চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সহিংস ঘটনায় বাংলাদেশে নিজেদের বিনিয়োগ নিয়ে চরম উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ব্রিটেন প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা। সহিংস অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্স (বিবিসিসি) এর একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফরও বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পর্যটন ও জাহাজ নির্মাণ খাতসহ বেশ কিছু খাতে বিনিয়োগ সম্ভাব্যতা যাচাই এবং পরিদর্শনের লক্ষ্যে আগামী ৯ মার্চ এ প্রতিনিধি দলটির ঢাকা আগমনের কথা ছিল। হরতালের কারণে বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য নির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোও মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লন্ডনস্থ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।
ব্রিটেনে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্য আমদানির প্রধানতম প্রতিষ্ঠান সিমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ ওবিই বলেন, গত প্রায় ২০ বছর যাবত্ তার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে খাদ্যপণ্য আমদানী করে আসছে। চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারে তাদের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলো অবস্থিত। বাংলাদেশে চলমান হরতাল এবং সহিংসতার কারণে কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা আসতে পারছে না। গত প্রায় সপ্তাহখানেক যাবত্ উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। আবার টানা হরতালের কারণে কোন পণ্যের শিপমেন্টও তারা করতে পারছেন না। এ অবস্থায় তারা শুধু আর্থিক ক্ষতির শিকারই হচ্ছেন না সেই সাথে নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি পূরণেও ব্যর্থ হচ্ছেন। ইকবাল আহমদ আরো বলেন, যে হারে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা হচ্ছে তাতে তারা নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত। তিনি চলমান পরিস্থিতিকে একটি অত্যন্ত ভয়ংকর এবং বিশৃংখল পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে আরো পিছিয়ে যাবে।
ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক এবং লন্ডনস্থ জেএমজি কার্গোর স্বত্বাধিকারী মনির আহমদ বলেন, জেএমজি কার্গো বিশ্বব্যাপী যে মালামাল সরবরাহ করে তার ৭০ শতাংশ যায় বাংলাদেশে। কিন্তু গত এক সপ্তাহে তাদের ব্যবসা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
এদিকে একই ধরনের হতাশার কথা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নূর উর রহমান খন্দকার পাশা। গত সপ্তাহে তিনি নিজস্ব কিছু ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় এসেছিলেন। কিন্তু হরতালের কারণে সফর সংক্ষিপ্ত করে তাকে ফিরে যেতে হয়েছে।
