আমার মেয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল প্রভাতী শাখার একজন শিক্ষার্থী। গত বছর পঞ্চম শ্রেণিতে স্কুলের প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় এবং চূড়ান্ত মডেল টেস্টে তার শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিল। শুধু তার শাখায়ই নয়, পঞ্চম শ্রেণির পাঁচটি শাখা মিলে তার নম্বরই ছিল সর্বোচ্চ। তার ভাষ্যমতে, তার পিএসসি পরীক্ষাও খুবই ভালো হয়েছে। পাস ফল ছিল জিপিএ-৫। কিন্তু দুঃখের বিষয় বোর্ডের বৃত্তির তালিকায় তার নাম নেই। তার সঙ্গের অনেক মেধাবী ছাত্রীর একই দশা। আমার মেয়েটি অনেক কেঁদেছে। কিন্তু তাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমার ছিল না। ওর কান্নার কাছে আমি ছিলাম অসহায়। স্কুলের শিক্ষিকার সঙ্গে যোগাযোগ করে লটারির কথা জানলাম। ২০১১ সালের ফলাফলের সময়ও আমরা লটারির কথা শুনে ছিলাম। আমার প্রশ্ন হলো—খাতা দেখার পর একটা বিষয়ভিত্তিক নম্বরপত্র নিশ্চয়ই তৈরি করা হয়। তাহলে সেটা পরীক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে না কেন? পরীক্ষার নামে কেন এ প্রহসন? পরীক্ষার্থীদের শুধু A+ এর সনদপত্র দেয়া হচ্ছে। একজন পরীক্ষার্থী ৮০ পেলেও A+, আবার ৯৫ পেলেও A+। তাহলে A+ দিয়ে কি একজন পরীক্ষার্থীর সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে? জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় একজন পরীক্ষার্থী যদি তার মেধা ও শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন না পায় তাহলে সে পড়ালেখার উত্সাহ হারাবে। তাই মেধার সঠিক মূল্যায়নের ব্যাপারে এখনই পদক্ষেপ নেয়া দরকার। পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় শুধু A+ এর সনদপত্র না দিয়ে নম্বরপত্র দেয়া হোক এবং এ নম্বরপত্রের ভিত্তিতে মেধানুসারে মেধাবৃত্তির ফলাফল প্রকাশ করা হোক।
সাহানা কবির, সিদ্ধেশ্বরী রোড, ঢাকা
