গত রবিবার সকালে মাহাবুব প্রতিদিনের মতো মাঠে ইরি ধানের ক্ষেতে গিয়েছিল কাজ করতে। কিছুক্ষণ পর সে দেখতে পায় খানপুর রইছপুর এলাকায় তাদের বাড়ীর দিকে বিজিবির সাথে জামায়াত শিবিরের কর্মীদের ‘গণ্ডগোল’ হচ্ছে। এসময় সে মাঠের কাজ ফেলে গণ্ডগোল ‘দেখতে’ গোলযোগস্থলের দিকে রওয়ানা হয়। ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই তুমুল সংঘর্ষ বাধে। এসময় বিক্ষোভকারীদের উপর বিজিবি গুলি চালালে একটি গুলি লাগে মাহাবুবের বুকে। গ্রামের আরো তিনজন আহত হয়। আহত অবস্থায় তাকে বাড়িতে নেয়ার সময় সে মারা যায়।
মাহাবুবের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না পরিবার। তার ছয় বছরের শিশুপুত্র ছাদিক এখনো রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে আব্বুর ফিরে আসার অপেক্ষায়। বৃদ্ধ বাবা, মা, স্ত্রী ও স্বজনদের কাঁদতে কাঁদতে বার বার মুর্ছা যেতে দেখা যায়। এলাকার অনেকেই সান্ত্বনা দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। অবুঝ ছাদিক জানেনা তার বাবা চলে গেছে না ফেরার দেশে। স্ত্রীর দাবি, মাহাবুব কোনও দলের রাজনীতি করতো না। তারপরেও তাকে মরতে হলো। এখন তাদের সংসার কিভাবে চলবে ভেবেই দিশেহারা তিনি।
