প্রত্যাশিত বড় জয় পেল না বাংলাদেশ

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৩, ২১:৩৬
বাংলাদেশের বিপক্ষ নর্দার্ন মারিয়ানা। অথচ নেপালের কোচ যুক্তরাষ্ট্রের জ্যাক ষ্টেফানসকি গতকাল বুধবার নর্দার্ন মারিয়ানার ড্রেসিং রুমে গিয়ে তাদের পরামর্শ দিলেন কিভাবে বাংলাদেশকে ঠেকানো যায়, গোল বন্যা যেন না হয়। বাংলাদেশের ফুটলাররা বিরতির সময়ও নেপালের কোচকে নর্দার্ন মারিয়ানার ড্রেসিং রুমে ঢুকতে দেখেছেন। বাংলাদেশ অবশ্য কালকের এ খেলায় নর্দার্ন মারিয়ানাকে গোল বন্যায় ভাসাতে পারেনি। তাই খেলা শেষে বাংলাদেশের ৪-০ গোলের জয়ে দারুণ খুশি নেপালের দর্শকরা। অপরদিকে খেলোয়াড়দের পারফর্মেন্স দেখে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হন বাংলাদেশের ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ। তিনি আরো বেশি গোল প্রত্যাশা করেছিলেন। বিশেষ করে নেপাল ও ফিলিস্তিনের কাছে নর্দান মারিয়ানার যথাক্রমে ছয় ও নয় গোল হজম করার পর। চ্যালেঞ্জ কাপের ‘ডি’ গ্রুপে দুর্বল নর্দার্ন মারিয়ানাকে পেয়েও বাংলাদেশের ফুটবলাররা নিজেদের খেলাটাই ভুলে গেলেন। আগের দুই ম্যাচে ফিলিস্তিন এবং নেপালের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়েছেন দশরথের মাঠে এদিন তার ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। অথচ প্রথম মিনিটেই গোলের সূচনা করেছিল বাংলাদেশ দল। মিঠুনের কাছ থেকে বল পেয়ে হেডে গোল করে আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথম গোলের দেখা পান তকলিস আহমেদ (১-০)। সঙ্গত কারণেই দর্শকরা ভাবছিলেন গোলের বন্যা বইবে। কিন্তু তা না হয়ে চার গোলেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। কোমল, রনি, মামুনুল ইসলাম, সোহেল, তকলিসরা বড় বেশি বাজে খেলছিলেন। ১১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন স্ট্রাইকার শাখাওয়াত হোসেন রনি। তার শট গোলকিপার ইয়োহানের পায়ে লাগে। প্রথমার্ধে ১১টিসহ মোট ২১টি কর্নার পেয়ে একটিও কাজে লাগাতে পারেননি খেলোয়াড়রা। নর্দার্ন মারিয়ানার ফুটলাররা দীর্ঘকায়। তাই তাদের সাথে লড়াইয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা আকাশচারী বলে বার বার গোলের ব্যর্থ চেষ্টা চালালে তা দর্শকদের বিরক্তি কুড়ায়। নর্দার্ন মারিয়ানার ফুটবলাররা আক্রমণের পরিবর্তে কম গোল হজমের রক্ষণাত্মক কৌশলের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। এ কারণেই বাংলাদেশ আক্রমণে উঠলে ডি বক্সে বিপক্ষের ১০ জন ফুটবলার দাঁড়িয়ে পড়ে সামাল দেয়ার চেষ্টা চালায়। গোলরক্ষক সোহেল ছাড়া সবাই বিপক্ষের পোস্টে ঢুকেও সুবিধা করতে পারেনি। কেননা বলে শট নিলেই বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের গায়ে লাগে না হয় গোলকিপার ইয়োহায়েন ধরে ফেলেন। ইয়োহায়েন ১৪টা শট রুখে দেন। এ কারণেই ৪৪ মিনিটে স্ট্রাইকার রনি (২-০), ৮৩ মিনিটে আবারও তকলিস (৩-০) এবং ৮৯ মিনিটে লিংকনের দেয়া গোলটি (৪-০) নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশ দলকে। অবশ্য নর্দার্ন মারিয়ানার উইলিয়াম ওটোর ৬৮ মিনিটে নেয়া একটি শট গোলকিপার সোহেলকে পরাস্ত করলেও তা পোস্টে লেগে ফিরে আসে। বাংলাদেশ ঃ সোহেল, লিংকন, নাসিরউদ্দিন, মিশু, মামুনুল ইসলাম, মিঠুন চৌধুরি (রায়হান হাসান), কোমল (শাকিল), সোহেল রানা, তকলিস এবং রনি। রেফারি ঃ আমিরুল ইজওয়ান বিন ইয়াকুব (মালয়েশিয়া)।