বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল দেশটিকে ব্যাপক সহিংসতার দিকে নিয়ে গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত নারী, শিশু ও পুলিশসহ প্রায় একশ জনের মতো নিহত হয়েছে। শত শত লোক আহত এবং অনেক সম্পদ ধ্বংস হয়েছে। হতাহতরা সশস্ত্র বিক্ষোভে অংশ নেননি। সরকারি ও সরকারের বাইরের কিছু গোষ্ঠী এ সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী। এতে দৃশতঃ সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। গতকাল বৃহস্পতিবার হংকং ভিত্তিক এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের এক বিবৃতিতে এসব মন্তব্য করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকার বাইরে এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। মৌলবাদীরা সংখ্যালঘু এবং তাদের সম্পত্তির ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। নির্বিচারে লুটপাট করা হয়েছে। মন্দির আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে অথবা তছনছ করা হয়েছে। এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে দায়ী করছে এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অপব্যবহার করছে। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও এর রায়ের পর এসব সহিংস ঘটনা ঘটে।
ট্রাইব্যুনাল ফৌজদারি অপরাধ বিচারের মৌলিক বিষয়কে উপেক্ষা করেছে। মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের টার্গেট করা হয়েছে। এই দলটি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাসীন সরকারের এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের জোরালো অভিযোগ থাকলেও কোনো তদন্ত হয়নি। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত এবং বিচার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
