আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে গত চার বছরে তিনজন সচিব স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরের ঘটনা থাকলেও স্বেচ্ছা অবসর নেয়ার ঘটনা এই প্রথম ঘটছে। সর্বশেষ গত বুধবার সিনিয়র সচিব হুমায়ুন কবীর চাকরি থেকে আগামী ৫ এপ্রিল অবসরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। ১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইনের ৯(১) ধারা অনুযায়ী চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হলে যে কোন গণকর্মচারী স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসর নিতে পারেন বা সরকার কাউকে অবসর দিতে পারে।
গত ৫ মার্চ প্রশাসনের বিনয়ী দক্ষ বলে পরিচিত সিনিয়র সচিব হুমায়ুন কবীরকে বদলি করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়। ১৯৮১ ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে তাঁরই ব্যাচের কনিষ্ঠ ভূমি সচিব মোখলেছুর রহমানের অধীনস্থ করা হয়। ঠিক একইভাবে গত বছর ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওই প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হয়েছিল একই ব্যাচের দেলোয়ার হোসেনকে। প্রতিবাদে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। একই ব্যাচের মো. মহসীন চাকরি ছাড়েন ২০১০ সালে। তাকে বার বার হয়রানিমূলক বদলির প্রতিবাদে তিনি চাকরি ছাড়েন। এ ছাড়া বিতর্কিত বই লেখার অপরাধে এ সরকারের আমলে প্রথম চাকরি যায় সচিব আ ত ম ফজলুল করীমের। তিনি তখন তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন।
এভাবে হয়রানিমূলক বা অপমানের মুখোমুখি হয়ে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনের অধীনে কেউ চাকরি ছাড়াতে পারেন বা সরকার ছাড়াতে পারে। রদবদলও সরকারের রুটিন কাজ। সরকার যাকে যেমন ক্ষেত্র নির্ধারণ করবেন তিনি সেখানে কাজ করবেন এটিই প্রথা। তবে বদলির ক্ষেত্রে যোগ্যতা, দক্ষতা সততা উপেক্ষা করে দলীয় আনুগত্য বা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেলে তা জনপ্রশাসনের অন্যদের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছুতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রশাসনে কর্মকর্তাদের কাজের আগ্রহ হারালে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একাধিক সচিব নাম প্রকাশ না করে ইত্তেফাককে বলেছেন, হুমায়ুন কবীরকে বদলি করার ক্ষেত্রে তার যোগ্যতা বা সততা এবং দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়নি। এটি কেউই ভালভাবে নিচ্ছেন না।
