হলিউড

এ যুগের রবার্ট ডি নিরো

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৩, ১৮:৪৮
টাইটানিক খ্যাত অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও বরাবরই তার অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দুনিয়া মাতিয়েছেন। সম্প্রতি টরেন্টিনোর সিনেমা ‘জ্যাঙ্গো আনচেইন্ড’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করলেন নিজের যোগ্যতা। লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম আমেরিকায় তখন দাস প্রথা চলছে। ছবিতে এক জার্মান দন্ত চিকিত্সক ও বাউন্টি হান্টার হিসেবে অভিনয় করছেন ক্রিস্টোফার। বাউন্টি হান্টিংয়ের জন্য মুক্তি দেওয়া হয় এক দাসকে যার নাম, জ্যাঙ্গো। একসময় সেই চিকিত্সক এবং জ্যাঙ্গো একসাথে জুটিবদ্ধ হয়ে কাজ করতে শুরু করেন। তারা এরপর যান জ্যাঙ্গোর স্ত্রীকে মুক্ত করার জন্য। ক্যান্ডিল্যান্ডের বিখ্যাত ব্যবসায়ীর কাছে বন্দি সে। আর এখানে সেই ব্যবসায়ীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন লিওনার্দো। আর প্রথমবারের মতো নেতিবাচক চরিত্রে দেখা গেছে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওকে। ছবিতে কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের প্রতি নিষ্ঠুর এক র্যাঞ্চার হিসেবেই অভিনয় করেন তিনি। যিনি তার বাড়ির পুরুষ দাসদের নিজেদের মধ্যে লড়াই এবং মেয়েদের পতিতাবৃত্তিতে নামিয়ে অর্থ উপার্জন করেন। স্যামুয়েল এল জ্যাকসন অভিনয় করেছেন লিওনার্দোর দাসদের নিয়ন্ত্রক হিসেবে। এক পালিয়ে যাওয়া দাস, এক জার্মান বাউন্টি হান্টার এবং এক নির্দয় দাস ব্যবসায়ী নিয়েই এগিয়ে চলে সিনেমার গল্প। প্রথমে কোয়ান্টিন টরেন্টিনোর ‘জ্যাঙ্গো আনচেইন্ড’ ছবির মূল চরিত্র জ্যাঙ্গো হতে চেয়েছিলেন উইল স্মিথ। তার পেছনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শন কম্বস, ফিফটি সেন্ট, অ্যাকনসহ আরও কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ তারকা। টরেন্টিনোর প্রথম পছন্দও ছিলেন উইল স্মিথ। দুজনে ছবি নিয়ে আলোচনাও করেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ছবির অতিরিক্ত সহিংসতার ব্যবহার কমানোয় টরেন্টিনোকে রাজি করাতে না পেরে সরে আসেন উইল স্মিথ। আর তার বদলে জ্যাঙ্গো হয়েছেন ‘কোলাটরেল’ তারকা জমি ফক্স। এবারে জেনে নেওয়া যাক লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও সম্পর্কে কিছু কথা। লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও একজন মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেতা। তিনি তিনবার একাডেমি পুরস্কার ও দুইবার বাফটা অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন লাভ করেছেন এবং একবার গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন। তিনি বিশ্বব্যাপী বিপুল পরিচিত লাভ করেন ‘টাইটানিক’ চলচ্চিত্রে জ্যাক ডসন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। এরপর তিনি অনেকগুলো সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন যার মধ্যে মার্টিন স্কোরসেজির ছবিগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্কোরসেজি তার শেষ তিনটি ছবিতেই ডিক্যাপ্রিওকে নিয়েছেন। এগুলো হচ্ছে ‘গ্যাংস অব নিউ ইয়র্ক’, ‘দ্য এভিয়েটর’ এবং ‘দ্য ডিপার্টেড’। ২০০৬ সালে তিনি সেরা অভিনেতা হিসেবে অস্কার মনোনয়ন পান ‘ব্লাড ডায়মন্ড’-এর জন্য। অনেকে তাকে এ যুগের রবার্ট ডি নিরো বলে আখ্যায়িত করেন, কারণ স্কোরসেজি আগে প্রায় সব ছবিতেই নিরোকে নিতেন, আর এখন নিচ্ছেন ক্যাপ্রিওকে। তার পরিচয় পর্বের এই জায়গায় এসে জেনে নেওয়া যাক সিনেমা জগতের বাইরে তার সম্পর্কে কিছু কথা। গত বছর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে ‘ওয়ার্ল্ড গ্রিনেস্ট সেলিব্রেটি’ নির্বাচিত হয়েছিলেন ‘টাইটানিক’ খ্যাত নায়ক লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। গত বছর ২২ এপ্রিল ‘বিশ্ব ধরিত্রী দিবস’ উপলক্ষে গ্রিনডেইলিডটকম ও বেবোডটকম নামের দুটি ওয়েব সাইট যৌথভাবে এই ভোটের আয়োজন করে। কনট্যাক্টমিজউজিকডটকম-এর মাধ্যমে আরও জানা যায়, পুরুষ তারকাদের মধ্য থেকে বুনো, ব্র্যাডপিট, এড বেগলি জুনিয়র-কে পরাজিত করে সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবেশ বান্ধব তারকা হিসেবে নির্বাচিত হন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। এ ছাড়াও হলিউডি এই অভিনেতা বাঘ রক্ষার জন্য ১০ লাখ আমেরিকান ডলার অনুদানও দিয়েছিলেন। রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক বাঘ সম্মেলনে অংশ নিয়ে এ ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। ‘টাইটানিক’ ও ‘ইনসেপসন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করা প্রখ্যাত এ অভিনেতা বিশ্ব বন্য প্রাণীবিষয়ক তহবিলে ১০ লাখ ডলার দেন। চলতি বছর বাঘ বাঁচাও আন্দোলন সংস্থার সঙ্গে প্রচারাভিযানও চালাচ্ছেন ডিক্যাপ্রিও।