মিসরের পোর্ট সাইদে মুরসি বিরোধীদের সঙ্গে পুলিশের আবারো ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার বিকালে শহরের নিরাপত্তা সদর দফতরের কাছে এ সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়েছে। এ সময়ে বেশ কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর একদিন আগে রবিবার পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত ও পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। এ সময়ে দুটি সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে এ কথা বলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, রবিবারের সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে তিনজনের দাফন অনুষ্ঠানের সময় পরদিন হাজার হাজার লোক উত্তরাঞ্চলীয় শহর পোর্ট সাইদের রাজপথে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। বিক্ষোভকারীরাও এ সময় পাল্টা তাদের উপর ইট-পাটকেল ও পেট্রোল বোমা ছুঁড়তে থাকে। বিক্ষোভকারীরা তখন মুরসি বিরোধী শ্লোগান দিতে থাকে। তারা প্রেসিডেন্ট মুরসির অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করে। গত বছরে ভয়াবহ ফুটবল দাঙ্গার মামলায় ২১জনকে ফাঁসির ঘোষণা দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা সেদিন সমাবেশ করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের রায়ট কারের ওপরে উঠে মুরসি বিরোধী শ্লোগান দিতে থাকে। তারা মিসরীয় সেনাবাহিনীকে তাদের পক্ষ গ্রহণ করতে বলে।
রবিবারে বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া বোমার আঘাতে দুই পুলিশ এবং পুলিশের গুলিতে তিন বিক্ষোভকারী নিহত হয়। আহত হয় ৫শ’ ৮৬ জন। জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান আহমেদ সুলতান বলেন, এ হামলায় ১৬জন গুলিবিদ্ধ হয়। একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, দেশটিতে চলা ধর্মঘটের তৃতীয় সপ্তাহে গোটা পোর্ট সাইদ অচল হয়ে পড়ে। এ সহিংসতার ফলে মিসরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠলো।
