মেধাবীদের গল্প

‘ক্লাসে নিয়মিত ছিলাম’

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৩, ১৭:৫৩
উম্মে হাবিবা জেনী। মা-বাবার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবে মেয়ে। প্রত্যেক বাধ্যগত সন্তানের মত মেয়েটাও চেয়েছিল বাবা-মায়ের এই স্বপ্ন পূরণ করতে। কিন্তু শিক্ষাঙ্গনের তীব্র প্রতিযোগিতার ভিড়ে সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল। ডাক্তার হওয়া হয়নি মেয়েটার। তবে জীবনের গতি কিন্তু কোথাও হারিয়ে যায়নি তার। কোন এক শুভ্র সকালে ভর্তি হয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগে। এ বিভাগে ভর্তি হবার পর থেকেই ইচ্ছে ছিল ভালো ফলাফল করার। সেই ইচ্ছের হাত ধরেই অনার্স বি.এস.এস. সম্মান পরীক্ষায় ৩.৬৫, পরবর্তীতে একই বিভাগ থেকে এম.এস.এস. পরীক্ষায় ৩.৬৯ পেয়ে প্রথম হয় জেনী। জেনী জানায়, ‘আমার মা-বাবার অনুপ্রেরণা ও উত্সাহ ছাড়া এ ফলাফল কখনও অর্জিত হতো না। এছাড়া আমার বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণের প্রেরণা ও সাহায্যের হাত ধরে আমি আজকের এ অবস্থানে এসেছি। বিশেষ করে, বিভাগের দু’জন শিক্ষক প্রফেসর ড. ভূঁইয়া মোঃ মনোয়ার কবির এবং প্রফেসর ড. আনোয়ারা বেগমের কথা বলতে চাই। বিভাগীয় শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় মাস্টার্সে (২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ) একমাত্র শিক্ষার্থী হিসাবে থিসিস করেছি। এছাড়া উচ্চ শিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্প (HEQEP) এর অধীনে একজন ছাত্রী গবেষক হিসাবে কাজ করছি। এছাড়া গত বছরের জুনে পাকিস্তান হাইয়ার এডুকেশন কমিশনের আমন্ত্রণে ‘স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ’ কর্মসূিচতে বাংলাদেশের সেরা চার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২০ জন শিক্ষার্থীর একজন হিসাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে জানান তিনি। জেনী জানান, ‘আমি মনে করি নিয়মিত ক্লাশ ও পড়াশোনা করলে, শিক্ষকদের লেকচার মনোযোগ দিয়ে শুনে সে অনুসারে নিজে আলাদা নোট তৈরি করতে পারলে যে কোনো শিক্ষার্থীর পক্ষেই ভালো ফলাফল সম্ভব। ভালো ফলাফলের চেয়ে আমি সর্বক্ষণ চেষ্টা করেছি একজন ভালো ও আদর্শ মানুষ হতে। এখন আমার একটাই স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবার।’ অবসরে ঘুরতে, বই পড়তে আর বন্ধুদের সাথে গল্প করতে ভাল লাগে তার। জেনীর জীবনের মূলমন্ত্র হলো, ‘সত্য পথে এগিয়ে গেলে সাফল্য আসবেই’। তাই জেনী সত্য পথে থেকে সফলতা খোঁজার চেষ্টায় সর্বক্ষণ মত্ত থাকে।