এসব মৃত্যুর সান্ত্বনা নেই স্বজনদের

কৌতুহলই কাল হলো বগুড়ার বাদলের

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৩, ২২:২৯
গত রবিবার জামায়াত শিবিরের ডাকা ৪৮ ঘন্টা হরতালের প্রথম দিন সকালে শহরতলীর মাটিডালি এলাকা থেকে একটি মিছিল শহরের ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা যোগ দেয়। এসময় পুলিশের সাথে জামায়াত শিবির কর্মীরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন জয়পুরপাড়ার যুবক বাদল (২২) এসময় ঘুম থেকে ওঠে। হৈ চৈ শুনে সে বুঝতে পারে পুলিশের সাথে হরতালকারীদের সংঘর্ষ হচ্ছে। সংঘর্ষ দেখার কৌতুহল দমন করতে পারে না সে। দাঁত ব্রাশ করতে করতে মূল সড়কে আসে স্বচক্ষে এই ‘লড়াই’ দেখতে। আর তখনই পুলিশের ছোড়া আচমকা একটি বুলেট এসে সব কৌতুহল চিরতরে মিটিয়ে দেয়। বাদলের নিথর দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বাদলের পিতার গ্রামের বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার উঝগ্রামে। সেখান থেকে পুত্র ও স্ত্রীকে নিয়ে শহরে আসেন। দীর্ঘদিন বগুড়া শহরের বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানিতে ছোটখাটো কাজ করে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতেন বাদলের বাবা। বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। বাদল নিজে বগুড়া নিউমার্কেটের কাপড়ের দোকানে কাজ করতো। সেইসাথে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এস এসসি ও এইচএসসি পাশ করে। বাদলের ইচ্ছা ছিল কাজের ফাঁকে পড়াশোনা করে একদিন অনেক বড় হবে। কিন্তু সব আশা শেষ। বাদলের বাবা, মা ও দু’বোন এখন শোকে মূহ্যমান । তারা কথা বলার শক্তি যেন হারিয়ে ফেলেছেন। তাদের চোখগুলো যেন ঘুরেফিরে বাদলকেই খুঁজছে। সংসারের প্রিয়মুখের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। ফোলা চোখে সবাই যেন অপেক্ষায় আছে বাদল কখন ফিরে আসবে।