আশরাফুলের সেঞ্চুরিতে রান-উত্সব করল বাংলাদেশ

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৩, ২০:৫৯
প্রতিপক্ষ হিসেবে শ্রীলঙ্কাকে পেলেই যেন তার ব্যাট একটু বেশি ঝলসে ওঠে। সেই ২০০১ সালে কলম্বোতে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করে শুরু। এরপর থেকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বলার মত অনেক ইনিংস খেলেছেন। মাতারার এই ম্যাচটি শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের বিপক্ষে ছিল না। তারপরও লঙ্কান বোলাররা আরেকবার মোহাম্মদ আশরাফুলের ত্রাসটা টের পেল। ভাগ্যের জোরে দলে সুযোগ পাওয়া সেই আশরাফুল গতকাল তিন দিনের অনুশীলন ম্যাচের শেষ দিনে আউট হওয়ার আগে ১০২ রানের এক ইনিংস খেললেন। শুধু আশরাফুল নন; অনুশীলনের এই ম্যাচটায় বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের প্রায় সব ব্যাটসম্যানই দারুণ অনুশীলন করে নিলেন। দুই ওপেনার এনামুল হক ও জহুরুল ইসলাম এবং লোয়ার মিডল অর্ডারে নামা নাসির হোসেন ছাড়া মিডল অর্ডারের সব ব্যাটসম্যান কমপক্ষে ৫০ রানের ঘর পার করেছেন। এর মধ্যে মোমিনুল হকের কপালটাই খারাপ বলতে হবে। সেঞ্চুরি থেকে ঠিক এক রান দূরে আউট হয়ে গেছেন। সঙ্গীর অভাবে সেঞ্চুরি থেকে ১৮ রান দূরে অপরাজিত থেকেছেন আট নম্বরে নামা সোহাগ গাজী। এ ছাড়া অধিনায়ক মুশফিকুর ও সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও ফিফটির দেখা পেয়েছেন। আর এই সবার ইনিংস মিলিয়ে শেষ দিনে অলআউট হওয়ার আগে ৪৭৯ রান তুলেছে বাংলাদেশিরা। মাঝে একটা দিন বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় দু’ দলের একটা করে ইনিংস শেষ হতেই ড্র হয়ে গেছে ম্যাচ। বৃষ্টিবৃঘ্নিত দ্বিতীয় দিনে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। কাল সময়মতো খেলা শুরু হয়েছে। সকালে ৪৫ রান যোগ হতেই ফেরত বাংলাদেশের দুই ওপেনার। এরপরই শুরু হয় আশরাফুল ও মোমিনুলের প্রবল প্রতি আক্রমণ। তৃতীয় উইকেটে এই দুজন যোগ করেন ১৭৮ রান। ১৫১ বলে ১১টি চার ও একটি ছয়ে সাজানো ১০২ রানের ইনিংস খেলে আশরাফুল আউট হয়ে যাওয়ায় জুটিটা ভাঙে। ১৩৮ বলে ৯৯ রানের ইনিংস খেলে আউট হয়ে যান মাত্র গত সিরিজেই অভিষিক্ত বাংলাদেশি তরুণ মোমিনুল। আশরাফুলের এই ইনিংসটাকে ‘স্বাভাবিক ব্যাপার’ বলে মনে হবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার টেস্ট রেকর্ড ফিরে দেখলে। এমনিতে আশরাফুলের ক্যারিয়ার গড় মাত্র ২২.৬০। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেটা বেড়ে হয়ে যায় ৪০.৮৫। ক্যারিয়ারের ৫টি সেঞ্চুরির মধ্যে ৪টিই এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। তাও তিনটি আবার সেই প্রবল প্রতাপান্বিত মুরালি-ভাস সম্বলিত দলের বিপক্ষে। এরপর অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের আক্রমণ শুরু হয়। মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ মাত্র ৯.১ ওভারে ৫ম উইকেটে ৬৩ রান যোগ করেন। রিয়াদ ৫৬ রান করে আউট হয়ে যান। আর মুশফিক আউট হন ৮১ রান করে। মুশফিক অবশ্য আউট হওয়ার আগে সোহাগ গাজীর সঙ্গে আরো দ্রুতগতির একটা জুটি গড়ে গেছেন। ১২ ওভারে এই দুজন সপ্তম উইকেটে ১১২ রান যোগ করেন; ওভারপ্রতি রান ওঠে ৯.৩৩ করে! মুশফিক আউট হয়ে ফেরার পর ইনিংসটা আর খুব বেশি বড় হয়নি। একপ্রান্তে ৮১ রান করে অপরাজিত থেকে যান বোলিং অলরাউন্ডার, এই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেয়া সোহাগ। কিন্তু অন্যপ্রান্তে বাকী দুই উইকেটের দ্রুত পতনে ৪৭৯ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। এই ম্যাচের স্কোর, ইনিংস দিনশেষে পরিসংখ্যানের জন্য আর গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার না। তবে এটা ঠিক যে, প্রথম টেস্টের আগে বাংলাদেশের যে ব্যাটিং অনুশীলনটা দরকার ছিল; তা ষোলো আনাই পেয়ে গেছে বাংলাদেশ। এখন দেখার বিষয়, এই অনুশীলনটা টেস্টে কাজে লাগে কি না।