আমরা বিএনপির সঙ্গে আলোচনার জন্য সব সময় প্রস্তুত

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৩, ২২:৩৭
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আলোচনার বিকল্প নেই। নির্বাচনসহ যে কোনো বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসতে আওয়ামী লীগ সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সৈয়দ আশরাফ। তিনি বলেন, আজ হোক কাল হোক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধান করতে হবে। আলোচনা ছাড়া কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কিন্তু মাঝখানে জনগণ সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এটা দুঃখজনক। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আশা করেছিলাম এই ঐতিহাসিক দিনে বিএনপি হরতাল দেবে না। তারা হরতাল দিয়েছেন, এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার—সেটা আমরা স্বীকার করি।’ আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘ইতিহাস তৈরি হয়, আর এভাবেই ইতিহাসের অপব্যবহারও হয়।’ জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে বিএনপির একাত্মতাকে অশুভ লক্ষণ হিসেবে আখ্যায়িত করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, দেশের রাজনীতি কোন্ পথে চলবে তা জামায়াতের মতো অগণতান্ত্রিক দলের ওপর ছেড়ে দেয়া যায় না। জামায়াত রাজনৈতিক দল নয়, সন্ত্রাসী দল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে থেকে সহিংসতার পথ ছেড়ে বিএনপি যত তাড়াতাড়ি আলোচনায় বসবে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও জনভোগান্তি তত কম হবে। এ সময় দেশব্যাপী জামায়াতের তাণ্ডবে সরকার আতঙ্কিত নয় বলে মন্তব্য করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, আগামীতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। তবে একে ‘তলে তলে আলোচনা’ বলায় বিএনপি নেত্রীর সমালোচনা করেন আশরাফ। তিনি বলেন, “ফরমাল নেগোসিয়েশন (সমঝোতা) হয় পরে। তার আগে ইনফরমাল আলোচনা হতে পারে। যেটাকে খালেদা জিয়া ‘তলে তলে ষড়যন্ত্র’ বলেন। খালেদা জিয়ার এ ধরনের কথা জাতির জন্য অশোভনীয়।” তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়, নির্বাচনের মাধ্যমে, অন্য কোন পন্থায় নয়। জামায়াতের উপর বিএনপির এত বেশি নির্ভরশীলতা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। উল্লেখ্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গত তিন বছর ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিএনপি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জামায়াত নিষিদ্ধ করার দাবিতে সারা দেশে গণজাগরণের মধ্যে জামায়াতের সহিংসতার পর ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহল থেকে আলোচনার তাগিদ এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও গত বছর দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রতি সংলাপের আহ্বান জানানো হয়। বিভিন্ন মহলের আহ্বানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ-দু’পক্ষই বলেছে, আলোচনায় তারা রাজি। তবে শর্তে না মেলায় সংলাপের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকার শঙ্কিত কি না জানতে চাইলে আশরাফ বলেন, ‘আমরা আতঙ্কিত নই। আমরা উদ্বিগ্ন। তবে দেশের যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আমরা কনফিডেন্ট।’