বিজিএমইএ নির্বাচন রবিবার

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৩, ২২:৪৫
তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র নির্বাচন আগামী রবিবার। নির্বাচনে ২৭টি পরিচালক পদে দুই প্যানেল থেকে মোট ৫৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হচ্ছেন ভোটারদের কাছে। গতকালও রাজধানীর একাধিক পাঁচতারকা হোটেলে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেল ‘প্রার্থী পরিচিতি’র মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েছে। এবার নির্বাচনে ‘সম্মিলিত প্যানেল’ ও ‘ফোরাম’ নামে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সম্মিলিত প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইসলাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুল ইসলাম ও ফোরামের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান খান বাবু। তারা দুই জনেই এর আগে বিজিএমইএ-তে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এসোসিয়েশনের নিয়ম অনুযায়ী দুই বছরের জন্য নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব পালন করে থাকে। নির্বাচনে ঢাকা অঞ্চলের ২০ পরিচালক পদের বিপরীতে ৪০ জন এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৭ পদের বিপরীতে ১৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। মোট ভোটার সংখ্যা তিন হাজার ১৯৬ জন। এর মধ্যে ঢাকায় দুই হাজার ৫৯২ ও চট্টগ্রামে ৬০৪ জন। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে ২০ মার্চ। এর পরদিন নির্বাচিত পরিচালকরা সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করবেন। ২৫ মার্চ নতুন পর্ষদ ঘোষণা করা হবে। বিটিএমএ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে চায় সম্মিলিত পরিষদ বিজিএমইএ নির্বাচনের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্যানেল সম্মিলিত পরিষদ পোশাক মালিকদের জন্য বিজিএমইএ’র নেয়া চলমান অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য আবারো নেতৃত্বে আসতে চায়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সাথে মিলিত হয়ে তারা দাবি করেছেন, এই খাতের মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় সম্মিলিত পরিষদের অবদান সবচেয়ে বেশি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী ও সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, বর্তমান সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সাবেক সভাপতি টিপু মুন্সী, বর্তমান সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, ফারুক হাসান, এস এম মান্নান কচি প্রমুখ। আতিকুল ইসলাম তার প্যানেলের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে বলেন, নতুন বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে পোশাক কারখানার জন্য তারা ২৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার জন্য কাজ করবেন। ইউরো জোনে জিএসপি রক্ষা ও আমেরিকায় জিএসপি সুবিধা পেতে কাজ করবেন। এছাড়া কারখানায় অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রুগ্ন কারখানা মালিকদের জন্য ৬ শতাংশ সুদে ঋণের ব্যবস্থা, দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে প্রতিটি জেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু, জাতীয় পরিচয়পত্রের আদলে শ্রমিকদের হাতের ছাপ সম্বলিত পরিচয়পত্র চালু, শ্রমিকদের তথ্য নিয়ে একটি ডাটাবেজ তৈরি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের আদলে বাউশিয়ার পোশাক শিল্প নগরী গড়ে তোলা এবং মুনাফায় শ্রমিকদের ৫ শতাংশ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে শ্রম আইন যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে এই পরিষদ কাজ করবে বলে আতিকুল ইসলাম জানান। ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে চায় ফোরাম গত তিন দশকে পোশাক খাতে গড়ে তোলা ইমেজ গত চার বছরে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করেন ফোরামের দলনেতা মাহমুদ হাসান খান বাবু। গতকাল ইত্তেফাককে তিনি বলেন, ফোরামের নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে হারানো ইমেজ পুনরুদ্ধারে ফোরাম কাজ করবে। এছাড়া রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে অন্তত তিনটি করে বিশেষ অর্থনৈতিক জোনের আদলে শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলে সেখানে শহরের মধ্যে থাকা কারখানাগুলোকে স্থানান্তর করা হবে। প্রত্যেক শ্রমিকের ডাটাবেজ তৈরি করে তা বিজিএমইএ’র ওয়েবসাইটে দেয়া, ব্যাংকে আমানত ও ঋণের মধ্যে তিন থেকে চার শতংশের বেশি পার্থক্য না রাখতে ও শ্রম সংশোধন আইনের বিভিন্ন ধারার অসামঞ্জস্যতা দূর করতে তারা কাজ করবেন। এছাড়া কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত ‘কোড অব কন্ডাক্টে’র উদ্যোগ, মজুরি কাঠামোর ক্ষেত্রে বর্তমানে সাত গ্রেডের পরিবর্তে পাঁচ-এ নামিয়ে আনা, কারখানাকে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের (জিপিএস) আওতায় আনা, স্টকলটের কারণে ফোর্স লোনকে মেয়াদি লোনে রূপান্তর এবং মূলধনী যন্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে ‘লো কস্ট ফান্ড’ গঠন করতে কাজ করবে এই ফোরাম।