শাহবাগের এতো ধৃষ্টতা ঠিক না

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৩, ২২:৫৪
শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে যা হচ্ছে তা মেনে নেয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, দেশের কোথায় পতাকা উড়বে, সে ঘোষণা তারা দেয়ার কে? তারা কি সরকার হয়ে গেছে? এতো ধৃষ্ঠতা ঠিক না। তারা যা করছে, তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের ইমানুয়েলস কনভেনশন সেন্টারে আলেম ওলামাদের জাতীয় ওলামা পার্টিতে যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এরশাদ বলেন, ‘দুঃখ হয় শাহবাগ চত্বরের কথা চিন্তা করে। আমি তরুণ প্রজন্মের প্রশংসা করি। কিন্তু তারা যা করছে, তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধু ছিলেন নির্বাচিত ও অবিসংবাদিত নেতা। তিনি যেটা নির্দেশ দিয়েছিলেন, বাংলার মানুষ রক্ত দিয়ে তা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, তোমরা কি বঙ্গবন্ধু হয়ে গেছ? তোমরা কি নির্বাচিত নেতা? তোমরা নির্দেশ দাও কীভাবে? শাহবাগের তরুণরা জাতিকে আদেশ-নির্দেশ দিচ্ছে এবং তাদের এই আদেশ-নির্দেশ জাতীয় পার্টি মেনে নেবে না। এটি কেবল রাষ্ট্র দিতে পারে। জাতীয় পার্টির ওলামা দলে যোগদানকারী আলেমরা এ সময় এরশাদকে ইসলাম ধর্ম রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। জবাবে এরশাদ বলেন, ‘যারা ইসলামের বিরুদ্ধে, মহানবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে কথা বলবে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করা হলে দেশে রক্ত গঙ্গা বয়ে যাবে বলেও হুঁশিয়ার করেন এরশাদ। তিনি বলেন, যারা ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম। আমরা জয়ী হবোই। চুপ করে থাকলে চলবে না। উচ্চকণ্ঠে আওয়াজ তুলতে হবে। দেখবেন সব ভেসে যাবে। এরশাদ বলেন, গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলা হয় লন্ডনকে। সেখানেও ধর্মভিত্তিক দল রয়েছে। এমনকি ভারতেও ধর্মভিত্তিক দল রয়েছে। তাহলে আমাদের দেশে সমস্যা কেন? যাদের ইসলাম ভালো লাগে না তারা ধর্মান্তরিত হয়ে যান, নয়তো অন্যদেশে চলে যান। বাংলাদেশেই প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলেও দাবি করেন এরশাদ। তিনি বলেন, আমেরিকায় বাইবেল ছুঁয়ে শপথ করতে হয়। বাংলাদেশে কোরআন ছুঁয়ে শপথ করতে হয় না। আমরাই উদার। এইচএম এরশাদ বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের জন্য অনেকেই রাতে টেলিভিশনের টক শোতে কথা বলছেন। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘সাহস থাকলে গণভোট দিন। দেখবেন ৯০ ভাগের বেশি মানুষ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখার পক্ষে কথা বলবেন।’ জাতীয় ওলামা পার্টির আহ্বায়ক মওলানা ক্বারী মু. হাবিবুল্লাহ বেলালীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ, এমএ হান্নান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) কাজী মাহমুদ হাসান, কাজী ফিরোজ রশীদ, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, এমএ জব্বার এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, এবিএম তাজুল ইসলাম চৌধুরী, সুনীল শুভরায় প্রমুখ। বরিশালের বাকেরগঞ্জ, গাজীপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে কয়েক শ’ আলেম-ওলামা এরশাদের হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় ওলামা পার্টিতে যোগ দেন।