জেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করুন

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৩, ২২:৫৪
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি জেলা থেকে ওয়ার্ড পাড়া মহল্লায় যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে চলতি ১৬তম অধিবেশনের সমাপনী দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাব সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অধিবেশন শেষে সকল সংসদ সদস্য নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাবেন। চারদিকে দৃষ্টি রাখবেন। ধর্মপ্রাণ প্রত্যেকের সাথে যোগাযোগ রেখে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। প্রতিটি জেলা, থানা ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ, আলেম ওলামা, ধর্মপ্রাণ মানুষ সবাইকে নিয়ে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তুলবেন। তিনি বলেন, আজ যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য একের পর এক হত্যা চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষ, পুলিশ, প্রকৌশলীকেও হত্যা করা হচ্ছে। আমি জানতে চাই প্রকৌশলীর কি অপরাধ ছিলো? আমরা বিদ্যুত্ দিয়ে আলোকিত করেছিলাম। আর বিএনপি-জামায়াত বিদ্যুত্ কেন্দ্র পুড়িয়ে দিয়ে অন্ধকার করে দিয়েছে। একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যা করা হয়েছিলো তারা তার পুনরাবৃত্তি করছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধী দলীয় নেতাকে পুলিশসহ সাধারণ মানুষ হত্যার দায়ভার নিতে হবে। তিনি যা চাচ্ছেন তা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করা। কিন্তু তিনি সেটি করতে পারবেন না। আমি যখন যে কাজে হাত দিয়েছি তাতে কখনো ব্যর্থ হয়নি। তাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছি এটা শেষ করার ক্ষেত্রেও ব্যর্থ হবো না। আল্লাহর উপর আমার ভরসা রয়েছে। দেশবাসীর প্রতি আমার আহ্বান ওরা সংখ্যায় কম বলেই হত্যা ও লুটপাট করছে। বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সিঙ্গাপুর থেকে এমন কি ওষুধ খেয়ে এসেছেন যে, দেশে ফিরেই যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে গলার জোর বেড়ে গেলো। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখতে চাইলে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। মাত্র কয়েক পার্সেন্ট মানুষ দেশের মানুষকে জিম্মি করবে তা হতে দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী হরতাল প্রসঙ্গে বলেন, কেন এবং কিসের জন্য এই হরতাল? মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য হরতাল হলে তার যৌক্তিকতা ছিল। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য হরতাল দেয়া হচ্ছে। সারা দেশে হিন্দু-সংখ্যালঘুদের উপর হামলা করা হচ্ছে একাত্তরের সালের মতো একই কায়দায়। বিরোধী দলীয় নেতা নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী দাবি করেন। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, তাহলে বিরোধী দলীয় নেতা কিভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাধা দিচ্ছেন? শাহবাগের তরুণ প্রজন্মকে গালমন্দ করছেন? রাজাকারদের বাঁচাতে মানুষ হত্যা করছেন? তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানায় এবং তাদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেয়। দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়। বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতসহ মাত্র পাঁচ শতাংশ মানুষ হয়তো বিচার চায় না। আমাদের একটাই লক্ষ্য, দেশ উন্নত হবে। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে উন্নয়নের কথাই তুলে ধরেছেন। ভারতের প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাত্ না করায় বিরোধী দলীয় নেতার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনি ভারতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করলেন ও দুপুরে লাঞ্চ খেলেন। কিন্তু আমি বিরোধী দলে থাকতে ভারত তো আমাকে এক বেলা লাঞ্চও খাওয়ায়নি। অথচ সেই ভারতের রাষ্ট্রপতির সাথে কেন সাক্ষাত্ করলেন না তা বোধগম্য নয়। প্রধানমন্ত্রী একটানা প্রায় ৫০ মিনিটের বক্তব্যে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।