এবার ট্রেন চলাচলের কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সোমবার নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা আন্ত:নগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে ধরিয়ে দেয়া হয় আগুন। এতে ট্রেনের একটি বগি পুড়ে গেছে। আরেকটি বগির আংশিক ক্ষতি হয়। রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি সোহরাব হোসেন জানান, ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেয়ার আগে দৃষ্টি ফেরানোর জন্য দুর্বৃত্তরা কমলাপুর ফুট ওভারব্রিজের কাছে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছুটে গেলে রেল স্টেশনের ৪ নম্বর প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে থাকা উপকূল এক্সপ্রেসে আগুন ধরিয়ে দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরাই ট্রেনে আগুন দেয়।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জামায়াত-শিবিরের হরতালে সারাদেশে সাধারণ মানুষের নিরাপদ বাহন রেলকে টার্গেট করা হয়েছে। বিভিন্নস্থানে রেললাইন উত্পাটন ও ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সোমবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছানোর ৪/৫ মিনিট আগেই ফুট ওভারব্রিজের ওপর থেকে রেললাইনের ওপর কে বা কারা একটি ককটেল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার ৪/৫ মিনিট পর কমলাপুর রেলস্টেশনের ৪ নম্বর প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে থাকা উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের পিছনের বগিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে। এসময় অন্য দুইটি প্লাটফরমে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও মহানগর গোধূলী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। পুরো রেলস্টেশনে যাত্রীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। রেল স্টেশনে দুইটি ইউনিট পৌঁছানোর আগেই রেল কর্মীরা পানি দিয়ে আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এরই মধ্যে শেষের বগি থেকে মূল ট্রেনকে বিচ্ছিন্ন করে সরিয়ে নেন রেল কর্মীরা। তারা জানান, বগির শেষের বগিটি ছিল শোভন চেয়ার কোচ বগি। আগুনে বগির সবক’টি আসন পুড়ে গেছে। এই বগির লাগোয়া বগিটিও সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ট্রেনে আগুন দেয়ার খবর পেয়েই কমলাপুরে ছুটে আসেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির উস্কানিতে জামায়াত-শিবির চক্র, যারা গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশে নাশকতা চালিয়ে আসছে, তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। একটি বগি পুড়ে যাওয়ায় রেলওয়ের প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার খায়রুল বশির জানান, ট্রেনে আগুন লাগানোর আগেই যাত্রীরা নেমে যাওয়ায় কেউ হতাহত হননি।
যুদ্ধাপরাধের মামলায় গত বৃহস্পতিবার জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, ফেনী, লালমনিরহাট, সিলেট ও বামনডাঙায় রেল লাইনে আগুন দেয়া, ফিসপ্লেট ও স্লিপার খুলে ফেলার মতো ঘটনা ঘটে। লাইনচ্যুত হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার মুখে পড়ে মহানগর গোধূলী এক্সপ্রেস। এরপর শনিবার গভীর রাতে লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথের বিপুলাসারে উপড়ে ফেলা হয় রেলপথ। লাইনের ওপর কাঠ জড়ো করে আগুন দেয়া হয় কুমিল্লায়। রাজশাহী রেল স্টেশনে আন্তঃনগর সিল্কসিটির তিনটি বগি পুড়িয়ে দেয় যাত্রীবেশীরা। রবিবার হরতালের মধ্যে পার্বতীপুর-খুলনা রেলপথে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকায় রেলপথের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ দেয় জামায়াত কর্মীরা। মিছিল নিয়ে বগুড়া রেল স্টেশনে হামলা চালিয়ে আগুন দেয়া হয়। বগুড়ার সরকারি আযিযুুল হক কলেজ ও শহরতলীর সাতগ্রাম এলাকায় রেল লাইন উপড়ে ফেললে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে ২৮ ঘণ্টা। এসব ঘটনার রেলপথের নিরাপত্তা বাড়ানোরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রেললাইনের ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পাহারা বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি ট্রেনে রেল পুলিশের সংখ্যা ১২ জন থেকে বাড়িয়ে ১৫ জন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিআইজি সোহরাব হোসেন।
