ওলামা-মাশায়েখরা বলেছেন, কিছু ইমাম নামধারী জামায়াত-শিবিরের সমর্থক সাধারণ মানুষের মাঝে ইসলাম সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা দিচ্ছে। এ ব্যাপারে জনগণকে পরিষ্কার ধারণা দেয়া দরকার। প্রয়োজনে দেশের প্রত্যেকটি মসজিদে ইমামদের পর্যবেক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে লোক পাঠাতে হবে। যাতে তারা জামায়াতের পক্ষে মিথ্যা বলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে। যতক্ষণ পর্যন্ত না নিশ্চিত হওয়া যাবে জামায়াত-শিবিরের কর্মী ততক্ষণ পর্যন্ত সারাদেশে কোন ওলামা-মাশায়েখকে গ্রেফতার করা যাবে না। এ নিশ্চয়তা দিলে সারাদেশের মসজিদে মসজিদে ওলামা-মাশায়েখ মঞ্চ তৈরি করে জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করবো আমরা। একইসঙ্গে জামায়াত-শিবিরের পক্ষে সাধারণ মানুষের মাঝে ইসলাম সম্পর্কে যে অপব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে তার সঠিক ব্যাখ্যা আমরা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারবো।
গতকাল বুধবার ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ওলামা-মাশায়েখরা এসব কথা বলেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, গণআজাদী লীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস, সংসদ সদস্য র আ ম ওবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী প্রমুখ।
ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা বাহাদুর শাহ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যেক মসজিদে লোক পাঠানো দরকার। যাতে কোন ইমাম জামায়াতের পক্ষে মিথ্যা বলে এবং ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্তি না ছড়াতে পারে। যেকোন মূল্যে জামায়াত-শিবিরের সকল অপতত্পরতা আমাদেরকে রুখতে হবে। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করতে আলেম সমাজকে নিয়ে একটা সমাবেশ করা দরকার। এ সমাবেশের মাধ্যমে জামায়াত-শিবির ইসলাম সম্পর্কে যে অপব্যাখ্যা সাধারণ মানুষকে দিচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার করা দরকার।
ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের মহাসচিব মাওলানা মনিরুজ্জামান রাব্বানি বলেন, অন্যায় করে জামায়াত-শিবির। অথচ এর গ্লানি বহন করতে হয় আমাদের। তাদেরকে সেই সুযোগ দেয়া যাবে না। যেখানে জামায়াত-শিবির সেখানেই তাদের প্রতিহত করতে হবে।
এছাড়া বৈঠকে সারাদেশ থেকে আসা ওলামা-মাশায়েখদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
