ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা চলতে পারে না। আমরা ব্যবসায়ীরা বিপদের মধ্যে আছি। আমরা জিম্মি হয়ে আছি। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অর্থনীতি। এর সমাধান খুঁজতে হবে। দুই নেত্রীর মুখ দেখাদেখি বন্ধ, এভাবে চলতে পারে না।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে হরতাল চলতে পারে না। এর বিকল্প কিছু খোঁজা হচ্ছে। এছাড়া দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও নৈরাজ্য পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা, বাজেট ও পদ্মা সেতুসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। আইন করে হরতাল বন্ধের জন্য প্রয়োজনে গণভোট করার প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া চলমান সংকট নিরসনে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মধ্যস্থতারও প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। কাজী আকরাম আরো উল্লেখ করেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছি। আপনাকেও (অর্থমন্ত্রী) বলেছি। আলোচনায় বসতে হবে। আপনারা অনুমতি দিলে আমরা উদ্যোগ নিয়ে বিরোধী দলীয় নেত্রীর কাছে যাব। একজন আরেকজনের দিকে মুখ ঘুরিয়ে রাখলে হবে না। সরকারকেই আহ্বান জানাতে হবে এবং বিরোধী দলীয় নেত্রীকেও সেই আহ্বানে সাড়া দিতে হবে। সরকারের সম্মতি পেলে আমরা বিরোধী দলীয় নেত্রীর কাছেও যাব।
এ সময় এফবিসিসিআই সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, হরতাল নৈরাজ্য চলতে পারে না। আইন করে হরতাল বন্ধ করতে হবে। সেটি করা না গেলে গণভোট দিতে হবে, জনগণ হরতাল চায় কিনা। হরতাল দিয়েও সবাই শেষে গিয়ে আইনের আশ্রয় নেয়।
তিলকে তাল করেছে সংবাদ মাধ্যম : অর্থমন্ত্রী
চলমান সহিংসতাকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবাদ মাধ্যমে যতটা প্রচার করা হয়েছে ঠিক ততটা হয়নি। সংবাদ মাধ্যমে তিলকে তাল করে প্রচার করা হয়েছে। এখানে জাতীয় শ্রদ্ধাবোধ কাজ করতে হবে। দেশপ্রেম কাজ করতে হবে। এখানে দেশপ্রেমের কোন বিকল্প নেই। অর্থমন্ত্রী বলেন, গোলমাল হয়েছে ১৫টি জেলাতে। এর মধ্যে ৭টি জেলাতেই বেশি। তবে সরকার শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সেটি বিবেচনা করছে। এক-দুইদিনের মধ্যে সব নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
পদ্মা সেতু প্রসঙ্গ : পদ্মা সেতুর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর জন্য রিজার্ভ থেকে অর্থ নেয়া হবে। আমাদের যথেষ্ট রিজার্ভ রয়েছে। তবে রিজার্ভ বেশি হলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। তাই রিজার্ভের অর্থ পদ্মাতে ব্যবহার করা হবে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে এর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হবে।
বাজেট : আসছে বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে নতুন কিছু থাকবে না। কারণ, আগামী বাজেট শেষ হবার আগেই নতুন সরকার আসবে। সেটি আমাদেরই হোক আর যাই হোক। সুতরাং কিছু নির্দেশনা দিতে হবে।
বিদ্যুত্, জ্বালানি : বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বছর শেষে বিদ্যুত্ উত্পাদন ৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাবে। এছাড়া বিদ্যুতের যেসব প্রকল্প আছে সেগুলো আগামী ২০১৬-১৭ সাল নাগাদ উত্পাদনে যাবে। ফলে আগামীতে বিদ্যুতের সঙ্কট হবে না। তখন বিদ্যুতের দামে একটা ভারসাম্য আসবে, তবে কমবে না। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমতে পারে।
ট্রানজিট প্রসঙ্গ : সম্প্রতি ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠককালে ট্রানজিট নিয়ে কোন কথা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ট্রানজিটের সুবিধা বাংলাদেশ পাচ্ছে না। তিনি সদ্য সফরে আসা ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে সেটি বলেছেন।
