আগের দিন বৃষ্টি হয়েছে। রাতেও ঝুম বৃষ্টি ছিল। অথচ সকাল হতেই বৃষ্টি উধাও; সেই সঙ্গে সমুদ্রকূলের ভয়াবহ আর্দ্রতাজনিত গরম! ভারত মহাসাগরের কূলের ‘দুর্গনগরী’ গলের চরিত্রই এমন—এই ঠান্ডা, এই গরম। বিশ্বের বেশিরভাগ ক্রিকেটার গলের এই চরিত্রের সঙ্গে কমবেশি পরিচিত। কিন্তু ঘটনাচক্রে প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কার এই শহরটির এই চরম আবহাওয়ার সঙ্গে এই প্রথম পরিচয় হচ্ছে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের।
আগামীকাল এই গলেই প্রথম টেস্ট শুরুর ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। আর এই অভিযান শুরুর আগে আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেয়াটাকেই প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। অন্তত দলের হয়ে কথা বলতে আসা ইলিয়স সানি তেমনই মনে করছেন। মাতারার অনুশীলন ম্যাচ থেকে বাংলাদেশ ব্যাটিং-বোলিং নিয়ে বেশ তৃপ্তি নিয়েই এসেছে। তবে সানি বলছেন, এখন তাদের আসল দুশ্চিন্তা পেস বোলিং আর আবহাওয়া।
আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার সংকটে বাংলাদেশ মাতারাতেও পড়েছিল। প্রায় একইরকম সমুদ্রতীরবর্তী আবহাওয়া ছিল সেখানেও। মাতারাতেও অনুশীলন ম্যাচের একটা দিন হারিয়ে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। ফলে সানিরা বুঝতে পারছেন যে, এই প্রাকগ্রীষ্মে শ্রীলঙ্কা সফরে বৃষ্টি ও গরম হবে তাদের প্রধান ‘শত্রু’।
তবে এই আবহাওয়াকেও জয় করে অনুশীলন ম্যাচ থেকে তৃপ্তি নিয়ে এসেছে বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা। মাতারার অনুশীলন ম্যাচে মিডল অর্ডার, লোয়ার মিডল অর্ডারের প্রায় সব ব্যাটসম্যানই রান পেয়েছেন। ওই ম্যাচের ফলে বরং একাদশ নির্বাচনে মধুর সমস্যায় পড়ে যাওয়ার কথা ম্যানেজমেন্টের। অনেকটাই বাইরে থেকে এসে দুর্দান্ত দুটো ইনিংস খেলেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল ও মোমিনুল হক। দলকে তৃপ্তিতে রেখেছে সোহাগ গাজী ও সানির বোলিংও। সানি নিজেও স্বীকার করছেন এই তৃপ্তির কথা। তবে দুশ্চিন্তার কথাটাই বেশি করে বললেন, ‘অনুশীলন ম্যাচ থেকে আমাদের ব্যাটসম্যানরা দারুণ আত্মবিশ্বাস পেয়েছে। তাদের ব্যাটিং অনুশীলনটা ভালো হয়েছে। স্পিনাররাও ভালো ফর্মে আছে। কিন্তু সমস্যা হল, টেস্টে ভালো করতে গেলে পেসারদের একটা ভালো শুরু এনে দিতে হবে। সেটা এখনও হচ্ছে না। আশা করছি, টেস্টেই সেটা করতে পারবে রুবেলরা।’
রুবেলরা ভালো করতে না পারলেও যে আশরাফুলরা ভালো করেছেন; তাদের ঘিরেই স্বপ্ন বুনছে এখন বাংলাদেশ। প্রাথমিক দলেও না থেকে শাহরিয়ার নাফীসের ইনজুরিতে দলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা এসেছেন আশরাফুল। এসেই প্রিয় প্রতিপক্ষকে পেয়ে সেঞ্চুরি করে হাত ঝালিয়ে নিয়েছেন।
আগের দিনই সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, নিজেকে পরিণত এক চেহারায় এই শ্রীলঙ্কা থেকেই বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চান আশরাফুল। সেই চাওয়াতে উইকেট আর শ্রীলঙ্কার পরিচিত কন্ডিশন একটা ভূমিকা রেখেছে বলে মানছেন, ‘শ্রীলঙ্কায় আমার অনেক ভালো স্মৃতি আছে। আমি গত ১০-১২ বছরে যে সুযোগ পেয়েছি, সে তুলনায় ভালো কিছু করতে পারিনি। এখন এই শ্রীলঙ্কা থেকেই নিজেকে পরিণত চেহারায় তুলে ধরতে চাই। অনুশীলন ম্যাচে সেঞ্চুরি পাওয়ায় আত্মবিশ্বাসটা বেড়েছে। উইকেটটাও ব্যাটিং করার জন্য ভালো ছিল।’ উইকেট ভালো থাকলেও একজন তরুণ ব্যাটসম্যানের জন্য শ্রীলঙ্কা সফরে এসে প্রথম ইনিংসে বড় একটা ইনিংস খেলাটা যে কঠিন সেটা জানেন আশরাফুল। সেই কাজটিই তার সঙ্গী, তরুণ মোমিনুল হক করেছেন। তাই আশরাফুলের কণ্ঠে মোমিনুলের প্রশংসাই ঝরল, ‘ও এমনিতেই সব ফরম্যাটেই খুব ভালো সময় কাটাচ্ছে। উইকেটে সময় কাটানোর একটা প্রবণতা আছে। সেটাই এদিন আবার করে দেখিয়েছে।’
আশরাফুল যখন মোমিনুলের প্রশংসা করছেন; এক রানের জন্য সেঞ্চুরি না পাওয়া মোমিনুল তখন মুগ্ধ আশরাফুলের সঙ্গে লম্বা সময় ব্যাটিং করতে পেরে, ‘উনি আমার খুব পছন্দের ব্যাটসম্যান। কিন্তু কোনো লেভেলেই এর আগে ওনার সঙ্গে ব্যাট করিনি। এবার সে অভিজ্ঞতাটা হল। আশা করি এই অভিজ্ঞতাটা সামনে কাজে লাগবে।’
সেই আশা বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদেরও।
