নিজের অভিনয় দক্ষতা এবং সৌন্দর্যের দুত্যি ছড়িয়ে দর্শকদের সামনে নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন অভিনয়শিল্পী ফারজানা ছবি। শুরু থেকেই অভিনয় করছেন নানা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে। প্রতিটি চরিত্রেই নিজেকে ভেঙে আবার গড়েছেন, এর মাধ্যমেই চরিত্রের সঠিক তত্ত্ব তুলে ধরেছেন দর্শকদের সামনে। নানান ধরনের চরিত্রে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার গুণে গুণী এই শিল্পী এবার মুখোমুখি হয়েছেন আমাদের পাঁচ প্রশ্নের। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন রিয়াদ খন্দকার
কেমন যাচ্ছে আপনার সময়টা?
ব্যক্তিগতভাবে পজেটিভ কিন্তু সামষ্টিকভাবে একটু জটিল। আমার ক্যারিয়ারের পুরোটা সময়ই আমার জন্য পজেটিভ। কেননা আমি আগেও যেমন কাজ করেছি এখনও ঠিক তেমনই কাজ করে চলছি। কিন্তু বর্তমান দেশে বিদ্যমান পরিস্থিতি আমাকে অনেকটা বিমর্ষ করে তুলছে। ধর্ম সংক্রান্ত কোনো জটিলতা বা বিরোধ আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই না। কিন্তু এই উদ্ভুত পরিস্থিতি অনেকাংশে আমাদের শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবনেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। হয়তো এই সংকটময় পরিস্থিতি সহজভাবেই শেষ হবে।
বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে?
আমি আসলে বরাবরই নিজেকে দেখতে চেয়েছি ভালো কাজের একজন অভিনেত্রী হিসেবে। বর্তমানে কাজের ব্যস্ততা একটু বেশি। একক ও ধারাবাহিকে কাজ করছি সমান গতিতে। উল্লেখ্যযোগ্য ধারাহিকগুলোর মধ্যে হচ্ছে, ‘হাই সোসাইটি’, ‘একজন হাজেরার গল্প’, ‘আকাশ মেঘে ডাকা’, ‘পয়মন্ত’ ইত্যাদি। এ ছাড়া অঞ্জন আইচের একটি ধারাবাহিকে কাজ করছি। আগামীকাল মালয়েশিয়া যাচ্ছি, চারটি একক নাটকের শুটিংয়ের জন্য।
কোন ধরনের নাটকে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
অভিনয়ের সুযোগ রয়েছে এমন যেকোনো চরিত্রেই অভিনয় করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কেননা দৈনন্দিনের আশপাশের চেনা সকল চরিত্রগুলোকেই পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে আমি পছন্দ করি। আর নাটকের এই দুই ধারা আমার কাছে দু ধরনের টেস্ট। যেমন একক নাটকে একটি ঘটনাকে পুরো এক ঘণ্টাতেই তুলে নিয়ে আসতে হয় আর ধারাবাহিকে জীবনের খুঁটিনাটি নানান বিষয় সংযোগ করে। সব মিলিয়ে দুটো ধারাতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আর বর্তমানে আমাদের স্ক্রিপ্টের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। এখন আর নির্দিষ্ট প্রেম-ভালোবাসার মধ্যে আমাদের নাটক আটকে নেই। এতে জীবনঘনিষ্ঠ নানা চরিত্রেই অভিনয়ের দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব।
নাটকের মাঝে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন দেখানো সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই।
আসলে উত্তরটা অনেকটাই স্ববিরোধী হয়ে যায় তারপরও বলছি, আমাদের দেশের নাটকের গল্পগুলো বাহিরের দেশের থেকে অনেক ভালো। আমাদের কাজে অনেক সৃজনশীলতা রয়েছে কিন্তু তারপরও আমাদের এখানে নাটকে এত বিজ্ঞাপন দেখায় যে নাটকের কথা দর্শক বেমালুম ভুলে যায়। আমাদের মিডিয়ায় বরাবরই বাহিরের দেশের মিডিয়াকে বেশি ফলো করে। আইডিয়া থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই এখন কপিপেস্ট চলছে। কিন্তু নাটকে বিজ্ঞাপনের বেলায় আমরা বাইরের দেশগুলোকে ফলো করি না। অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের ফলে নাটকের স্বকীয়তা নষ্ট হয়ে যায়। আমার মতে নাটকের জন্য একটি স্পেশাল চ্যানেল করা উচিত নিউজ চ্যানেলগুলোর মতো করে। বিজ্ঞাপন বিরতির সময়টি নির্দিষ্ট করে দিলে দর্শকের মাঝে ফিরে আসার প্রস্তুতিটি তৈরি হয়।
আপনার নাগরিক আনন্দ-বেদনা কতটুকু?
মূলত আমার নাগরিক বেদনা বলতে কিছু নেই আছে কিছু অসন্তুষ্টি। হরতালের আগের দিন থেকে হরতালের দিন পর্যন্ত একটি উত্কণ্ঠা বিরাজ করছে সর্বত্র। অনেক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি আমরা সবাই। আমার বেড়ে উঠা এই শহর, আমার দেশের পতাকা, আমার দেশ সব কিছু মিলিয়েই আমরা একটি গর্বিত জাতি।
