আইরিশ ব্যান্ড বয়জোন। কিথ ডাফি, স্টিফেন গেটলি, মিকি গ্রাহাম, রোনান কেটিং এবং সেন লিঞ্চের হাত ধরে পথচলা শুরু করে ব্যান্ডটি। সংগীতপ্রেমী সবার হূদয়ে থাকা এই ব্যান্ডটি এখনও শ্রোতাদের মুগ্ধ করে যাচ্ছে তাদের সংগীতের জাদু দিয়ে। তাদের নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
১৯৯৩ সাল, পেপারে একটা বিজ্ঞাপন দেখে নড়েচড়ে বসল তরুণ ব্যান্ডপ্রেমীরা। কেউ কেউ তখনই তার বন্ধুদের নিয়ে ছুটে গেল প্র্যাকটিস প্যাডের দিকে। হঠাত্ করে সাড়া ফেলে দেওয়া এই বিজ্ঞাপনে নতুন একটি আইরিশ ব্যান্ডের অডিশনের খবর ছিল। ‘আইরিশ টেক দ্যাট’ মিউজিক কোম্পানির ম্যানেজার ওয়ালস এই অডিশনের আয়োজন করেছিলেন। বেশ ভালোই সাড়া ফেলেছিল বিজ্ঞাপনটি। প্রায় ৩০০ জন ব্যান্ডপ্রেমী এসে হাজির অডিশন দেওয়ার জন্য। ‘চার্লিস হুইস্পার’ গানটি দেওয়া হলো সবাইকে। শুরু হলো অডিশন পর্ব। এক এক করে ৩০০ জন থেকে বাছাইয়ের পর ৫০ জন টিকল। পরের অডিশনে ৫০ থেকে সংখ্যাটা ১০-এ নামল। সর্বশেষ অডিশনে দেখা গেল কিথ ডাফি, স্টিফেন গেটলি, মিকি গ্রাহাম, রোনান কেটিং এবং সেন লিঞ্চ টিকতে পারল। এরপর তাদের নিয়ে তৈরি হলো আইরিশ ব্যান্ড, বয়জোন। সৃষ্টির সাথে সাথেই ব্যান্ডটি ব্যাপক ঝড় তুলল মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে। তাদের ১৯টি সিঙ্গেল গান ইউকে টপ চার্টে উঠে আসে। ২০১০ সালে বিশ মিলিয়ন বিক্রির রেকর্ড করে তাদের অ্যালবাম। ২০১২-তে তাদের সাথে যোগ দেয় অ্যান্ড্রিউ ক্লস। মাঝখানে এই ব্যান্ডটিও ভেঙে গিয়েছিল। তবে তারা কখনই একা পারর্ফম করেননি কিংবা আলাদাভাবে কোনো ব্যান্ড গড়েননি। সম্প্রতি এই ব্যান্ড আবারও জোড়া লেগেছে। এটি বয়জোন-প্রেমীদের জন্য সুখবরই বটে। আয়ারল্যান্ডের এই ব্যান্ড বয়জোন চলতি বছর তাদের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছেন। উপলক্ষটি তারা উদযাপন করেন একটি সফরের মধ্য দিয়ে। যদিও অফিসিয়ালভাবে তারা কখনই নিজেদের আলাদা করেনি। সম্প্রতি ‘চিলড্রেন ফর নিড’ নামক একটি অনুষ্ঠানে আবার তারা একত্রিত হন। বর্তমানে তারা ইউকে-তে একটার পর একটা কনসার্ট করে যাচ্ছেন। শীঘ্রই তাদের নতুন অ্যালবাম বের হতে চলেছে। ‘নো ম্যাটার হোয়াট’ জনপ্রিয় আইরিশ ব্যান্ড বয়জোনের গাওয়া একটা সিঙ্গেল। গানটা ১৯৯৮ সালে রিলিজ হওয়া মিক্সড অ্যালবাম ‘হুইসেল ডাওন দ্য উইন্ড’-এ প্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে গানটা বয়জনের ‘হ্যোয়ার উই বিলোং’ অ্যালবামেও যুক্ত করা হয়। সর্বশেষ ২০০৮ সালে রিলিজ হওয়া বয়জোনের কম্পাইলেশন অ্যালবাম ‘ব্যাক অ্যাগেইন... নো ম্যাটার হোয়াট’-এ গানটা মূল গান হিসেবে এসেছে। সরাসরি কোনো অ্যালবামে না এসে, শুধু একটা সিঙ্গেল হিসেবে প্রথম প্রকাশিত গানগুলোর মধ্যে এই গানটা রীতিমতো ইতিহাস সৃষ্টি করে ফেলেছিল। ১৮টি দেশের টপ চার্টে গানটা প্রথম স্থান দখল করতে সক্ষম হয়। ১৯৯৮ সালে ইউকের সেরা গান হিসেবেও গানটা নির্বাচিত হয়েছিল। গত বছর ২৬ জানুয়ারি লন্ডনের ওটু এরিনায় অনুষ্ঠিত এক কনসার্টে বয়জোন ব্যান্ডের সদস্য রোনান কিটিন তার সহকর্মী শেন লিনচের সঙ্গে এক মঞ্চে পরিবেশন করেন। লিনচ তাদের ব্যান্ডের আসন্ন কনসার্ট সম্পর্কে সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তরুণীরা বছরের ওই সময়ে ফুল এবং চকলেট উপহার পেয়ে থাকে। তবে এবার তারা বয়জোনের কনসার্টের টিকিট পাবারও সুযোগ পাবে।’ এর আগে ২০০৯ সালে বয়জোন ব্যান্ডের সদস্য স্টিফেন গেটলির মৃত্যুর পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে কিছুদিন আগে লন্ডন এবং আয়ারল্যান্ডে একটি ট্যুরের আয়োজন করেছিল ব্যান্ডটি। এর মূল উদ্দেশ্য ছিলো তার সর্বশেষ অ্যালবাম ‘ব্রাদার’-এর ক্যাম্পেইন করা।
