হরতালে ভাংচুর, আগুন চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিহত ১

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৩, ২২:৩৫
যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ, রেললাইনে আগুন ও সড়ক অবরোধ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা গতকাল বৃহস্পতিবারের হরতালে। হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার পোলাডাঙ্গা গ্রামে আব্দুর রহমান (২৬) নামে এক যুবলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। ঢাকায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে সকালে পুলিশ বিএনপির চারজন নারী সংসদ সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া, রেহানা আক্তার রানু, রাশেদা বেগম হীরা ও শাম্মী আক্তারকে আটক করে। সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। গাড়িতে তোলার সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে রাস্তায় পড়ে আঘাত পান শাম্মী আক্তার। এছাড়া রাজধানীর সবুজবাগে হরতাল বিরোধী আওয়ামী লীগ কর্মীদের হাতে প্রহূত হয়েছেন তিনটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের তিনজন ক্যামেরাম্যান। হরতাল চলাকালে ঢাকাসহ সারাদেশে সংঘর্ষে পুলিশ, হরতাল সমর্থক ও হরতাল বিরোধী আওয়ামী লীগ কর্মীসহ অর্ধশতাধিক আহত হন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোটের শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে। ঢাকায় আটক করা হয় ২৮ জনকে। গতকালও আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা হরতাল বিরোধী মিছিল করে রাজপথে সরব ছিল। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুযায়ী সকাল সাড়ে সাতটার দিকে লাকসামের দৌলতগঞ্জ স্টেশনের লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথের লেভেল ক্রসিং এবং হোম সিগন্যালের কাছে রেললাইনে হরতাল সমর্থকরা আগুন ধরিয়ে দেয়। সীতাকুণ্ড, নরসিংদী, চাঁদপুর ও বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হরতালকারীরা গাড়িতে আগুন দেয় এবং ভাঙচুর করে। এছাড়া সিরাজগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নাটোর ও পাবনার সাঁথিয়া উপজেলাসহ বিভিন্ন জায়গায় হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের, কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ২৫০ জন গ্রেফতার ও ৬শ জন আহত:হরতাল শেষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীক সম্মেলনে দলের যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অবিলম্বে চার নারী সংসদ সদস্যের মুক্তি দাবি করেন। এর দেড় ঘণ্টা পর তারা মুক্তি পান। সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেয়া ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহারের এবং আটক নেতাকর্মীদের মুক্তিও দাবি করেন তিনি। রিজভী দাবি করেন গতকালের হরতালে সারাদেশে বিএনপির ২৫০ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার এবং ছয়শ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া আড়াই হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। রাজধানীতে জনজীবন প্রায় স্বাভাবিক ছিল:চাঁপাইনবাবগঞ্জে একজন নিহত, সারাদেশে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ এবং যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ছাড়া বিএনপি-জামায়াতের ডাকা গতকালের হরতালে ঢাকাসহ সারাদেশের জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক ছিল। তবে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াত-শিবির কর্মীরাও গতকাল মাঠে থাকায় জনমনে এক ধরনের ভীতি ও আতঙ্ক ছিল। হরতালকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মূল সড়ক ছাড়াও রাজধানীর প্রতিটি মোড়ে ও গুরুত্বপূর্ণ অলি-গলিতে পুলিশ-র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। ঢাকায় কিছু দোকানপাট খোলা থাকলেও গ্রাহক খুবই কম ছিল। অবশ্য অফিস-আদালতে প্রায় স্বাভাবিক কার্যক্রম হয়েছে। ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল করলেও দূরপাল্লার বাস ছাড়েনি:বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা এই হরতালে রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করেনি বললেই চলে। প্রচুর রিকশা ও অটোরিকশাসহ কিছু সংখ্যক অন্যান্য যানবাহন চলাচল করেছে। