সারাদেশে হত্যাকাণ্ড ও নৈরাজ্যের দায়ভার জামায়াত-বিএনপির

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৩, ২২:২৮
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, জামায়াত আহূত হরতালে বিএনপির কেন্দ ীয় নেতাদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে, জামায়াতের নির্দেশে সারাদেশে যে হত্যা ও নৈরাজ্য চলেছে তাতে তাদের সমর্থন রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গত সোমবার পর্যন্ত সাত পুলিশসহ ৬৭ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পুলিশ ছাড়া বাকিরা দুর্বৃত্ত ও সাধারণ মানুষ। বেআইনি কার্যকলাপ চালানোর উস্কানিদাতা জামায়াত ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের এই ৬৭ জনের মৃত্যুর দায়ভার নিতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনের আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত সোমবার পর্যন্ত এসব ঘটনায় সারাদেশে ২৩৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর গ্রেফতারের সংখ্যা হচ্ছে এক হাজার ৫৭২ জন। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩০০ বিধিতে দেয়া বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। প্রায় ৫০ মিনিট স্থায়ী বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জামায়াতের দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত প্রতিটি ধ্বংসাত্মক ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি বলেন, উচ্ছৃঙ্খল জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা সশস্ত্র অবস্থায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও তাণ্ডব চালায়। এসব কর্মকাণ্ডে জামায়াত-শিবিরকে সমর্থন দেয় বিএনপি। পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে সশস্ত্র জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ১৬ পৃষ্ঠার বিবৃতিতে প্রতিটি ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ রয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুলিশ ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের পরিচয় প্রদান করা সত্ত্বেও জামায়াত-শিবিরের উচ্ছৃঙ্খল ও উন্মত্ত কর্মীরা কর্তব্যরত পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি’র ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে। তারা পুলিশের অস্ত্র লুটসহ সংখ্যালঘু ও সাধারণ জনগণের জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। সাধারণ জনগণ, কর্তব্যরত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের উপর উচ্ছৃঙ্খল জামায়াত-শিবির সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, জামায়াতের আহূত দেশব্যাপী হরতাল ও তাদের নেতা সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণাকে কেন্দ করে সৃষ্ট সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও ধ্বংসযজ্ঞ রোধে পুলিশ আইনগতভাবে পেশাদারিত্বের সাথে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছে। জামায়াত তাদের দলগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল কর্তৃক অনুসরণীয় আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে ধ্বংসাত্মক কাজে নিজেদের প্রবৃত্ত করেছে। এভাবে ধ্বংসাত্মক কাজে প্রবৃত্ত হওয়া কেবল মাত্র সরকারের নয়, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপতত্পরতা চালানোর নামান্তর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের এ ধরনের হিংসাত্মক কাজে সংশ্লিষ্টতা ও সমর্থন করে নিজেদের ফ্যাসিবাদী চরিত্র ও ধর্মান্ধতাজনিত নেতিবাচক মানসিকতার প্রকাশ ঘটিয়েছে। বিশেষ করে ভারতের রাষ্ট্রপতির সফরের সময়ে তথাকথিত হরতাল পালন ও সমর্থন করে তারা বাংলাদেশের সাথে ভারতের অকৃত্রিম বন্ধুত্বকে গোষ্ঠীগত স্বার্থরক্ষার কারণে আঘাত করেছে। পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে সারাদেশের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকার দেশে সকল প্রকারের হিংসাত্মক ঘটনা, নৈরাজ্য ও দুষ্কৃতি দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। দেশের সকল শ্রেণীর নাগরিকরা পরম সহিষ্ণুতা, ধৈর্য ও সাহসিকতা প্রদর্শন করে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় যেকোন অনভিপ্রেত ঘটনা প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে একযোগে কাজ করে তাদের নাগরিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসার জন্য তিনি আহ্বান জানান।