বিমানবন্দরে জনতার ঢল

আব্দুল জলিলের লাশ ঢাকায় পৌঁছেছে

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৩, ২২:৩৬
প্রবীণ রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমানে উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের লাশ ঢাকা আনা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় আব্দুল জলিলের বহনকারী বিমানটি সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ তাঁর মরদেহ গ্রহণ করেন। এ সময় তাকে দেখতে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। সেখান থেকে তার মরদেহ ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রথম জানাজা এবং সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর হেলিকপ্টারযোগে আব্দুল জলিলের লাশ নওগাঁয় নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে বাদ জুম্মা তৃতীয় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন কার্য সম্পন্ন করা হবে। গত বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ছয়টা ২০ মিনিটে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে আব্দুল জলিল ইন্তেকাল করেন। গত সোমবার বিকালে তাঁর হূদযন্ত্রে বাইপাস অস্ত্রোপচার হয়। পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার সফল হয় এবং তিনি কথাও বলেন। কিন্তু কিডনিতে (বৃক্ক) ডায়ালাইসিসজনিত জটিলতায় গতকাল ভোর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। একপর্যায়ে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। ২০০০ সালেও তাঁর হূদযন্ত্রে একবার বাইপাস অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। আব্দুল জলিলের বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তাঁর দুই মেয়ে চিকিত্সক। বড় ছেলে লন্ডনে বার-অ্যাট-ল করছেন। ছোট ছেলে স্কুলে পড়াশোনা করছে। আব্দুল জলিল ১৯৩৯ সালের ২১ জানুয়ারি নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ফয়েজউদ্দিন আহমেদ এবং মায়ের নাম জারিনা ফায়েজ। আব্দুল জলিল ২০০২ থেকে ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯৩ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলী ও সংসদীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আব্দুল জলিল ১৯৭৩, ১৯৮৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আব্দুল জলিলের মৃত্যুতে নওগাঁয় ৭ দিনের শোক আজ দাফন নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য প্রয়াত সংসদ সদস্য মো. আব্দুল জলিলের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে নওগাঁ শহরের চকপ্রাণ গ্রামে তার বাবা ও মায়ের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আজ সন্ধ্যায় দাফন করা হবে। তার আগে প্রয়াত এই নেতার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে শহরের এটিম মাঠে। নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আব্দুল জলিলের পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে তার দাফন অনুষ্ঠানের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, প্রয়াত নেতার পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ শুক্রবার বাদ মাগরিব তাকে তার নিজ গ্রামে দাফন করা হবে। এর আগে আজ বেলা আড়াইটার দিকে তার মরদেহ হেলিকপ্টারে নওগাঁয় আনা হবে। এরপর প্রথম তার মরদেহ নেয়া হবে শহরের খাস নওগাঁ মহল্লার ‘ফয়েজ ভিলায়’ জলিলের নিজ বাসভবনে। এখানে কিছুক্ষণ রাখার পর তার মরদেহ নেয়া হবে নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের শ্রদ্ধা জানানোর পর বিকাল তিনটার মরদেহ নেয়া হবে শহরের এটিম মাঠে। এখানে তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাবেন সর্বস্তরের মানুষ। পরে আছরের নামাজ শেষে একই মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সেখানে সরকারি পর্যায়ে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেয়া হবে। এটিম মাঠে জানাজা শেষে আব্দুল জলিলের মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে শহরের চকপ্রাণ মহল্লায়। সেখানে আরও একবার জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে বাবা ও মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে। এদিকে বর্ষীয়ান এই নেতার মৃত্যুতে নওগাঁবাসী শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে। বুধবার রাত থেকেই জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে আব্দুল জলিলের বাসভবন ফয়েজ ভিলাসহ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভিড় করতে দেখা গেছে। আব্দুল জলিলের মৃত্যুতে জেলা আওয়ামী লীগ নওগাঁয় ৭ দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে গতকাল বৃহসপতিবার সকালে দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করার মধ্যদিয়ে সাত দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা করেন নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী বকু। পরে তারা কালোব্যাজ ধারণ করে প্রয়াত নেতার প্রতি শোক প্রদর্শন করেন। এ উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং শোক বই খোলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করছেন এবং ব্যক্তিগত মতামত লিপিবদ্ধ করছেন।