গ্রামীণ ব্যাংক সংস্কারে পদক্ষেপ কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের পর

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৩, ২২:১৯
গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনকে খুব একটা আমলে নিচ্ছে না অর্থ মন্ত্রণালয়। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই ব্যাংকটির সংস্কারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র। সূত্রটি বলছে, আশা করা হচ্ছে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তবে কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ৩১ মার্চের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করার কথা থাকলেও, তা সম্ভব হচ্ছে না। আরও কিছু সময় লাগতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে গ্রামীণ ব্যাংকের নানা অনিয়ম তুলে ধরা হয়েছে। দেয়া হয়েছে সংস্কারের পরামর্শ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়ম ভেঙ্গে কাজ করেছে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটি। অনিয়মের পেছনে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকা সরকারের নিয়োগ দেয়া পরিচালক ও ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়ী। গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা, সহযোগী কোম্পানিগুলো প্রতিষ্ঠা, ওইসব কোস্পানি প্রতিষ্ঠায় তহবিল যোগান, ঋণ দেয়া ও মওকুফসহ নানা ক্ষেত্রেই অনিয়ম হয়েছে। গত বছরের ৫ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাবেক সচিব মামুনুর রশিদকে চেয়ারম্যান করে চার সদস্যের এই কমিশন গঠন করে। প্রসঙ্গত: ব্যাংকটির নির্বাচিত নারী পরিচালকরা এই অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনটি দাখিলের পর এক বিবৃতির মাধ্যমে তা প্র্রত্যাখ্যান করার কথা জানান। এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগে এখন আর তেমন আগ্রহী নয় সরকার। নতুন এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের বিরোধিতা করে নারী পরিচালকদের দায়ের করা রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মোহাম্মদ শাজাহান। বিতর্ক এড়াতে নতুন এমডি নিয়োগের বদলে তাকে ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে রেখেই ব্যাংকটি পরিচালনা করতে চায় সরকার। এতে খুব একটা আপত্তি নেই গ্রামীণ ব্যাংকের নারী পরিচালকদেরও। গতকাল মঙ্গলবার গ্রামীণ ব্যাংকের নারী পরিচালক তাহসিনা খাতুন ইত্তেফাককে বলেন, একটা সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তিনি এমডি থাকতে পারেন। কারণ তিনি প্রথম থেকে গ্রামীণ ব্যাংকে আছেন । গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়ে অনেক অভিজ্ঞ। তিনি থাকলে আমাদের কোন আপত্তি নেই। ২০১১ সালের ২ মার্চ ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি হিসেবে অবৈধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করে হেরে যান ড. ইউনূস। পরে ওই বছরের ১২ মে পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। তখন থেকেই নতুন এমডি নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটির গঠন নিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিভক্ত হয়ে পড়ে। ঋণগ্রহীতা পরিচালকরা সার্চ কমিটির প্রধান হিসেবে ড. ইউনূসকে নিয়োগ দেয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। তবে সরকার তা কোনোমতেই মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদে একমত হয়ে সার্চ কমিটি গঠন করা সম্ভব হচ্ছিল না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ সংশোধন করে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ৫ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করেন গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক। ওই কমিটি নতুন এমডি নিয়োগে গত ১৩ নভেম্বর একটি ইংরেজি দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। ওই বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ঋণগ্রহীতা নারী পরিচালকরা। এই আবেদনের পর হাইকোর্ট এমডি নিয়োগ প্রক্রিয়া দুই মাসের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।