ভ্যাটিকানের বাতাসে অদ্ভুত এক পুরোনো গন্ধ

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৩, ১৮:৩৭
পোপ দ্বিতীয় জন পলের (১৯২০-২০০৫) সময় তখন, দিনটি ছিল রোববার, ভ্যাটিকানের পবিত্র দিন। ভ্যাটিকান হচ্ছে সারা পৃথিবীর ক্যাথলিক খ্রিষ্টান সমপ্রদায়ের মক্কা। সেইন্ট পিটার স্কয়ার লোকে লোকারণ্য। ছোটবেলা থেকেই যে পোপকে সংবাদপত্র আর টিভিতে দেখে আসছি, সেই পোপ জন পল দিচ্ছেন ভাষণ। পোপের কী বয়স বাড়ে না? আমি শৈশব-তারুণ্য অতিক্রম করে আজ যৌবনে, কিন্তু পোপকে দেখে মনে হচ্ছে, উনি রয়ে গেছেন সময়ের বৃত্তের কেন্দ্রে। মৃদুভাষী পোপের প্রতিটি উচ্চারণ যেন মহাকালের ভেতর দিয়ে অনুরণিত হয়ে প্রতিধ্বনি তুলছে শত শত বছরের রোমান সভ্যতার দেয়ালে দেয়ালে। ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টানদের ভাবগম্ভীর মৌনতার ভেতর আমি অস্থির পর্যটক, মন পড়ে আছে সম্মুখের সুদৃশ্য সেইন্ট পিটারের ব্যাসিলিকার ভেতরে, ভ্যাটিকানের প্রাণকেন্দ্র। ভ্যাটিকান হচ্ছে দেশের ভেতরে দেশ, নগরের ভেতরে স্বাধীন নগররাষ্ট্র। রয়েছে নিজস্ব ডাকটিকেট, রেল স্টেশন, রোমান অবজারভার নামে নিজস্ব দৈনিক পত্রিকা, আছে দৃষ্টিনন্দন পুলিশ বাহিনী, ১৬ শতাব্দী থেকে একই পোশাকে পাহারা দিচ্ছে, এটা ধারণা করা হয় যে, ভ্যাটিকান পুলিশের এই পোশাক ডিজাইন করেছিলেন শিল্পী মিকেলাঞ্জেলো। পুরো শহরটাই একটা জাদুঘর, প্রতি ইঞ্চিতে ফিস ফিস করে কথা বলছে ইতিহাস। পাথুরে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে শিহরিত হয়ে ওঠে শরীর, নিশ্চই আমার পদক্ষেপ পড়ছে রাফায়েল, বতিচেল্লি, মিকেলাঞ্জেলো, বেরনিনি, ব্রুমান্তেসহ কত কত শিল্পী-ভাস্কর-স্থপতি আর কবিদের ফেলে যাওয়া পদচিহ্নের ওপর। কৃতদাসের কান্না, কলোসিয়ামে গ্লাডিয়েটরদের রক্তপাত, এরিনায় ভোগী নাগরিকদের বিকৃত উল্লাস, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, গুপ্তহত্যা, রাজনৈতিক কুটচাল, সম্রাটদের পরাক্রম, ক্লেদাক্ত লালসা আর যৌনাচার, প্লেগের মহামারী, যুদ্ধ-দাঙ্গা, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আর ধ্বংসাবশেষের ভেতর দিয়ে কত কত দীর্ঘশ্বাসে ভারী এই রোমান নগরী। চার্চ বনাম রাষ্ট্রের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা প্রতীকী এক ধর্মনগর এই ভ্যাটিকান। মেকিয়েভেলির কাছে পরাজিত পোপদের শেষ আশ্রয়স্থল এই ভ্যাটিকান। ইতিহাসের কাছে ভ্যাটিকান পরাজিত হলেও শিল্প-ঐশ্বর্যে সে পৃথিবীর মাথার মুকুট। বিশাল উঁচু উঁচু সব প্রাচীর, সরু গলি ঘন প্রাচীন সব বসতির ভেতর দিয়ে যেতে যেতে দাঁড়িয়ে পড়েছি, ফুসফুস ভরে দীর্ঘশ্বাস টেনে মহাকালের গন্ধ শোঁকার চেষ্টা করেছি, ভ্যাটিকানের বাতাসে অদ্ভুদ এক পুরোনো গন্ধ। বুক চিরে বেরিয়ে আসে হাহাকার। ¬ভিয়া দেল্লা কনসিলিয়াজোনের বারান্দায় মাথার টুপি ফেলে বসে আছে নিঃসঙ্গ এক বেহালাবাদক, পকেট থেকে মুঠো ভরে খুচরো পয়সাগুলো