টিভি মুখ

ভার্সেটাইল অভিনেতার গল্প

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৩, ১৮:৪৭
সুন্দর অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন জয় করেছেন ছোটপর্দার পরিচিত মুখ শাহেদ আলী। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অভিনয় করছেন নানা চরিত্রে। একই সঙ্গে মঞ্চ ও টিভি মিডিয়ার দর্শকদের উপহার দিচ্ছেন ভালো অভিনয়। সেইসাথে রড়পর্দাতেও এখন তার সরব উপস্থিতি। এই অভিনেতাকে নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ ও ছবি তুলেছেন আশীষ সেনগুপ্ত অভিনয়ের শুরুটা মঞ্চের নাটকের মাধ্যমে। পরিবারের দুই সদস্যও অভিনয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন। তার বাবা শওকত আলী মঞ্চ ও টিভিতে নিয়মিত অভিনয় করতেন। আর দাদা ছিলেন যাত্রার একজন দক্ষ অভিনেতা। নিজের অভিনয়ে আসার গল্প প্রসঙ্গে শাহেদ আলী বলেন, ‘ছোট থেকেই থিয়েটারের প্রতি ঝোঁক ছিল আমার। ইচ্ছেটা পূরণ হয় ১৯৯৭ সালে। আজাদ আবুল কালামের হাত ধরে প্রাচ্যনাটে যোগ দিই। সেই থেকে দলটির সঙ্গে এখনও আছি। তবে পর্দায় আমার অভিষেক ২০০৫ সালে, গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় মানিক বন্দোপাধ্যায়ের ‘হারানের নাতজামাই’ দিয়ে। মাঝে অমিতাভ রেজা, বদরুল আনাম সৌদ, অনিমেষ আইচ, মেজবাউর রহমান সুমন, সুমন আনোয়ারসহ অনেকের নাটকে কাজ করেছি। তবে নিয়মিত ছিলাম না। এখন নিয়মিত অভিনয় করছি।’ মাঝে গৌতম ঘোষ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মনের মানুষ’ এবং বিবিসি প্রযোজিত নাটক ‘বিশ্বাস’-এ কাজ করে সবার কাছ থেকে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। সব রকম চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার গল্প জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে যখন স্ক্রিপ্ট আসে তখন আমি পুরোটাই পড়ে ফেলি। বেশি জোর দেই আমার চরিত্রের উপর। এরপর চরিত্রটি নিয়ে ভাবি। তবে আমার চেষ্টা থাকে চরিত্রটাকে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে।’ শাহেদ আলী অভিনীত উল্লেখযোগ্য হলো মেজবাউর রহমান সুমনের পরিচালনায় ‘রেলস্টেশনের শোনা গল্প’, অমিতাভ রেজা চৌধুরীর ‘একটা ফোন করা যাবে প্লিজ’, অরণ্য আনোয়ারের ‘রূপকথা’, রবিউল আলম রবির ‘মাটনরোস্ট’, সামির আহমেদের ‘অরুণাদয়ের তুরণ দল’, অনিমেষ আইচের ‘গরম ভাত অথবা নিছক ভূতের গল্প’, গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘অবগুণ্ঠন’ ও ‘অতঃপর’। বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে শাহেদ অভিনীত তিনটি ধারাবাহিক নাটক। এগুলো হলো—এনটিভিতে আলী ফিদা একরাম তজোর ‘অঘটনঘটনপটিয়সী’, বাংলাভিশনে অরণ্য আনোয়ারের পরিচালনায় ‘কর্তা কাহিনী’ এবং এটিএন বাংলায় মাতিয়া বানু শুকু ও জুবায়ের খানের রচনা ও পরিচালনায় ‘প্রজ্ঞা পারমিতা’। এরমধ্যে এনটিভিতে প্রচারিত ‘অঘটন ঘটন পটিয়সী’ ধারাবাহিক নাটকে শাহেদ আলী ‘জ্যাক ভাই’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই নাটকে আমি একজন শেয়ার ব্যবসায়ী। আমার প্রচুর টাকা। মা’কে নিয়ে আমার আলাদা একটা জগত্। সবার উপকার করার চেষ্টা করি। সব মিলিয়ে চরিত্রটি বেশ মজার। এ রকম চরিত্রে অভিনয় করে আমার ভালো লেগেছে।’ অমিতাভ রেজার নির্দেশনায় রবি বিজ্ঞাপনচিত্রে পারফর্ম করেছেন তিনি। এ ছাড়া মেজবাউর রহমান সুমন নির্দেশনায় ‘ম্যাজিক টুথ পাউডার’ ও আদনান আল রাজীবের নির্দেশনায় একটি হ্যান্ডওয়াশের বিজ্ঞাপনচিত্রেও পারফর্ম করেছেন। বর্তমানে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিকের অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে তার। এরমধ্যে অসীম গোমেজের পরিচালনায় ‘রেডলাইন’, অরণ্য আনোয়ারের ‘বুকে তার চন্দনের ঘ্রাণ’, রায়হান আফরোজের ‘কাদামাটির মানুষেরা’, সুজন আনোয়ারের ‘অন্তরীক্ষ’। সেইসাথে কয়েকটি একখণ্ডের নাটকেরও কাজ করছেন। শুরু থেকেই শাহেদ প্রাচ্যনাটের সাথেই আছে। মঞ্চে তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো—‘দড়িয়া খোলা’, ‘সাকার্স সাকার্স’, ‘এ ম্যান ফর অল সিজনস’, ‘রাজা এবং অন্যান্য’, ‘জন্তু’, ‘কৈবল্য’, ‘বোম’, ‘ফৌজ হার্ট’, ‘তোতা কাহিনী’। এ ছাড়া মঞ্চে নির্দেশনা দিয়েছেন ‘ফাল্টাটিক মিটার ফক্স’ ২০০৫ সালে এবং ‘তুঘলক’ নামের নাটকে। তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে পুরান ঢাকায় লক্ষ্মীবাজারে। অভিনয়ে অন্তপ্রাণ এই তরুণ পড়াশোনা করেছেন সেন্ট গ্রেগ্ররী স্কুল ও নটরডেম কলেজে। নিজের অভিনীত চরিত্রগুলো সম্পর্কে বলতে গিয়ে শাহেদ বলেন, ‘অভিনয়ের জন্য চরিত্রকে বোঝা ও পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা থাকতে হবে। আমি বরাবরই কোনো একটি চরিত্রে অভিনয় করার আগে স্ক্রিপ্ট ভালোভাবে পড়ি। এরপর ওই চরিত্রটি নিজের ভেতর ধারণ করি। সেইসাথে একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী যদি পাঁচটি বিষয়কে ভেবে তার চরিত্রের অবস্থান ঠিক করে, তবে ওই চরিত্রে সহজেই রূপদান করা যায়। আর পাঁচটি বিষয় হলো—সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, শিক্ষাগত ও পারিবারিক অবস্থান।’ শুধু অভিনয়ই নয়, তিনি ভয়েস মিডিয়ার নিয়মিত শিল্পী। বিজ্ঞাপনের পে অফ লাইনে পারফর্ম করছেন। শাহেদ আলী আরো একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। অমিত আশরাফের পরিচালনায় ‘উধাও’ নামের চলচ্চিত্র মুক্তি প্রতীক্ষিত রয়েছে। অভিনয়ের ক্ষেত্রে তিনি হুমায়ুন ফরীদিকে আইডল মানেন। শাহেদের ভাষ্যে, ফরীদি ভাই শুধু অভিনেতাই ছিলেন না তিনি একজন দার্শনিকও ছিলেন। ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে শাহেদ বলেন, ‘আমার স্বপ্ন চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করা। কেননা চলচ্চিত্র একজন অভিনয়শিল্পীকে অনেকদিন বাঁচিয়ে রাখে। তাই আমি অভিনয়শিল্পী হিসেবে দর্শকহূদয়ে বেঁচে থাকতে চাই দীর্ঘ সময়। সাথে মঞ্চেও অভিনয় চালিয়ে যাব।’