চেতেশ্বর পুজারা, মুরালি বিজয়দের ব্যাটিংই অনেকটা ঠিক করে দিয়েছিল ম্যাচের ভবিষ্যত্। তখনই বোঝা গিয়েছিল এই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার আর কিছু আশা করা কঠিন হবে। তাই বলে এমন আত্মসমর্পণ! হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত হায়দ্রাবাদ টেস্টের একদিন বাকি থাকতেই ইনিংস ব্যবধানে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ হারল এক সময়ের বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়া!
রবিচন্দ্রন আশ্বিন এবং রবীন্দ্র জাদেজার ঘূর্ণি জাদুতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র চার দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিল স্বাগতিক ভারত। হায়দ্রাবাদে গতকাল মঙ্গলবার স্বাগতিকদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অজিদের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১৩১ রানে। ইনিংস এবং ১৩৫ রানের বিশাল এই জয়ে চার ম্যাচ সিরিজে ভারত এগিয়ে গেল ২-০ ব্যবধানে। উল্লেখ্য, এটা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতে সর্বশেষ সিরিজের কারণেই নিজেদের চিরকালের পরীক্ষিত অস্ত্র স্পিন নিয়ে একটু সংশয়ে পড়ে গিয়েছিল ভারত। মন্টি পানেসার এবং গ্রায়েম সোয়ানের নেতৃত্বে ইংলিশদের স্পিন বিভাগ নাড়িয়ে দিয়েছিল ভারতকে। ভারতের অস্ত্রেই তাদের বধ করে ইংলিশরা। ফলে স্পিন আক্রমণে অন্তত নিজেদের ফিরে পাওয়ার একটা চ্যালেঞ্জ ছিল ভারতীয়দের। আর তাতে মহেন্দ্র ধোনির দল যে এখনো পর্যন্ত পুরোপুরিই সফল তাতে কারোরই সন্দেহ থাকার কথা নয়।
তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচের যে অবস্থা ছিল তাতেই ফলাফল অনুমান করা যাচ্ছিল। তবে হারের ধরনটা যে এমন হবে সেটা অনুমান করা কঠিন ছিল। ২ উইকেটে ৭৪ রান নিয়ে দিনের শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। গতকাল আর মাত্র ৫৭ রান যোগ করতেই শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। ২০০৪ সালের পর আর কখনো এতো কম রানে ভারতীয়দের বিপক্ষে অলআউট হয়নি অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচটা শেষ হয়ে যায় মূলত দিনের ১৪তম ওভারেই। যখন জাদেজার দুর্দান্ত এক বলে বোল্ড হয়ে যান অজি অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। প্রথম দুই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ব্যর্থ ব্যাটিং লাইনআপের মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন ক্লার্কই।
তবে ক্লার্ক আউট হওয়ার আগেই সিরিজের প্রথম উইকেট হিসেবে শেন ওয়াটসনকে তুলে নিয়ে অজিদের প্রথম ধাক্কাটা দেন ইশান্ত শর্মা। এরপরই শুরু হয় স্পিন আগ্রাসন। ক্লার্কের পরে ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করা এড কাওয়ানকে ফিরিয়ে দেন জাদেজা। আগেরদিন দুটি উইকেটই দখল করা আশ্বিন বাকি তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে মুড়িয়ে দেন অজিদের লেজটা। ৬৩ রানে পাঁচ উইকেট দখল করা আশ্বিনই ভারতের সবচেয়ে সফল বোলার। জাদেজা নেন তিনটি উইকেট।
প্রথম ইনিংসে ২৩৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে যে সিদ্ধান্ত ক্লার্ক নিয়েছিলেন তা বুমেরাং হয়ে আসে অজিদের জন্য। কারণ হাতে অনেকটা সময় থাকায় চেতেশ্বর পূজারা এবং মুরালি বিজয় ঠাণ্ডা মাথায় উইকেটে প্রায় দেড় দিন কাটিয়ে দেন। যার ফলাফল হিসেবে রানের পাহাড়ে চড়ে ভারত। মাত্র ১১৬ রানের ব্যবধানে শেষ নয়টি উইকেটের পতন ঘটলেও এর আগেই স্কোরবোর্ডে উঠে যায় ৫০৩ রান। স্পিনবান্ধব হায়দ্রাবাদের উইকেটে যা আর ডিঙানো সম্ভব হয়নি অজিদের পক্ষে। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরির পুরস্কার হিসেবে পূজারার হাতে উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার।
সিরিজের তৃতীয় টেস্ট আগামী ১৪ তারিখ থেকে মোহালিতে শুরু হবে।