ঝনঝন করে ফেললাম ওর টুপির মধ্যে, আমার গায়ের রং আর পয়সার পরিমাণ ওকে ভ্যাবাচ্যাকা খাইয়ে দিলেও মুহূর্তেই ওর মুখে ফুটে উঠল তুসকান শিল্পীর হাসি, এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ, বোঝার চেষ্টা করল আমার রুচি অথবা আমাকে। প্রায় নির্জন রোমান পিয়াত্জাকে শোকাতুর করে বেজে উঠল বেহালা। সেই সুরে মনুমেন্ট ‘ভ্যাটিক্যান অবিলিস্কে’র সকরুণ ছায়া দীর্ঘ হতে হতে ভেদ করে যাচ্ছে আমার হূদিপণ্ড। এখন বুঝি, আমার জীবনের শ্রেষ্ট বেহালার সুরটা শুনে ফেলেছি সেদিন। সেই সুরের সাথে সাথে কী এক বেদনার অভিব্যক্তি ফুটে উঠছে বাদকের চোখে-মুখে, বেদনা আর হাহাকারে আমিও পুড়ে যাচ্ছি, পুড়ে যাচ্ছে রোম, আর রোম যখন পুড়ছিল (৬৪ খ্রিষ্টাব্দে) সম্রাট নিরো কিন্তু বাঁশি নয় বাজাচ্ছিলেন লায়ার (তারবিশিষ্ট বাদ্যযন্ত্র)। ঐতিহাসিকদের কাছে এটা এখনও এক বিরাট সন্দেহজনক প্রশ্ন—ছয় দিন ধরে সারা নগর দাউদাউ করে জ্বলছে, আর সম্রাট তখন কেন সঙ্গিতে মগ্ন হয়ে আছেন। সম্রাট তাঁর প্রাসাদের ব্যালকনি থেকে প্রজ্বালিত নগরীর দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছেন আগুনের শেষ শিখাটি নিভে যাওয়ার, হয়তো। হয়তো সেই ধ্বংসযজ্ঞের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতে হাসতে নতুন নগরপরিকল্পনার কথা ভাবছিলেন। ভাবছিলেন তাঁর স্বপ্নের প্রাসাদ ডোমাস আউরিয়া বা সোনালি বাড়ির ডিজাইন নিয়ে। ¬তবে কি নিরো নিজেই লাগিয়েছিলেন এই আগুন, মনের মতো করে রোমকে আবার সাজাবেন বলে। নির্দয় স্বৈরাচারী কুটিল রোমান সম্রাটদের বিষয়ে ঐতিহাসিকদের এমন সন্দেহ মোটেই অমূলক নয়। তবে কে লাগাল আগুন? আগে থেকেই খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারকদের প্রতি বৈরী ভাবাপন্ন নিরো। যথারীতি দোষ চাপালেন ওদের ওপরই। এক ঢিলে দুই পাখি, ধরে ধরে নির্যাতন আর হত্যা করা হলো খ্রিষ্টানদের। অনুমান করা হয়, এই ধারাবাহিকতায় ৬৪ খ্রিষ্টাব্দে যিশুখ্রিষ্টের ১২ শিষ্যের অন্যতম সাধু পিটারকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়। পিটারকে যখন হাতে-পায়ে পেরেকবিদ্ধ করে ক্রুশে ঝোলানো হচ্ছিল, তখন তাঁর সবিনয় অনুরোধ—তাঁর মৃত্যু যেন যিশুর মতো না হয়। যিশুর মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার জন্য তাঁর মাথা নিচের দিকে রেখে যেন তাকে ক্রুশে ঝোলানো হয়। সেন্ট পিটার ব্যাসিলিকার নিচেই পিটারের কবর—ভ্যাটিক্যানের সর্বোচ্চ মর্যাদার স্থান। যদিও এটা নিয়ে বিতর্ক আছে, কেউ কেউ বলে, পিটারের কবর জেরুজালেমে। অদৃষ্ট নিরোকে ক্ষমা করেনি, গুপ্তঘাতকের হাতে নিহত হওয়ার আগে নিরো নিজেই আত্মহত্যা করেছিলেন। ইতিহাসে নিরো আত্মহত্যাকারী একমাত্র রোমান সম্রাট। ভ্যাটিকানের অলিতে-গলিতে ঘুরে পরের দিন ঢুকলাম সাধু পিটারের ব্যাসিলিকার ভেতর। চোখ ধাঁধানো শিল্প-সৌন্দর্যের মধ্যে ঢুকে আমার প্রথমেই এক ধরনের অসহায় অনুভূতি হয়েছিল। ফ্লোর থেকে সুউচ্চ ছাদ পর্যন্ত নান্দনিক ঐশ্বর্যের বিশালতার ধাক্কা সামলাতে আমার কিছুটা সময় লেগেছিল। রেনেসাঁর উচ্চতম পর্যায়ের শিল্পীদের জীবন উজাড় করা শিল্পকর্ম সেইন্ট পিটার ব্যাসিলিকাকে একধরনের রহস্যময় সৌন্দর্য দিয়েছে। চরম পারলৌকিক বিশ্বাসের সাথে মানবেতিহাসের শ্রেষ্টতম শিল্পের মিশেল সৃষ্টি করেছে অপার্থিব গাম্ভীর্য। