জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

গবেষকদের অন্যরকম একটি দিন

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৩, ১৭:৫৬
পালা করে টমটম গাড়িতে করে ক্যাম্পাস জুড়ে ঘোরার মজাই আলাদা। ঘোড়ার গাড়ির দিকে উত্সুক জনতার তাকিয়ে থাকার ভঙ্গি সেই মজাকে আরো বেশি বাড়িয়ে দিচ্ছিল রেজাউল হক কৌশিক রাজধানী থেকে শীত বিদায় নিলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসের গাছে লতায় পাতায় জড়িয়ে ছিল শীতের আবহ। আর শীত থাকার কারণেই হয়ত ক্যাম্পাসের লেকগুলো ছিল শীতের অতিথি পাখির দখলে। তবে তাদের মধ্যে ছিল না কোন দাম্ভিকতা। সকাল থেকে সন্ধ্যা অব্দি নীরব দর্শকের মতো সবকিছু দেখে যাওয়া। আর নিজের অস্তিত্ব জানান দেয়ার জন্য মাঝে মাঝে কিচির- মিচির শব্দ ও ঝাঁক বেঁধে উড়াউড়ি। এই তো। এমন পরিবেশে যে কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে তা ভালো হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু না। বাদ সেধে বসল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় পূর্ব নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি বাদ দেব কিনা সে বিষয়ে আমরা আয়োজকরা কিছুটা দোটানায় পড়েছিলাম। তবে হাফিজ ভাইয়ের (আরএসএ সাধারণ সম্পাদক) এক কথা, নির্ধারিত দিনেই অনুষ্ঠান হবে। যে কথা সেই কাজ। পরদিন জাবি’র পিএইচডি ও এমফিল গবেষকদের সংগঠন রিসার্চ স্কলার এসোসিয়েশনের (আরএসএ) বার্ষিক সেমিনার, সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি যথারীতি সম্পন্ন হয়ে গেল। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা উপেক্ষা করেও হাজির হয়েছিলেন দেড়শতাধিক গবেষক। ঢাকার বাইরে অবস্থানকারী অনেক স্কলার সশরীরে জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে উপস্থিত হতে না পেরে চট্টগ্রাম, বগুড়া, ময়মনসিংহ ও দিনাজপুরের মতো দূরত্ব থেকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাদের ফোনের ভাষা শুনে বুঝতে কষ্ট হয়নি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ব্যাপারে তাদের প্রবল ইচ্ছাশক্তিকে। বাস্তবতা তো মানতেই হবে। যা হোক, শেষ পর্যন্ত বেশ ভালোই জমেছিল দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানের শোভা বাড়িয়েছিল দ্বৈত ঘোড়ায় টানা টমটম গাড়ি। পালা করে টমটম গাড়িতে করে ক্যাম্পাস জুড়ে ঘোরার মজাই আলাদা। ঘোড়ার গাড়ির দিকে উত্সুক জনতার তাকিয়ে থাকার ভঙ্গি সেই মজাকে আরো বেশি বাড়িয়ে দিচ্ছিল। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে বাচ্চাদের খেলার পাশাপাশি সবাইকে মজা দিয়েছিল পুরুষদের পিলো পাসিং খেলা। নারীদের জন্য প্রায় নির্ধারিত হয়ে যাওয়া এ খেলাটিতে পুরুষরাও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল। বাচ্চাদের জন্য নির্ধারিত কমন গিফট পাওয়ার আনন্দ গবেষক পিতা-মাতাকেও উত্ফুল্ল করেছিল। তবে র্যাফেল ড্রটা অংশগ্রহণকারী প্রায় সকলকেই কষ্ট দিয়েছে। বক্সটা যতই ঘুরিয়ে তোলা হোক ওই ঘুরে-ফিরে একই সিরিয়ালের নম্বরই উঠছিল। র্যাফেল ড্রর ১০টি পুরস্কারের মধ্যে দুইজনেই ৬টি দখল করেছেন। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কৌশলে পরিপাটি অনুষ্ঠান সে কষ্টকে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি। আর নেসকেফের আনলিমিটেড কফি ক্লান্তিকে কাছে ভিড়তে দেয়নি।