নবীন শিক্ষকের ক্যাম্পাস ভাবনা

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৩, ১৭:৫২
‘আমার বাবা একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি চাইতেন তার ছেলে শিক্ষক হবে। আস্তে-আস্তে বাবার ইচ্ছা আর আমার ইচ্ছা মিলে একাকার হয়ে গেছে। নবীনদের মাঝে আলো ছড়াতে হবে। আমি মনে করি এটা শিক্ষকদের গুরুদায়িত্ব। একজন শিক্ষক কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারলো সেটাই হলো বড় কথা’ বারেক কায়সার ‘শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে স্বপ্ন দেখা শুরু। ক্রমে স্বপ্ন আমার ডালপালা মেলেছে। স্বপ্নের ফানুস উড়িয়েছি আপন মনে। এখন আমার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। আমি খুশি। অধিকাংশ সময় গবেষণায় দেয়ার ইচ্ছে আছে। সবার কাছে শুভ কামনা প্রত্যাশা করছি।’ বলছিলেন ইস্টার্ণ ইউনিভার্সিটির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ফারজানা মান্নান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মইনুল হক। আলোকিত মানুষ গড়তে চান নতুন নিয়োগ পাওয়া এই শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘ভালো চাকরির সুযোগ ছিল। ইচ্ছে করেই সে সব চাকরিতে যাইনি। আলোকিত মানুষ তৈরিতে অবদান রাখতে চাই। একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পক্ষেই এটা সম্ভব বলে মনে করছি। কেন যেন সেই শৈশব থেকেই শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম।’ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুনিরা জাহান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেছেন তিনি। এ শিক্ষক জানান, ‘আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জাতির পথ প্রদর্শক। তাদের ভুল সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়তে পারে। তাই তাদেরকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে ছাত্রদের। অন্যথায় সঠিক মানুষ পাওয়া দুষ্কর হয়ে যাবে।’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে যোগদান করেছেন মো. আরিফ হোসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা এ শিক্ষক বলেন, ‘আমার বাবা একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি চাইতেন তার ছেলে শিক্ষক হবে। আস্তে-আস্তে বাবার ইচ্ছা আর আমার ইচ্ছা মিলে একাকার হয়ে গেছে। নবীনদের মাঝে আলো ছড়াতে হবে। আমি মনে করি এটা শিক্ষকদের গুরুদায়িত্ব। একজন শিক্ষক কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারলো সেটাই হলো বড় কথা।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্বের প্রভাষক মাইদুল ইসলাম। এই শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। ইচ্ছে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবো। হতে পেরেছি এজন্য ভালো লাগছে। আমি মনে করি ছাত্র শিক্ষক সমন্বিত চেষ্টায় নতুন জ্ঞান সৃষ্টি সম্ভব। এজন্য ছাত্র-শিক্ষকদের সমন্বিতভাবে কাজ করা উচিত।’ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভের ফার্মেসীর প্রভাষক শারমিন জাহান বলেন, ‘ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যে একটা ইতিবাচক বা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য ক্লাসের পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমও বাড়াতে হবে। শিক্ষকসুলভ চিন্তাটা পরিহার করতে হবে। পড়াশোনার বাইরে দৈনন্দিন জীবনের অনেক বিষয়ও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করা যেতে পারে। নিজেদের মধ্যে একসাথে খাওয়া-দাওয়া কিংবা শিক্ষাসফরের মতো বিষয়গুলোও একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।’ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়েকেমিস্ট্রির প্রভাষক সাহেদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি মনে করি শিক্ষাগত এবং অন্যান্য লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কটা অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। তবে উভয়ের মধ্যেই এমন একটা অদৃশ্য দেয়াল থাকা উচিত যা ছাত্র বা শিক্ষক কেউই অতিক্রম করবে না।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য নিয়োগ পাওয়া তালহা জোবায়ের বলেন, ‘ছাত্রদের সাথে শিক্ষকদের সম্পর্কটা নির্ভর করে তাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের উপর। আসলে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদেরকে এক ধরনের বলয়ের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখেন। এই বলয়টা ভাঙ্গা দরকার। তবে অবশ্যই তাদের প্রতি ছাত্রদের শ্রদ্ধার জায়গাটাও বজায় রাখতে হবে।’ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তারেক বিন ইসলাম বলেন,‘শিক্ষকদের সাথে ছাত্রদের সম্পর্কটা শাসনের না হয়ে বন্ধুত্বের হওয়া উচিত। এজন্য শিক্ষকদেরই এগিয়ে আসতে হবে। কোন বিশেষ ছাত্র নয় বরং সকল ছাত্রের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। ছাত্রদের কথা ও দাবির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। তবে একটা ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য ছাত্রদেরও শিক্ষকদের মর্যাদা দিতে জানতে হবে।’