ফার্গুসনকে হারালেন মরিনহো

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৩, ২১:৩৭
গোটা ক্যারিয়ার জুড়ে সমালোচনা কম সহ্য করতে হয়নি তাকে। তবে তিনি যে ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ সেটা আরেকবার প্রমাণ করলেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগীজ কোচ হোসে মরিনহো। টানা দুটি এল ক্ল্যাসিকো জয়ের পর এবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তার দলের কাছে হারতে হল স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের রেড ডেভিলদের। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জয়সূচক গোলে মঙ্গলবার রাতে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলো স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। স্যান্টিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগের ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র ছিল। ফলে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ মহাগুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় দু’দলের জন্য। আর এ ম্যাচে বিজয়ী দলই পৌঁছে যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। আর তাতে বাজিমাত করলো রিয়ালই। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠে শুরুটা ভালো হয়নি রিয়াল মাদ্রিদের। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের ২১ মিনিটেই সফরকারীদের পরীক্ষায় ফেলে ইউনাইটেড। ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার রায়ান গিগসের দর্শনীয় ক্রসে হেডও নিয়েছিলেন ড্যানি ওয়েলব্যাক। কিন্তু সেই হেড দক্ষতার সঙ্গেই প্রতিহত করেন রিয়ালের স্প্যানিশ গোলরক্ষক ডিয়েগো লোপেজ। এরপর ম্যাচের প্রথমার্ধে আরও কয়েকবার সাধারণমানের আক্রমণ করে স্কোর লাইনে পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি স্বাগতিকরা। সেইসঙ্গে পারেনি রিয়ালও। কোন গোল ছাড়াই শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে বল গড়ানোর তিন মিনিটের মধ্যেই রিয়ালের স্প্যানিশ ডিফেন্ডার সার্জিও রামোসের ভুলে গোলের আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। পর্তুগালের মিডফিল্ডার ন্যানির দুর্দান্ত এক শট ফেরাতে গিয়ে নিজ জালেই বল পাঠান রিয়ালের রামোস। ফলে আত্মঘাতী গোলের কল্যাণে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। এই গোলের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতে বড় ধরনের ধাক্কা খেতে হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। গোল হজমের ধাক্কা নয়, ন্যানিকে হারানোর ধাক্কা। ৫৬ মিনিটে বল মারতে গিয়ে রিয়ালের স্প্যানিশ ডিফেন্ডার আলভারো আরবেলোয়ারের বুকের উপরে পা উঠে গেলে লাল কার্ড দেখতে হয় ম্যান ইউ’র ন্যানিকে। ফলে দশজনের দলে পরিণত হয় স্বাগতিকরা। আর এই সুযোগে ম্যান ইউ’কে চেপে ধরে রিয়াল। চেপে ধরার ফল খুব দ্রুতই হাতেনাতে পেয়ে যায় সফরকারীরা। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে ইউনাইটেডের জালে দুই গোল দিয়ে ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল। ৬৬ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার লুকা মড্রিচের গোলে ম্যাচে সমতা পায় রিয়াল। এরপর ৬৯ মিনিটে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুইয়েনের সহায়তায় গোল করে রিয়ালকে প্রথমবারের মত ম্যাচে এগিয়ে দেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, চালকের আসনে বসে রিয়াল। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধান ধরে রেখে জয়ের স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়ে লস ব্লাঙ্কোস। সেইসঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যায় রিয়ালের। জয়ের পরও মরিনহো ছিলেন তার স্বভাবমতোই পাগলাটে। তিনি বলেন, ‘ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সেরা দলই হেরেছে। এ ধরনের ফুটবল খেলে আমরা কখনোই জয়ের আশা করতে পারি না।’ জয়ের নায়ক রোনালদোকে নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন হোসে মরিনহো। রোনালদোতে মুগ্ধ এই কোচ বলেন, ‘আমার ধারণামতে সে বিশ্বের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। আমি ম্যারাডোনাকে খুব কম দেখেছি, পেলেকে দেখিনি, তবে রোনালদো এক কথায় অসাধারণ। এই রাতের অপর ম্যাচে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ৩-২ গোলে হারায় শাখতার দোনেস্ককে। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ গোলের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করলো জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।