দেশব্যাপী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর জামায়াত-শিবিরের হামলা, নির্যাতন, বাড়িঘর ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গতকাল বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জামায়াত-শিবির যেভাবে সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের উপর নির্যাতন-হামলা করছে তা পাকিস্তানি যুগকেও হার মানিয়ে দিয়েছে। হামলায় জড়িত ‘সন্ত্রাসীদের’ অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি তিনি দাবি জানান।
এর আগে গতকাল সকালে মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল যোগ দিলে তা বিশাল আকারে রূপ নেয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একটি বিশাল জাতীয় পতাকা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল শেষ করেন।
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আ ব ম ফারুক, স্যার এ এফ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আজিজুর রহমান, জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক অজয় কুমার দাস, শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অহিদুজ্জামান, নীল দলের আহবায়ক অধ্যাপক ইমামুল হক, ড. শফিউল আলম ভুঁইয়া, ড. আবুল মনসুর আহমেদ, ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত ও শিবিরের কর্মীরা অমানুসিক নির্যাতন চালিয়েছে। ইতোমধ্যেই তারা সংখ্যালঘুদের প্রায় দুইশ’ বাড়ি-ঘর ও একশ’ উপাসনালয় ভাঙচুর করেছে। জামায়াত দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