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে সব ট্রেন নির্ধারিত সময়ই ছেড়ে যায়। মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গাবতলী টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছাড়তে দেখা যায়নি। সদরঘাটে লঞ্চ চলাচল ছিল স্বাভাবিক, তবে যাত্রীসংখ্যা কম ছিল। বিএনপির চার নারী এমপি সকালে আটক সন্ধ্যায় মুক্ত:হরতাল চলাকালে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন বিএনপির এমপি সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া, রেহেনা আক্তার রানু, রাশেদা বেগম হীরা ও শাম্মী আক্তার। বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে তারা রাস্তায় বসে পড়েন। পরে মহিলা পুলিশের একটি দল এসে তাদের টেনে-হিঁচড়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। মাইক্রোবাসটি যাওয়ার পথে বিএনপি কার্যালয় থেকে ১০০ গজ দূরে গাড়ির ভেতরে ধস্তাধস্তির সময় রাস্তায় পড়ে যান শাম্মী আক্তার ও পুলিশ কনস্টেবল শরীফা। পরে পুলিশ গাড়ি থামিয়ে আবার তাদের তুলে নেয়। সন্ধ্যায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। বিএনপি কার্যালয় গতকালও ছিল অবরুদ্ধ:ভোর থেকেই নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কার্যালয়ের অপরপাশে সড়কে ছিল র্যাব সদস্যরা। বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুল লতিফ জনি, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, বেলাল আহমেদসহ ২০-২৫ জন কর্মী কার্যালয়ের ভেতরে কলাপসিবল গেইটের ভেতরে অবস্থান করেন সারাদিন। পুলিশ বাইরে থেকে কাউকে ঢুকতে দিচ্ছিল না। সবুজবাগে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হাতে তিন টিভি ক্যামেরাম্যান প্রহূত:দুপুরে সবুজবাগের আহমেদবাগে হরতাল সমর্থকদের একটি মিছিল থেকে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটনো হয়। তখন হরতাল বিরোধী স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েক কর্মী এসে এক পিকেটারকে ধরে ফেলেন। কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ক্যামেরাম্যান এসব ঘটনার চিত্রধারণ করছিলেন। হঠাত্ হরতাল বিরোধী মিছিল থেকে আওয়ামী লীগের কয়েক কর্মী এসে মাছরাঙ্গা, ইটিভি ও এটিএন নিউজের তিন ক্যামেরাম্যানকে ধরে নিয়ে যায়। তারা এটিএন নিউজের ক্যামেরা থেকে মেমোরি কার্ড খুলে নিয়ে যায়। পরে ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফরিদের সহায়তায় তা উদ্ধার হয়। আওয়ামী লীগ কর্মীরা পান্না নামে একজনকে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তিনি স্থানীয় ছাত্রদল নেতা বলে জানা গেছে। মতিঝিল ও উত্তরায় বাসে আগুন, শাহবাগে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ:শাপলা চত্বর থেকে একটি বাস টিকাটুলি মোড়ের দিকে যাওয়ার পথে মধুমিতা হলের সামনে কয়েকজন লোক দাহ্য পদার্থ ঢেলে বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হোটেল রূপসী বাংলার সামনে পুলিশকে লক্ষ্য করে দুটি হাতবোমা ছোঁড়া হয়। মহাখালীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুর করে ছাত্রদল কর্মীরা। সকাল ৯টার দিকে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদল মহাখালী গাউছুল আজম আব্দুল কাদের জিলানী (রা.) মার্কেটের সামনে থেকে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করে। এ সময় মিছিলকারীরা মার্কেটের সামনে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে কয়েকটি ভবনের কাঁচ ভাঙচুর করে। পরে মহাখালী ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিকাল চারটার দিকে বনানীতে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। সকাল সাড়ে আটটার দিকে উত্তরায় একটি দূরপাল্লার বাসে আগুন দেয়া হয়। উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। জানা গেছে, ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত মোটর সাইকেলে এসে আগুন দিয়ে দ্রুত চলে যায়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ও পুলিশ এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। হরতাল বিরোধী মিছিল:বিএনপি ও জামায়াতের এই হরতাল কর্মসূচির প্রতিবাদে সকাল থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, রামপুরা, বাড্ডা, পল্লবী, বংশাল, মহাখালী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগসহ বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ব্যানারে মিছিল হয়। রামপুরা-বাড্ডা সড়ক ছিল যুবলীগের দখলে। সকাল থেকে সারাদিন যুবলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল, সমাবেশ ও মোটর সাইকেল শোডাউন দিয়ে হরতাল বিরোধী অবস্থানে ছিল। