দেশজুড়ে জামায়াত-শিবিরের সহিংসতার নিন্দা, উস্কানির ফাঁদে পা না দিতে আহ্বান

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৩, ২২:৫৩
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে জামায়াত-শিবিরের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে সারাদেশে তাণ্ডব শুরু হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তিই তাদের লক্ষ্য। অথচ সারাদেশের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনকারীদের বিচার চায়। শাহবাগে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে জাগরণের সৃষ্টি করেছে। কিন্তু ইসলামবিরোধী বলে আখ্যা দিয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আঘাত করা হচ্ছে। সারাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। ন্যক্কারজনকভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করা হয়েছে। রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে গতকাল সোমবার ‘মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী চক্রের সামপ্রদায়িক হামলাসহ সকল সহিংস তত্পরতা রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। জামায়াত-শিবিরের উস্কানির ফাঁদে পা না দিতে সকলকে অনুরোধ জানান তিনি। দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আগামীকাল বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সামপ্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। লিখিত বক্তব্যে সুলতানা কামাল বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা নিয়ে লক্ষ্য করছি যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘোষণার পর থেকে এই রায় প্রত্যাখ্যান করার নামে একটি মহল অতি পরিকল্পিত উপায়ে দেশকে নৈরাজ্য ও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে সহিংস পথ বেছে নিয়েছে। এর পরিণতিতে ইতিমধ্যে ষাটজনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত মানুষ আহত বা সংকটজনক অবস্থায় চিকিত্সাধীন আছেন। নিহত এবং আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আইন-শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর সদস্য এবং নারী, শিশুসহ নিরীহ সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। সাধারণ নিরীহ নাগরিকদের উপর আক্রমণ, হত্যা, পুলিশের উপর সশস্ত্র হিংস্র আক্রমণ ও খুন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িঘরে একাত্তরের মতো অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, হত্যা, তাদের মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সুলতানা কামাল বলেন, আগামীতে কর্মসূচির একটি অংশ হিসেবে তদন্ত কমিটি গঠনের সম্ভাবনা আছে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ড. সরওয়ার আলী বলেন, ১৯৬৪ সালের ভয়াবহ সামপ্রদায়িক দাঙ্গার সময় ইত্তেফাকের তত্কালীন সম্পাদক মানিক মিয়ার নেতৃত্বে প্রধান তিনটি দৈনিক সম্পাদকীয় করে ‘রুখে দাঁড়াও পূর্ব বাংলা’ শিরোনামে, যা জনসাধারণের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলে। আজও আমাদের সেভাবে রুখে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে অধ্যাপক এম এম আকাশ, ড. ইফতেখারুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউদ্দিন তারেক আলী, সুশান্ত কুমার দাস, শামসুল হুদা ও খুশি কবির উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে অন্যদের মধ্যে সংহতি জানিয়েছেন অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, কামাল লোহানী, সৈয়দ শামসুল হক, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ড. ইয়াসমিন হক, ড. আকবর আলী, ড. আবুল বারকাত, শাহদীন মালিক, শাহীন আনাম, হারুন হাবিব, অজয় রায়, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিনায়ক সেন, রাশেদা কে চৌধুরী, আলী যাকের, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আয়েশা খানম।