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর সুন্দর এই চার্চের প্রধান ডিজাইনাররা হলেন বিশ্বখ্যাত ব্রুমান্তে, মিকেলাঞ্জেলো, কার্লো মার্দিনো, বেরনিনি, জিওভান্নি পাওলো পান্নিনি এবং আরও অনেকে। বেরনিনির গড়া অসাধারণ বেদি ‘বলডাচিন’-এর সামনে সমবেত প্রার্থনা চলছে। এটা ব্যাসেলিকার মূল কেন্দ্র। চতুর্দিকে মহিমান্বিত সব শিল্পকর্মের মধ্যে একধরনের স্নায়ুবিক চাপ অনুভব করছিলাম, তাই সারি সারি পেতে রাখা আসনগুলোর একটিতে বসে বসে শুনছি বাইবেল থেকে উচ্চারিত সুরেলা শ্লোক। কিছুক্ষণ পর উঠে সবাই সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে গেল। লাইনের সবাই একে একে ভক্তি আর শ্রদ্ধাভরে একজন পুরোহিতের হাত থেকে কী যেন নিয়ে মুখে দিচ্ছে। আমার সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ল আমাদের ধর্মে মিলাদ মাহফিল শেষে মিষ্টি বিতরণ করা হয়, যাকে বলা হয় শিরনি বা তবারক। ছেলেবেলায় এই শিরনির লোভে বিনা দাওয়াতেই কত দূর-দূরান্তে চলে গেছি মিলাদ পড়তে। আর এখন চোখের সামনে ভ্যাটিকানে চলছে শিরনি বিতরণ। এই সুযোগ হাতছাড়া করি কীভাবে? ব্যাস, দাঁড়িয়ে গেলাম লাইনে। পরে জেনেছি, খ্রিষ্টানরা এই শিরনিকে বলে কমিউন। হাত পেতে নেওয়ার সময় পুরোহিতের তীর্যক দৃষ্টিটা আমার চোখ এড়ায়নি। বুঝলাম, মাথা নুইয়ে যেভাবে ভক্তি দেখানো উচিত ছিল, তেমন শারীরিক ভাষা আমার ছিল না। ভ্যাটিকানের শিরনি দেখে আমি হতাশ। একটা আধুলির মতো গোল আর সাদা কাগজের মতো পাতলা একটা খাবার। আমি হাতের মধ্যে নাড়াচাড়া করতে করতে আমার আসনে এসে বসে বোঝার চেষ্টা করছি—এটা কী দিয়ে তৈরি হতে পারে। হঠাত্ পেছন থেকে একটা নারীকণ্ঠ ইংরেজিতে আমেরিকান উচ্চারণে ফিস ফিস করে বলল, ‘মনে মনে একটা চমত্কার উইশ করে এটা খেয়ে ফেলো।’ মাথা ঘুরিয়ে পেছনে ফিরে তাকিয়ে আমার দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম। আমার মুখের কাছে ঠিক একহাতের দূরত্বে সবুজ চোখের দেবী ভেনাস মিটমিট করে হাসছে। নিজেকে সামলে নিয়ে দুষ্টমি করে বললাম, ‘এই রোমান সাম্রাজ্যে তোমার সঙ্গ ছাড়া এই মুহূর্তে আমার কোনো উইশ নাই’। বলেই শিরনিটা পুরে দিলাম মুখে, আবারও হতাশ হলাম—এটার কোনো স্বাদই নেই। দেবী ভেনাসের মুচকি হাসি এবার আলো ছড়াল ‘কী আশ্চর্য! গড, তোমার দোয়া অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কবুল করে নিয়েছেন, তবে একটা শর্ত।’ আমি চেহারাটা মলিন করে বললাম ‘কী শর্ত।’ ‘আমার ক্যামেরা দিয়ে তুমি আমার ছবি তুলবে আর তোমার ক্যামেরা দিয়ে আমি তোমার ছবি তুলব, রাজি?’ চেহারা সিরিয়াস করে বললাম, ‘আমি পুরো রোম সম্রাজ্যই তোমাকে বিনা পয়সায় দিয়ে দিতে পারি, ছবি তুলে দেওয়া আর এমন কী?’ চুড়ির আওয়াজের মতো রিমঝিম করে হেসে উঠল ভেনাস। বলল, ‘ঠিক আছে, চলো শুরু করি।’ বুঝলাম, ছবি তোলার জন্য ওর একজন সঙ্গী দরকার ছিল। ভেনাস যেতে যেতে বলল, ‘চলো পিয়েতা থেকে শুরু করি, আর শোনো, তুমি কিন্তু অনেক ভাগ্যবান, ভ্যাটিকানের ভেতরে গাইড হিসেবে পেয়ে গেলে চারুকলার এক ছাত্রীকে।’ আমি বললাম, ‘তুমিও ভাগ্যবান, সঙ্গী হিসেবে পেয়ে গেলে শিল্প-সমজদার এক কবিকে।’ হঠাত্ দাঁড়িয়ে বলল, ‘তুমি কবি?’ আমি মাথা ঝাঁকালাম। একটা লাজুক হাসি দিয়ে ভেনাস বলল, ‘তোমার মেয়ে পটানোর ক্ষমতা দেখে আমার আগেই বোঝা উচিত ছিল, নিশ্চই তুমি কবি।’ আমার মুখে ধরা-খাওয়া হাসি। আমাকে ওর ক্যামেরাটা বুঝিয়ে দেওয়ার সময় দেখলাম, ওর ব্যাগে দুটো বই—আরভিং ও জেন স্টোনের লেখা ‘আই মিকেলাঞ্জেলো স্কালপটর’ এবং মিকেলাঞ্জেলোর প্রথম জীবনী-লেখক ভাসারির ‘লাইভস অব দ্যা আর্টিস্ট’। আমরা এসে দাঁড়ালাম মিকেলাঞ্জেলোর মহান সৃষ্টি পিয়েতার সামনে। কারারার মার্বেল পাথরকে হাতুড়ি-ছেনি দিয়ে এমন জীবন্ত করা সম্ভব! সম্ভবত এর আগের পৃথিবী মানুষের সৃষ্টিশীলতা কোন চরমে পৌঁছাতে পারে, তার এমন নজির আর দেখেনি, আজকের দিন পর্যন্ত তো বটেই। পিয়েতার সামনে দাঁড়িয়ে আমি বাকরুদ্ধ। অবাক বিস্ময়ে দেখলাম, আমার পাশে দাঁড়ানো ধ্যানমগ্ন ভেনাসের চোখে পানি। এ কান্না মুগ্ধতার। চোখ মুছে আমার গায়ে গা লাগিয়ে ফিসফিস করে বলল, ‘জানো, মিকেলাঞ্জেলো কত বছর বয়সে পিয়েতাকে গড়েছে? মাত্র ২৩ বছর বয়স ছিল তখন। ভাবতে পারো, এটা মাত্র ২৩ বছর বয়সী কোনো যুবকের কাজ?’ বলতে বলতে আবেগে আবার রুদ্ধ হলো ভেনাসের কণ্ঠ। আমি একধরনের ঈর্ষা নিয়ে মনে মনে ভাবছি, এত শত বছর পরও এক সুন্দরী তরুণীকে যে পাগল করে রেখেছে, তার সময়ের রোমান সুন্দরীদের তখন কী অবস্থা হয়েছিল, আল্লাহ ভালো জানেন। কিছুক্ষণ নীরব থেকে আবার বলা শুরু করল, ‘শোনো, একদিন হয়েছে কী... (যেন নিজের বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে কথা বলছে, এমন উচ্ছ্বাস নিয়ে বলা শুরু করল।) একদল দর্শক পিয়েতার সামনে দাঁড়িয়ে খুব প্রশংসা করছিল মিলানের শিল্পী ক্রিস্টোফারো সোলারির। মিকেলাঞ্জেলো কাছেই ছিল, নিজের সৃষ্টিকর্মের প্রশংসা পাচ্ছে অন্য শিল্পী। মনটা খুব খারাপ হলো তার। সেই রাতেই গোপনে চ্যাপেলে গিয়ে মোমবাতির আলোয় নিজের নামটা খোদাই করে দিলেন পিয়েতার ওপর। মিকেলাঞ্জেলোর এটাই একমাত্র সৃষ্টি যেখানে রয়েছে তাঁর স্বাক্ষর।’ আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘এটা জানতাম না তো, দাঁড়াও খুঁজে বের করে দেখি, কোথায় আছে নামটা।’ বেশি সময় লাগল না। দেখলাম, কুমারী মেরীর বুকের ওপর চাদরের ভাঁজে রোমান হরফে লেখা মিকেলাঞ্জেলোর নাম। (আগামী সংখ্যায় সমাপ্য)