মু খো মু খি

সংসারটা নিজের মতো করে সাজানোর চেষ্টা করছি

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৩, ২০:১৮
রুমানা মালিক মুনমুন। লাক্স সুন্দরী প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই মিডিয়াতে আগমন তার। মডেল, অভিনেত্রী ও উপস্থাপক হিসেবে মিডিয়ায় কাজ করছেন তিনি। তবে একজন উপস্থাপক হিসেবে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন। পাশাপাশি অভিনয়টাও নিয়মিত করে যাচ্ছেন। নিজের সাম্প্রতিক ব্যস্ততা ও নারী দিবসকে ঘিরে মিডিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন অর্ক হাসান আপনার বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন। ‘আমার আমি’র নিয়মিত শুটিং চলছে। খুব শীঘ্রই ‘স্পেলিং বি’-এর কাজও শুরু হয়ে যাবে। চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে একটা নাটক যাচ্ছে। খুব শীঘ্রই আরও একটা ধারাবাহিকের কাজ শুরু করব। পাশাপাশি আরও কয়েকটা প্রোগ্রামের কথা চলছে। আজ তো নারী দিবস, এই বিশেষ দিবস উপলক্ষে কী কী কাজ করলেন? হ্যাঁ, নারী দিবস উপলক্ষে আজ একটি লাইভ অনুষ্ঠানে অংশ নেবো। এটি আরটিভিতে আজ রাত ৮টায় প্রচার হবে। কিছুদিন আগে তো আপনি বিয়ে করলেন, নিজের দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে বলুন? ডেফিনেটলি এটি নতুন একটা আবেগ। সংসারটাকে নিজের মতো করে সাজানোর চেষ্টা করছি। ভালোই লাগছে, সবার কাছে দোয়া চাই যেন সুন্দরভাবে আমার এই সংসার নিয়ে সুখে-শান্তিতে এগিয়ে যেতে পারি। সামনের দিনগুলো হাসিখুশিভাবে কাটাতে পারি। বিয়ের পর অনেক নারী তার ক্যারিয়ারে ম্রিয়মান হয়ে যায়, আপনার ক্ষেত্রে কী হবে, বা সর্বোপরি এটা কেন হয়? অন্যদের ক্ষেত্রে কেন হয় সেটা আমি জানি না। আমার ক্ষেত্রে সেটা ইনশাহ আল্লাহ হচ্ছে না। আমি সবার কাছ থেকেই সর্বোচ্চ সাপোর্ট পাচ্ছি। গত মাসের ১৪ তারিখ বিয়ে, পনের তারিখ অনুষ্ঠান হয়। আর ২১ তারিখ ভাষাদিবসে ‘বর্ণমালা’ লাইভ করলাম, কোনো প্রবলেম হচ্ছে না, আশাকরি হবেও না। আসলে জীবনের সবচেয়ে বড় দক্ষতা হলো সবাইকে ম্যানেজ করা, ভালো থাকতে জানা। এই দুটো ম্যান্টেইন করতে পারলে কারও জীবনেই আশাকরি প্রবলেম হয় না। মিডিয়ায় নারীরাই বেশি অগ্রাধিকার পায়, তারপরও তাদের কাজের দায়িত্ববোধটা মিডিয়াতে কতটা আছে বলে মনে হয়? নারীরাই মিডিয়াতে অগ্রাধিকার বেশি পায় এই কথাটা পুরোপুরি মনে হয় না ঠিক। ছেলে-মেয়ে সবাই সমান তালে কাজ করবে, এতে পার্থক্য দেখি না। সবার মধ্যেই তার ব্যক্তিত্ব ও দায়িত্ববোধ থাকে, এবং দায়িত্ববোধ তৈরি করাও তার ব্যক্তিগত বিষয়। অবশ্য দায়িত্ববোধের অনেকটা তার ব্যাকগ্রাউন্ড থেকেও আসে। আমি মনে করি সবাই তার জায়গা থেকে চেষ্টা করে। তবে হ্যাঁ, কেউ কেউ ডেসপারেট হয়ে যায়। আর ডেসপারেট হলেই প্রবলেম। আজ অবধি কোনো চ্যানেলের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা নির্মাতা হিসেবে খুব কম নারীই আছে, নির্মাণে ওইভাবে কেন আসতে পারছেন না তারা? প্রত্যেককে যে সমানভাবে দেখা এই বিষয়টি আদৌ আমাদের সমাজে বা পুরো বিশ্বে সবার দৃষ্টিতে একইভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে কি না এই প্রশ্নের উত্তরটা আগে খুঁজে বের করতে হবে। আমরা নারী দিবস হিসেবে ৮ মার্চ পালন করছি। গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে আমরা এই দিবসটি পালন করে আসছি। কিন্তু এই কার্যক্রমটা আমরা কতটুকু পালন করছি, নারীর অধিকার রক্ষা, সমান মর্যাদা দেওয়া, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করাসহ আরও ইত্যাদি ইত্যাদি বলি এগুলো কতটুকু হচ্ছে। হয়তো আমরা দুয়েকজন করছি। এই জায়গাগুলোর প্রশ্নোত্তর আমাদের বের করতে হবে। তাহলে সেই উর্ধ্বতন বিষয়টির ফলাফলও বেরিয়ে আসবে। আর আমাদের শিক্ষার মধ্যে নারীদেরকে আরও ডেভেলপ আনতে হবে। আর যদি ভিন্নভাবে এটি বলি, তাহলে বলব পুরুষ কলিগরাই বেশি বাধা দিয়ে থাকেন। আনফরচুনেটলি হলেও এটা সত্য। আমি নিজেও দেখেছি। এই পুরুষ কলিগদের এ ধরনের কাজ ছাড়া দরকার, পারলে আমি তাকে হেল্প করব কিন্তু তাকে বাধা দেওয়াটা তো ঠিক না। এই হীনম্মন্যতাগুলো দূর করতে হবে। এসব কারণে মানুষের আত্মবিশ্বাসের জায়গাটি কমে যায়।