন্নি বলে, ‘আমি ওদেরকে বলেছিলাম তোমরা ভাইয়াকে না মেরে আমাকে মেরে ফেলো। কিন্তু ওরা আমাকে দুটি চড় মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। হত্যাকান্ডের কথা উঠলেই এখনো ভয়ে শিউরে উঠছে তিন্নি।
