বেতন আটকে গেছে পাঁচ হাজার গ্রন্থাগারিকের

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৩, ২২:২১
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল হওয়ার কারণে মাধ্যমিক স্তরে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া পাঁচ হাজার ২৮০ জন সহকারী গ্রন্থাগারিকের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সনদ জালের বিষয়টি ধরা পড়ার পর তাদের বেতন-ভাতা আটকে দেয়া হয়েছে। বেতন-ভাতা চেয়ে আবেদন করা ৫ হাজার ৪০১ জন সহকারী গ্রন্থাগারিকের মধ্যে মাত্র ১২১ জনের গ্রন্থাগার বিজ্ঞান বিষয়ক কোর্সের সংশ্লিষ্ট সনদ বৈধ হওয়ায় তাদের গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা দেয়া হয়েছে। নিয়োগ পাওয়ার পর এটাই তাদের প্রথম বেতন। জানা গেছে, বেতন-ভাতা আটকে দেয়া সহকারী গ্রন্থাগারিকেরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্যাম্পাসের পক্ষে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের সংশ্লিষ্ট কোর্সের সনদ জমা দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর যাচাই-বাছাই করে সনদগুলো জাল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফলে তাদের বেতন দেয়া হয়নি। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে দেশের ৫ হাজার ৪০১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে একজন করে সহকারী শিক্ষকের পদমর্যাদায় সহকারী গ্রন্থাগারিক নিয়োগ দেয়া হয়। একাধিক সূত্রের ভাষ্যমতে, মূলত দলীয় বিবেচনায় এসব নিয়োগের কথা আলোচিত হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই না করে শুধু বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এসব নিয়োগ দেয়া হয়। শুরুর দিকে এসব পদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিও ছিল না। গত ডিসেম্বর মাসে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আন্দোলনের মুখে সহকারী গ্রন্থাগারিক পদের স্বীকৃতি প্রদানসহ নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন-ভাতা দেয়ার ঘোষণা দেন। এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বেতন-ভাতা পাওয়ার জন্য পাঁচ হাজার ৪০১ জন সহকারী গ্রন্থাগারিক আবেদন করেন। এসব আবেদনের সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী তারা গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের সংশ্লিষ্ট কোর্স পাসের সনদ সংযুক্ত করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাধন বিশ্বাস ইত্তেফাককে জানান, সংযুক্ত সনদগুলোর ৭১৬টি ছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং ৪ হাজার ৬৮৫টি ছিল দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের। সনদগুলো যাচাই করতে পাঠানো হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১২১ জনের সনদ সঠিক এবং বাকি ৫৯৫ জনের সনদ সঠিক নয় মর্মে প্রত্যয়ন দেয়। এ ছাড়া দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাভার, বারিধারা, বসুন্ধরা, উত্তরা এবং ধানমণ্ডি শাখা থেকে দেয়া ৪ হাজার ৬৮৫ জনের পক্ষে সনদ দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) জানিয়েছে, এসব সনদের মধ্যে ধানমণ্ডি শাখার দেয়া ১৭১টি বৈধ বা সঠিক। বাকিগুলো সঠিক নয়। কিন্তু দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধতা নিয়ে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা চলছে। ফলে সরকার এখন এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেয়া সনদ বৈধ বলে গণ্য করছে না। সাধন বিশ্বাস বলেন, কেউ যদি সনদ সঠিক দাবি করে পুনরায় আবেদন করেন, তবে তা আবারও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, যেসব জাল সনদ ধরা পড়েছে সেসব শিক্ষক কি প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পেয়েছেন তা তদন্ত করা হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদকে বলা হবে। যদি পরিচালনা পরিষদের কোনো গাফিলতি বা অনৈতিক কাজ ধরা পড়ে সে ক্ষেত্রে পরিচালনা পরিষদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। একইসঙ্গে জাল সনদ প্রদানকারী ও গ্রহণকারী উভয়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়া হবে।