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খাগড়াছড়ি, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রাম, মাগুরা, জয়পুরহাট, গোপালগঞ্জ, লালমনিরহাট, বাগেরহাট, সুনামগঞ্জ, চাঁদপুর, সেনবাগ, সীতাকুণ্ড, বরগুনা (দক্ষিণ), সুন্দরগঞ্জ, বিশ্বনাথ, নাঙ্গলকোট, উখিয়া, সিংড়া, গোমস্তাপুর, করিমগঞ্জ, কালকিনি, পাঁচবিবি, উল্লাপাড়া, বোরহানউদ্দিন, ভালুকা, কাউখালী, চৌদ্দগ্রাম, নড়িয়া, হোসেনপুর, পরশুরাম, মহালছড়ি, ত্রিশাল, গফরগাঁও থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা হরতালের খবর পাঠিয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গ্রেফতার, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনো হয়েছে বলে জানান তারা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার পোলাডাঙ্গা এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জামায়াত বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ত্রিমুখি সংঘর্ষে আব্দুর রহমান (২৬) নামে এক যুবলীগ কর্মী নিহত ও কমপক্ষে আরো ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহত আব্দুর রহমান পোলাডাঙ্গা এলাকার দাউদ হোসেনের ছেলে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হরতালের সমর্থনে বিএনপি জামায়াত কর্মীরা পোলাডাঙ্গা হাটখোলা বাজার এলাকায় মিছিল বের করে। এ সময় সেখানে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ যুবলীগ কর্মীদের উপর হামলা চালায় তারা। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে যুবলীগ কর্মী আব্দুর রহমানকে ভোলাহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিসত্ক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে আরো ১০ জন আহত হয়। হরতাল সমর্থনকারীরা ৭/৮টি দোকান, ৬টি বাইসাকেল ও ২টি মোটর সাইকেল ভাঙচুর এবং অগ্নি সংযোগ করে। এ সময় তারা ১টি ধানের গোডাউনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এদিকে আগুন নেভাতে যওয়ার সময় হরতালকারীরা ফায়ার ব্রিগেডের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বরিশাল অফিস জানায়, হরতাল শুরু হওয়ার আগের রাতেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায় বিএনপি ও শিবির কর্মীরা। রাতে নগরীর চৌমাথা এলাকায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজা মিঞার গাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এ সময় নগরীর পোর্ট রোড, সিএন্ডবি রোড, বটতলা, হাসপাতাল রোড ও বিএম কলেজ এলাকায় চোরাগুপ্তা হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ২০টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। অগ্নিসংযোগ করা হয় আরো ২টি ট্রাক ও ১টি আলফা মাহেন্দ্রা টেম্পুতে। রাজশাহী অফিস জানায়, বিচ্ছিন্ন ঘটনা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াতের হরতাল ছিল ঢিলেঢালা। সকাল ৭টায় মালোপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিএনপি নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ বাঁধা দেয় এবং ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে। এতে বিএনপির ১০ নেতাকর্মী আহত হন। দুপুরে স্থানীয় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ নগরীতে হরতাল বিরোধী বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানায়, হরতাল চলাকালে সিরাজগঞ্জে বিএনপি—জামায়াত ও পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ, রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে, আগুন জ্বালিয়ে সড়ক—মহাসড়ক এবং যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুর, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্ততঃ ২৫ নেতাকর্মী আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫ শিবিরকর্মীকে আটক করেছে। লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, হরতালে গাছের গুড়ি, টায়ারে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ, হরতাল সমর্থনকারীদের পিকেটিংয়ের মধ্য দিয়ে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়। অপরদিকে পুলিশ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি, জামায়াত ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের ১৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালে বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙতে বুধবার মধ্যরাতে শহর ও শহরতলীর বিভিন্নস্থানে পুলিশ হানা দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে। সকাল ৭টায় সদর উপজেলার ফতুল্লার ভোলাইল এলাকাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সড়কে হরতাল সমর্থনে মিছিল বের করে সেচ্ছাসেবক দল ফতুল্লা থানা কমিটির নেতাকর্মীরা। তারা ওই সড়কে ক্রাউন সিমেন্টের একটি ট্রাকসহ সিএনজি চালিত অটো রিকশা, বাস ভাঙচুর ও সড়কে টায়ারে আগুন দেয়। সকাল সোয়া ৭টায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা পরিষদের সামনে মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়ক ও সাড়ে ৬টায় নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-ডেমরা সড়কের বার্মাস্ট্যান্ড সড়কে মিছিল বের করে মহানগর ছাত্রদল। ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, বিএনপির ডাকা বৃহস্পতিবার সকাল- সন্ধ্যা হরতাল ফরিদপুরে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। জেলার কোথাও বড় ধরনের কোন সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। হরতাল ডেকে ফরিদপুরে শহরে মাঠে নামেনি হরতাল সমর্থনকারীরা। অন্যদিকে সকাল থেকেই হরতাল প্রতিরোধে মাঠে ছিল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। দূর পাল্লার কোন বাস ফরিদপুর ছেড়ে না গেলেও আঞ্চলিক রুটগুলোতে দুপুরের পর থেকে বাস চলাচল ছিল অনেকটা স্বাভাবিক। হরতালে কোন ধরনের সহিংসতা না ঘটলেও মঙ্গলবার রাতে যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপে অগ্নিসংযোগ করে হরতাল সমর্থকরা। এতে গুরুতর আহত হয়েছে ৯ বাস যাত্রী। পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালীতে গতকাল বৃহস্পতিবার হরতালকালে জৈনকাঠী বাঁধঘাটে রিক্সায় অগ্নিসংযোগ করেছে পিকেটাররা। শহরের কাজীপাড়া, চৌরাস্তা ও হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকায় ভাংচুর করে বেশ কয়েকটি অটোরিক্সা, ইজিবাইক ও মালবাহী ট্রলি। গলাচিপার চিকনিকান্দি-কোটখালী সড়কে জামায়াত-শিবির কর্মীরা গাছ কেটে অবরোধ সৃষ্টি করে। তারা ঐ এলাকার স্বপন শীলের বাড়ির কুটার কুঁড়ে আগুন লাগিয়ে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করে। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। রংপুর প্রতিনিধি জানান, বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ডাকা গতকাল সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে রংপুরে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি’র ১০ পিকেটারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দুপুরে রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট এলাকায় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে। সহিংস ঘটনা এড়াতে গ্রান্ড হোটেল মোড়স্থ জেলা বিএনপি’র কার্যালয়ের সামনে, জাহাজ কোম্পানী মোড়, শাপলা চত্বর, পায়রা চত্বরসহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতাল হবিগঞ্জে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকে নেতাকর্মীরা শহরের ১৭টি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে পিকেটিং করেছে। সকাল থেকেই হরতাল সমর্থকরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ২ জনকে পুলিশ আটক করেছে। পাবনা প্রতিনিধি জানান, বিএনপি-জামায়াতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর ক্যালিকো কটন মিল এলাকায় দুপুরে হঠাত্ করেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এদিকে সাঁথিয়ায় আগের দিন বুধবার বিকালে পুলিশের সাথে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আকমল হোসেনকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শেরপুর প্রতিনিধি জানান, শেরপুরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে। আতঙ্কের কারণে দূরপাল্লার বাস চলাচাল বন্ধ থাকা ছাড়া আর সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। দোকান-পাট খুলেছে। নড়াইল প্রতিনিধি জানান, নড়াইলে ঢিলেঢালাভাবে বিএনপি’র হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে অফিস, আদালত খোলা ছিল। জেলা শহর থেকে দূরপাল্লার কোন গাড়ি ছেড়ে না গেলেও মোটরসাইকেল, অটো রিক্সা, নসিমন, ভ্যান, রিক্সা চলাচল করেছে। নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, বিএনপি আহূত গতকাল বৃহস্পতিবারের হরতালে প্রাইভেট কার ভাংচুর, টেম্পোতে অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়। তবে সকাল থেকেই দোকানপাট ও স্কুল-কলেজ ছিল খোলা। অফিস-আদালতেও কাজ চলে। তবে দূরপাল্লার বাস চলেনি। বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকাল-সন্ধ্যা হরতাল বরগুনায় ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে। জেলা শহরের দোকান-পাট আংশিক খোলা ছিল। রিকসাসহ হালকা যানবাহন চলাচল করেছে। তবে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটে বাস-ট্রাক চলাচল করেনি। বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১৫ জন বিএনপি ও শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যশোর অফিস জানায়, যশোরের বসুন্দিয়ায় হরতাল সমর্থক বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ঝটিকা মিছিল নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেছে। এ সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে হরতাল সমর্থকরা ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচারের মাইক ভাংচুর, বেশ কয়েকটি নসিমন, মোটরসাইকেল ভাংচুর এবং প্রায় ১০টি দোকানে হামলা চালায়। পিটিয়ে জখম করে বসুন্দিয়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার ও যুবলীগ কর্মী জাহাঙ্গীরকে।