হাওয়ার মাঝে লেখা!

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৩, ২০:০০
গত দু’তিন দশকে প্রযুক্তি পণ্য আর নিত্য নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের জীবনকে এতটাই আরামদায়ক করে তুলেছে যে এখন সামান্য অনেক পরিশ্রমেরও বিকল্প খোঁজে মানুষ। আর মানুষের এই আরামপ্রিয়তাকে আরও একটু প্রশ্রয় দিতেই এবার হাওয়ার মাঝে বা শূন্য পরিমণ্ডলে এসএমএস বা ইমেইল লেখার কৌশল উদ্ভাবন করেছেন জার্মানির একদল বিজ্ঞানী। ইতোমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে সফল হওয়া এই প্রযুক্তিটি স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসির মতো বিভিন্ন মাধ্যমে সংযুক্ত করা সম্ভব হলে স্রেফ হাতের ইশারাতেই এসএমএস ও ইমেইল লেখার মতো কাজগুলো করা যাবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো সম্ভব হবে প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহার করে করা অন্য নানা ধরনের লেখালেখিতেও। মূলত যারা ফোনের বাটন চেপে কিংবা টাচস্ক্রিন স্পর্শ করে এসএমএস লিখতে পছন্দ করেন না কিংবা যাদেরকে নানা প্রয়োজনে অনেক ইমেইল লিখতে বা ইমেইলের উত্তর দিতে হয় তাদের কথা ভেবেই অভিনব ও আরামদায়ক এই পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেছেন জার্মানির কার্লস্রুহে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির বিজ্ঞানীরা। তারা জানিয়েছেন, নতুন এই প্রযুক্তির সহায়তায় হাতে বিশেষ একজোড়া গ্লাভস পড়ে সেটির সাহায্যে বাতাসে কোনো কিছু লেখার ভঙ্গি করলে সেই ভঙ্গি থেকেই শব্দ বা বাক্যগুলোকে চিনে নেবে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসির মতো প্রযুক্তি পণ্যগুলো। এ জন্য প্রতিটি গ্লাভসে থাকা জাইরাস্কোপ ও এক্সেলেরোমিটারের সাহায্যে হাতের ঘূর্ণন ও গতি পরিমাপ করা হবে। আর এই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ ও রূপান্তরের মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি কোন অক্ষর বা শব্দটি লিখতে চাইছেন তা বুঝা যাবে। এ জন্য একটি সফটওয়্যারের সাহায্যে প্রযুক্তিটি যেন মানুষের নানা ধরনের হাতের লেখার ইশারা শনাক্ত করতে পারে তা নিশ্চিত করা হবে এবং এ জন্য নানা ধরনের হাতের লেখার নমুনা এবং প্রতিটি অক্ষরের জন্য স্বতন্ত্র সংকেতও আগে থেকেই দেওয়া থাকবে। এ প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে এই প্রযুক্তিটি প্রায় আট হাজারের মতো শব্দ ও বহুসংখ্যক পরিপূর্ণ বাক্যও সনাক্ত করতে পারবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এ প্রসঙ্গে জার্মানির কার্লস্রুহে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির বিজ্ঞানী দলের সদস্য এবং উদ্ভাবক ক্রিস্টোফ অ্যামা জানান, প্রথম দিকে এই প্রযুক্তিটির সাথে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগলেও ক্রমে ক্রমে এটি খুবই সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া প্রযুক্তিটিকে যাতে প্রতিদিনের জীবনে মানুষ আরও সহজে ব্যবহার করতে পারেন সেই লক্ষ্যে এর উত্তরোত্তর উন্নয়ন ঘটানোর চেষ্টাও করছেন বিজ্ঞানীরা।