রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের সামনের সড়কে গতকাল সোমবার দুপুরে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সফররত ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি এ হোটেলে অবস্থান করছেন। এদিকে সোনারগাঁও হোটেলের কাছাকাছি জায়গায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা দেশ-বিদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সফরসঙ্গী সাংবাদিকরা ঘটনার খোঁজখবর করতে থাকেন। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনলাইন সংস্করণে খবরটি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই, টাইম্স অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্থান টাইম্স, এনডিটিভি, আনন্দবাজার পত্রিকার মতো সংবাদ মাধ্যমে ককটেল বিস্ফোরণের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এ ঘটনার পর ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ঢাকার যে হোটেলে অবস্থান করছেন তার আশপাশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সফরকারী দলের সদস্যরা বোমার শব্দ শুনেননি বা এমন কোন ঘটনা সম্পর্কে জানেন না। তবে ভারতের নিরাপত্তাকর্মীরা জানিয়েছেন, হরতালের সময় এমন ককটেল বিস্ফোরণ বাংলাদেশে একটি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এটি বোমা ছিলো না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ১টা ৫৫ মিনিটের সময় কারওয়ান বাজার সোনারগাঁও হোটেলের সার্ক ফোয়ারা মোড়ে মোটর সাইকেল আরোহী দুই যুবক ককটেলটি নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। ককটেল বিস্ফোরণের পর পরই ঐ এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পথচারীরা দিগবিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। ঘটনার পর পরই বিপুল সংখ্যক র্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। অপরদিকে এ ঘটনার ১৫ মিনিট পর তেজগাঁও এফডিসি ক্রসিংয়ে একই কায়দায় আর একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ককটেল বিস্ফোরণকারীরা দ্রুত মোটর সাইকেলযোগে পালিয়ে যায়। এখানে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার পর পরই হোটেল সোনারগাঁওসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়। এফডিসির রেল ক্রসিং থেকে সার্ক ফোয়ারা মোড় পর্যন্ত রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এমনকি যানবাহন চলাচলেও সীমাবদ্ধতা আনা হয়। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, সার্ক ফোয়ারার কাছে দুপুর ২টার দিকে একটা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কাউকেই গ্রেফতার করা যায়নি। এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ভারতের রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে হোটেল সোনারগাঁওসহ আশপাশের এলাকায় তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। পুলিশ ও আর্মড পুলিশের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও হোটেলের অনতিদূরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত চলছে।
