কিছুদিন আগে বাংলাদেশ সফরে এসে নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন বলছিলেন, বাংলাদেশের নারীরা নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দেশের উন্নয়ন সূচকে ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১০সালের শ্রমশক্তি জরিপের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, কৃষি, শিল্প, অফিস আদালতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১কোটি ৬২ লাখ নারী নিযুক্ত আছেন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এই জরিপ অনুযায়ী ২০০৬ সালে এক কোটি ১৩ লাখ নারী কাজে নিযুক্ত ছিলেন। ৪বছরে কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছেন আরও ৪৯ লাখ নারী। তবে নারীর প্রতি সহিংসতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপপরিষদের প্রকাশিত গত ১০ বছরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে নারী-নির্যাতন ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ধর্ষণ, গণধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যা, এসিড নিক্ষেপ, শরীরে আগুন লাগানো, অপহরণ, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, পতিতালয়ে বিক্রি, নারী ও শিশু হত্যা, গৃহপরিচারিকা নির্যাতন ও হত্যা, যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণ ছাড়াও আত্মহত্যা করতে বাধ্য করার মাধ্যমে নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে । আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০১৩ উপলক্ষে ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ প্রকাশিত বার্ষিক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায় ২০০৮ সাল থেকে ২০১২ নভেম্বর মাস পর্যন্ত নারীর প্রতি সহিসংতা যেমন এসিড সহিসংতা, ধর্ষণ এবং যৌতুকের জন্য সহিসংতা যথাক্রমে বার্ষিক ২.৫৬ শতাংশ, ১৬.৮৫ শতাংশ এবং ৪৬.৬৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষণে আরও দেখা যায় যে, বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে প্রতি ৪ জনে ১ জন স্বামী কর্তৃক নির্যাতিত। অল্প বয়সে বিবাহিত, অশিক্ষিত এবং দারিদ্র্য নারীরা বেশি বেশি এই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
বিশিষ্ট জনেরা যা বলেন
মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, ‘হত্যা-নির্যাতনের প্রকৃতি এত ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর রূপ লাভ করছে যে, ভাবতে অবাক লাগে। মানুষের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক এত নির্মম রূপ পায়, যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।’ বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী বলেন, ‘রাজনৈতিক অপরাধও বাড়ছে। থানায় কেস না নিতে চাওয়া এবং আইনের আওতায় এনে অপরাধীকে শাস্তি না দিতে পারায় অপরাধ বাড়ছে। ফতোয়া এখনো বন্ধ হয়নি। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, দ্রুত আইনের আওতায় নারী নির্যাতনের মামলাগুলোর বিচার হয়, তারপরও তদন্ত, সাক্ষী-প্রমাণ সংগ্রহে কিছু সময় লাগে ।
